রবিবার, মে ২৭

আজ কতটা স্বাধীন গণমাধ্যম?- সাব্বির আহমেদ সোহাগ

আজ বৃহস্পতিবার, “বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস।
১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৩ মে তারিখকে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ অথবা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্বীকৃতি দেয়া হয়। সেই থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

‘কিপিং পাওয়ার ইন চেক : মিডিয়া, জাস্টিজ অ্যান্ড রোল অব ল’এই স্লোগানকে সামনে রেখে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবার এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা বর্ণনায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন জানিয়েছে, ২০১৭ সালে এ সংক্রান্ত স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ৩৩৫টি।

২০১৩ সালের পর থেকে তা সর্বোচ্চ উল্লেখ করে জানানো হয়, এই ঘটনাগুলোর ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে শিকার হয়েছেন তৃণমূলের সাংবাদিকরা। এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি আরও জানায়, মতপ্রকাশে বাধা দিতে আইন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, কমছে শারীরিক আক্রমণের ঘটনা। অধিকার লঙ্ঘন ও হয়রানির প্রকৃতির এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করা হয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও তাদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় দিবসটি পালন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবে।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। দেশের তরুণ ও যুব সাংবাদিকদের সংগঠন ইয়ুথ জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশ (ওয়াইজেএফবি) বিগত বছরগুলোর মতো ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ পালন করবে।

এখন প্রশ্ন হলো সাংবাদিকতা নামক এই মহান পেশার কর্মীরা আজ কতোটা স্বাধীন? কতোটা পারছে তারা সত্যকে জাতির সামনে তুলে ধরতে?
দুঃখজনক হলেও সত্য স্বাধীন ভাবে মতপ্রকাশ করার সৈনিক সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যার বিচার আজও এদেশে হয়নি। প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে ও টিভিতে সাংবাদিক নির্যাতনের খবর আসছে।সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে প্রভাবশালী নেতাদের নির্যাতনের রোষানলে পড়ছে তৃণমূল গণমাধ্যম কর্মীরা। কেউ কেউ গুম ও হত্যার স্বীকার হচ্ছে।

পূর্বে সংবাদ কর্মীরা ছিল ৫৭ধারার আওতায়।বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের সমালোচিত ও বিতর্কিত ৫৭ধারাটি বিলুপ্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা।

এ আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনও ধরনের তথ্য উপাত্ত, যেকোনও ধরনের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে।
এ আইন বাস্তবায়ন হলে তৃণমূল পর্যায়ের সংবাদ কর্মীদের উপর কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তা এখনো অজানা।
সব মিলিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম কতোটা মুক্ত বা স্বাধীন তা প্রশ্নবৃদ্ধ?

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *