বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৯

আমাদের শতবছর পিছিয়ে পড়ার ইতিহাস।

মুহিব্বুল্লাহ আল হুসাইনী
কোন জাতিকে যদি সুপরিকল্পিতভাবে নির্মূল করতে চাও, তবে তাদের মাথাওয়ালা ব্যক্তিদের নির্মূল করলেই যথেষ্ট। আর হ্যাঁ, এমন নীতিই গ্রহণ করেছিল পাক হানাদাররা। যখন চারদিকে বাংলাদেশের বিজয় ধ্বনি বাজছে, স্বাধীনতার হাওয়া যখন সজোরে বইছে, পাক হানাদাররা পিছু হটছে; সে সময়েই তারা মরণকামড় দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে বাংলা মায়ের সন্তানদের হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠেছিল। বাছাইকৃত মাথাওয়ালা বাঙালিদের হত্যা করেছিল। আর তাদের সহযোগী ছিল আমাদের দেশীয় কিছু দোসর।

রাজাকার, আল বদরেরা পাক হানাদারদের পা চাটা গোলাম ছিল। তাদের সহযোগীতায় প্রাণ হারিয়েছিল আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবিগণ। যা আমাদের শত বছর পিছিয়ে দিয়েছে। তবে স্বাধীনতার এতো বছর পরেও সেই দোসররা আজো থেমে নেই!

আজো জাতির সূর্যসন্তানদের দেশবিরোধী খোলস লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। বয়োবৃদ্ধ বুদ্ধিজীবিদের জীবন সায়াহ্নে জেলের কুঠিরেই বিদায়ী নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হচ্ছে। হয়তোবা ৭১ এ হত্যা করা হয়েছিল ভীনদেশী হানাদারদের দিয়ে, আর বর্তমানে হত্যা করা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে।

কোন এক দার্শনিক বলেছিলেন- যে জাতি তার গুণীদের মূল্যায়ন করতে জানেনা, সে জাতির মাঝে গুণীজন জন্মও নেয়না। সময় থাকতে আমাদের অতীতের শিক্ষা হতে সচেতন হতে হবে। আর ১৪ -ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসের এই ক্ষণে এসে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।


মুহিব্বুল্লাহ আল হুসাইনী
১৪-১২-২০১৭
সদরঘাট, ঢাকা।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *