রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৩

আলকুশির ঔষধিগুণ

মোঃ আল আমিন
আলকুশি আমাদের বন-পাহাড়ে মোটামুটি সহজলভ্য। ইংরেজি নাম ভেলভেট বিন। একসময় লোকালয়ের ঝোপজঙ্গলেও অঢেল ছিল, এখন নেই বললেই চলে। তবে প্রাচীনকাল থেকেই এটি ঔষধি গাছ হিসেবে পরিচিত। রাজনিঘণ্টুতে এ গাছের উল্লেখ আছে। ভারতীয় বনৌষধি গ্রন্থেও এ গাছের অসংখ্য কার্যকর ব্যবহারের কথা উল্লেখ হয়েছে। গাছের স্বাদুরস বায়ু ও ক্ষয়নাশক, রক্তদোষ ও ব্রণনাশক। বীজ ভেঙে মাষকলাইয়ের সঙ্গে জুস বানিয়ে খেলে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া গাছের পরিপকস্ফ বীজ, শাক ও মূল বাতজ্বর এবং কৃমি প্রতিরোধে কার্যকর। বিছার কামড়ে বীজগুঁড়া ব্যবহারে সুফল পাওয়া যায়। গাছটি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার্য। ফল এক সময় কফির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 

আলকুশি (গঁপঁহধ ঢ়ৎঁৎরবহং) বর্ষজীবী লতা, কখনও কখনও বহু বর্ষজীবী হতে পারে। প্রতি বছরে ১৫ মিটারের মতো

লম্বা হয়। লতা ও পাতা শিমগাছের মতো। পত্রিকা প্রায় সাড়ে ১২ মিমি লম্বা। কমবয়সী গাছ রোমশ। মঞ্জরি আড়াই থেকে ৫ মিমি লম্বা। ফুল ঈষৎ বেগুনি, কোনো কোনো প্রজাতি সাদা কিংবা গোলাপি রঙের। শুঁটি ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা, একটু বাঁকা। ফল লম্বাটে, মাথার দিকে বাঁকানো, রোমশ ও ধূসর রঙের। গায়ে লাগলে ফুলে ওঠে ও চুলকায়। এই কুখ্যাতির জন্য গ্রামের মানুষ খুব একটা কাছে ভিড়ত না। ৬ থেকে ৭টি বীজ থাকে শুঁটিতে, ধূসর রঙ, কোনোটি কালো। শুঁটি দেখতে শাকআলুর শুঁটির মতো; কিন্তু গোলাকার। বীজ চ্যাপ্টা ও ঈষৎ পীতরঙের, মুখ কালো। প্রতিটি বীজ ৫৫ থেকে ৮৫ গ্রাম ওজন হয়। সারাবছরই পর্যায়ক্রমে ফুল ও ফল পাওয়া যায়।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *