রবিবার, জুলাই ২২

আতঙ্কের নাম বজ্রপাত !

সিএন নিউজ ডেস্ক– বছরের মধ্যে বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে বেড়ে যায় বজ্রপাতের সংখ্যা। বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।
গতকাল রোববার একদিনেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে মারা গেছেন ১৫ জন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বের বজ্রপাতে মুত্যুর এক-চতুর্থাংশ ঘটে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, টর্নেডো, অগ্নিকাণ্ড, খরা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সম্প্রতিককালে নতুন করে যোগ হয়েছে বজ্রপাত। বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে আপাতত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উপর জোর দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে কিছু নির্দেশনাও দিচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মোহসীন বলেন, ‘বজ্রপাতের সময় বিদ্যুত পরিবাহি যেমন ট্রাক্টর, লোহার লাঙল, বাইসাইকেল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখা। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, মাঠ বা উঁচু স্থানে থাকা নিরাপদ নয়। গাছের তলায় থাকা বিপজ্জনক। সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। টিনের চালা এড়িয়ে চলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি ও প্রদর্শন, ভ্রাম্যমাণ সিনেমা প্রদর্শন ও সচেতনতামূলক গান তৈরি করে জণসাধারণকে সচেতন করা। টেলিভিশনের স্ক্রলে এবং পত্রিকায় পূর্বাভাসসহ প্রয়োজনীয় বার্তা প্রচার করা। মোবাইল ফোনে এসএমএস, পোস্টার লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, বাস, লঞ্চ, রেলস্টেশনে প্রচার চালানো।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অশোক কুমার সেনগুপ্ত জানান, বজ্রপাত প্রাকৃতিক ঘটনা। বাংলাদেশে মে-জুলাইয়ে শুষ্ক আবহাওয়ায় বজ্রপাত হয় বেশি। ভরা বর্ষায় বজ্রপাত কম হয়। সাধারণ কিছু সতর্কতা মেনে চললে এই দুর্যোগে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। আমাদের দেশের মতো অনুন্নত দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুহার বেশি। কেননা, বাইরে খোলামেলা জায়গায় থাকা কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বেশি। বজ্র নিচের দিকে নেমে আসার অল্পক্ষণ আগে (কেউ বাইরে থাকলে) শরীরের লোম, চুল হঠাৎখাড়া হয়ে উঠতে পারে, যা বজ্রপাতের পূর্ব-লক্ষণ। তখনই দৌড়াদৌড়ি না করে দুই হাঁটুর মাঝখানে মাথা গুঁজে (মাতৃজঠরে থাকা সন্তানের মতো) থাকলে বিপদ এড়ানো যেতে পারে। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। ধারে কাছে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও বিপদের আশঙ্কা আছে।’

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, ‘অধিকমাত্রায় বজ্রপাত প্রাকৃতিক দুর্যোগে নতুন মাত্রা। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বজ্রপাতের মতো পরিবেশ যেমন আকাশ মেঘাছন্ন হয়ে আসা, বৃষ্টি হতে পারে এমন আবহাওয়া সৃস্টি হতে দেখলে নিরাপদ অবস্থান গ্রহণ করা শ্রেয়। দ্রুত ফাঁকা জায়গা ত্যাগ করা, উঁচু ভবনের ফাঁকা ছাদে না থাকা অপেক্ষাকৃত নিচু ঘরে অবস্থান করা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হতে পারে।’

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য বজ্রপাত প্রাকৃতিক চার্জ হিসেবে কাজ করে। বজ্রপাতকে কখনোই প্রতিরোধ করা যাবে না। তবে উপস্থিত বুদ্ধি ও কৌশল জেনে কাজে লাগালে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *