বৃহস্পতিবার, জুন ২১

অাত্মবিশ্লেষণ ও আত্মশুদ্ধির মাস রমযান

মাসুম সরকার অালভী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।

সংযম,আত্মবিশ্লেষণ ও আত্মশুদ্ধির মহান বারতা নিয়ে মাহে রমযান এলো মুমীন মুসলমানের দারে দারে। সারা বছরের পাপ মোচনের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করে ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ভুলত্রুটির ও অন্যায়ের জন্য অাল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

আত্ম সংযমের মাস হলেও বর্তমানে আমাদের মাঝে রমযান আসে ভিন্ন অাঙ্গিকে। রমযান শুরু হলেই এদেশের বাজারে ভয়ংকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রমযানের প্রথমেই একটি শ্লোগান ওঠে সবর্ত্র মজুদদার -মুনাফাখোর-তোলাবাজদের গ্রেফতার কর,দ্রব্যমূল্যের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখো। কিন্তু আমাদের সমাজের মানুষ ঠিক বিপরীত দিকে ঘোরপাক খাচ্ছে।প্রতিবছর মহড়ার পূনরাবৃত্তি ঘটলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কাছে পরাজিত হয় সব চেষ্টা।

পবিত্র রমযান সামনে রেখে মূল্যবৃদ্ধির খেলা কেবলমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভব।মহান অাল্লাহর দরবারে তার এবাদত বন্দেগী দ্বারা তার পাপ মোচন করতে পারলে ও বাজারের অদৃশ্য শক্তির বলে যে অাগুন তৈরি হয় তা থেকে মুক্তি পায় না। প্রতিনিয়ত পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অদৃশ্য শক্তি কাজ করে এর থেকে জনগণের পরিত্রান নাই। অপর দিকে কিছু লোক এই মাসে বেহিসাবীর মতো খরচ ও অপচয় করে ইফতারীতে। তারা ভুলে যান তার প্রতিবেশীর কথা। সারাদিন অভুক্ত থেকে অাশেপাশের মানুষগুলো কিভাবে ইফতার করছে তার দিকে দৃষ্টিপাত করে না। আসলে এই মাসে নিজের খরচ সংযম করে পাশের মানুষের খোঁজ নেওয়া উচিৎ। আর প্রকৃত সংযম প্রদর্শন করে প্রকৃত অাত্মশুদ্ধি লাভের চেষ্টা করা।বিশ্বের অন্য মুসলমান দেশে শুনেছি পবিত্র রমযান আসলে জিনিসপত্রের মূল্য কমে, সকল জনগণের মাঝেই সংযম বাড়ে। তবে আমরা কোন পথে চলছি?

নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে যাকাত আদায়ের তাগিদ দিয়ে আল্লাহ তা,য়ালা বলেন হে ঈমানদারগণ! আমি যে রিজিক তোমাদের প্রদান করেছি তা থেকে ব্যায় কর,সেদিন আসার আগে, যেদিন ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হয়ে যাবে এবং বন্ধুত্ব ও সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না(সুরা বাকারা আয়াত:-২৫৪)।

যাকাত আদায়ের গুরুত্বের প্রতি জোর তাগিদ দিয়ে হযরত আবু বকর (রা)তার খিলাফত আমলে যাকাত আদায়ে যারা অস্বীকার করেছিল তাদের বিরুদ্ধে জেহাদ করেছিলেন।
দুনিয়াতে যদি কোনো মানুষের কাছে অর্থ সম্পদ না থাকে তবে সে ব্যক্তি তার নিজের ও পরিবারে খরচ বহনে কতটা অসহায়, তা ভূক্তভোগী মাত্রই অনুধাবন করতে পারে।

ধনীদের সম্পদের উপর গরিবের অধিকারও বটে। দান গোপনে করার কথা বলা হয়েছে, তবে বর্তমানে ঢাকঢোল পিটিয়ে দান করা হয়। মাইক দিয়ে বলা হয় জৈনক ব্যক্তি আজকে পাঁচশত কাপড় দান করবেন। পাঁচশত কাপড়ের জন্য এক হাজার লোক উপস্থিতে বিশাল লাইন।জৈনক ব্যক্তি এসে লম্বা বক্তব্য প্রদান করবেন। ঐ দিকে রোযাদার হাজার মানুষ রোদ্রে পুড়ছে। এমন ও খরব আমাদের দেশে আছে যাকাতের কাপড় নেয়ার সময় লাইনে মারামারি করে তিনজন মারা গেছেন। এই যদি হয় দানের পরিস্থিতি। সংযমের মাসে সংযম শিখা আর হলো আর কত খানি।

প্রত্যেক কল্যাণকামী মানুষ মাত্রই একান্ত কর্তব্য, এই রমযান মাস পেয়ে নিজের গুণাহ মাফ করানো। অাল্লাহকে সন্তুষ্ট করে যাকাত দান করে পরকালীন চিরন্থায়ী জীবনের মহা সফলতা লাভের সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করা।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *