মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬

আজ বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস!

অনলাইন ডেস্ক-

পৃথিবীর ইতিহাসে যুগে যুগে অনেক জ্ঞানীগুণী সমাজসেবক ও মহৎপ্রাণ মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন। মহাত্মা জ্বীন হেনরী ডুনান্ট সেই সব শ্রেষ্ঠ মানব সন্তানের একজন। রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট এর প্রতিষ্ঠাতা জ্বীন হেনরী ডুনান্টের জন্ম হয়েছিল ১৮২৮ সালের ৮ই মে। ১৯১০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর হতে সারা বিশ্বে ৮মে তাঁর জন্মদিনকে সম্মান দেখিয়ে ‘বিশ্ব রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক, মানব হিতৈষী ও শ্রেষ্ঠ মানব। সেই জন্যই তিনি পেয়েছিলেন শান্তিতে প্রথম নোবেল পুরস্কার। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ কোটি কোটি মানব সন্তান বিপন্ন মানবতার সেবায় নিয়োজিত। তিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষকে এক পতাকাতলে একই কর্মসূচীতে একত্রিত করেছিলেন। সাম্য মৈত্রির বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন মানব সন্তানদের। সেই সংগঠনের নাম রেড ক্রিসেন্টে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তান রেডক্রস সোসাইটির পূর্ব পাকিস্তান শাখা বাংলাদেশের জাতীয় রেডক্রস সোসাইটি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮৮ সালে ৪ঠা এপ্রিল হতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির নাম পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি হয়। বাংলাদেশের প্রতিটি প্রশাসনিক জেলায় ৬৪টি ও ৪টি সিটি করপোরেশনে ৪টি সর্বমোট ৬৮টি ইউনিট রয়েছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সারাদেশব্যাপী নানাবিধ জনসেবা ও কল্যাণ মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মানবতার কল্যণে বাংলাদেশে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি স্বাভাবিক সময়ে ও প্রতিটি দুর্যোগে ৬৮টি ইউনিট এর স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিপন্ন মানবতার কল্যাণে গণ মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত।

যুদ্ধ ক্ষেত্রে আহতদের সেবা ও নিহতদের সৎকার করার উদ্দেশ্যে রেডক্রসের জন্ম হলেও এর সেবা ও কর্ম-পরিধি বর্তমানে ব্যাপক এবং বিস্তৃত। সেবার মনোভাব নিয়ে প্রতিষ্ঠিত রেড ক্রিসেন্ট বন্যা, নদী ভাঙ্গন, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস, অগ্নিকান্ড, প্রচন্ড শীত প্রভৃতি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য সামগ্রী, ঔষধপত্র, বস্ত্র, অস্থায়ী আশ্রয় সামগ্রী প্রদান এবং উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এমনকি বিধ্বস্ত এলাকার গৃহহীনদের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৯৯৮ সালে সংঘটিত শতাব্দীর প্রলয়ংকারী বন্যায় সোসাইটি ত্রাণ কার্যক্রম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *