বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৯

আনোয়ারা উপজেলায় কমিটি ছাড়াই চলছে ছাত্রলীগের কার্যক্রম

বিশেষ প্রতিনিধি-

আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি নেই প্রায় সাত বছর।
আহবায়ক কমিটি দিয়েই এক যুগ ধরে চলছে এই উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম। ২০১২ সালে কোনো কমিটি না করে সর্বশেষ ওই কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ছাত্রলীগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়,১৯৯৭ সালে সর্বশেষ আনোয়ারা থানা ছাত্রলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। তখন ওই কমিটিতে বোরহান উদ্দিন চৌধুরী মুরাদ সভাপতি ও এম এ কাইয়ুম শাহ্ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৮ সালে মো.নাজিম উদ্দিনকে আহবায়ক,জানে আলম ও নুরুল আলমকে যুগ্ম আহবায়ক করে থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি দীর্ঘ সাত বছরেও কাউন্সিল করতে পারেনি। পরে ২০০৪ সালে আলী আকবরকে আহবায়ক এবং মো.শাহজাহান,আলী আব্বাস ও ওসমান গণি রাসেলকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়।

সেবারও কোনো কাউন্সিল বা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি। সর্বশেষ ২০০৯ সালে ওসমান গণি রাসেলকে আহবায়ক এবং মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, মো.ওসমান গণি,অনুপম চক্রবর্তী বাবু,আবদুল মালেক জনি,আইয়ুব খান, সোহরাবুল আলম মিরাজ,জিয়াউদ্দিন বাবলু, মোহাম্মদ ইসহাক ও মিজানুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে ওই কমিটির যুগ্ম আহবায়ক প্রয়াত আবদুল মালেক জনি ২০১১ সালে জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে ওই কমিটির আহবায়ক ওসমান গণি রাসেল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আনোয়ারা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দিয়েই চলে সাংগঠনিক কার্যক্রম। কিন্তু গত ৬ জানুয়ারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিও বিলুপ্ত করে জেলা ছাত্রলীগ। এরপর থেকে কমিটি ছাড়াই চলছে উপজেলা ছাত্রলীগ।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন,দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ছাত্রনেতারা। মাঠপর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। আওয়ামীলীগের সবচেয়ে শক্তিশালী এ সহযোগী সংগঠনটি হয়ে পড়েছে নেতৃত্বশূণ্য। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ছাত্র রাজনীতি। এ সুযোগে অছাত্ররা ও ছাত্রলীগ নামধারী কিছু সুবিধাবাদীরা নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে প্রকৃত ও ত্যাগী ছাত্র নেতাদের। তাই শিগগিরই নতুন করে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি করার দাবি জানিয়েছেন তারা। আর এ অবস্থা এড়াতে শিগগির নতুন কমিটি দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ। নতুন নেতৃত্বের জন্য এ মাসের ১০ তারিখে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত,ছাত্রত্বের প্রমাণপত্রসহ জেলা ছাত্রলীগের কাছে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়।

দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.আবু তাহের বলেন,বিভিন্ন কারণে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন আটকে ছিল। তবে নতুন কমিটি গঠনের কাজ অনেকটাই গুছিয়ে আনা হয়েছে। শিগগিরই নতুন নেতৃত্বের কাছে উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হব।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *