বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬

আলোচিত সেই গোলরক্ষকের ফুটবলে আসার গল্প

অনলাইন ডেস্ক-

রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে ২-১ গোলে জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। ফলে রাশিয়া সফর শেষ হয় নেইমারের দলের আর বিশ্বকাপ শিরোপার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যায় আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেলজিয়াম।

উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে ব্রাজিল বধের নায়ক বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবাউ কুরতোয়া। তবে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষককের ফুটবলে আসার গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না।
১৯৯২ সালের ১১ মে থিবাউ নিকোলাস মার্ক কুরতোয়া বেলজিয়ামের ব্রি’তে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা থিওরি কুরতোয়া ও মা গিটা কুরতোয়া দু’জনই ছিলেন বেলজিয়াম জাতীয় ভলিবল দলের খেলোয়াড় হওয়ায় তারা চেয়েছিলেন ছোট থেকে ভলিবলের সঙ্গেই গড়ে উঠুক তাদের সন্তান।

কিন্তু ছেলে থিবাউ কুরতোয়া তা হতে চাননি। প্রথম দিকে জিমন্যাস্টিকস নিয়ে মেতে ছিলেন। তার বাবা-মা পাঁচ বছর বয়সে তাকে স্থানীয় একটি ভলিবল ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে ভলিবলে তার অনীহার কথা জানান।

এরপর থিবাউকে বেলজিয়ামের ব্রিগ শহরের ফুটবল ক্লাব ভি ভি বিলজেনে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বেলজিয়ামে ছয় বছরের নীচে বাচ্চাদের গ্রাসরুট কোচিংয়ে নিয়ম নেই।
এতে কুরতোয়া ক্লাবের সামনে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করতে থাকেন। এ দেখে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রেনিংয়ে নিয়ে নেয়।

প্রথম দিকে কুরতোয়াকে লেফট ব্যাক হিসেবে খালানো হলেও তার অ্যাক্রোবেটিক মুভমেন্ট ছোট বয়সেই সকলের নজরে পড়ে। তখনই তার ডাকনাম হয়ে যায় ‘অক্টোপাস’। ভি ভি বিলজেনের নার্সারি কোচ তাকে নিয়মিত গোলে খেলাতে থাকেন। দ্রুতই তিনি দেশের বড় ক্লাব জিঙ্ক ক্লাবের স্কাউটদের নজরে পড়ে যান। ২০১০-১১ মৌসুমে জিঙ্ক ক্লাব দেশের পেশাদার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এরপর ২০১১ সালে মাত্র আট মিলিয়ন ইউরোতে তাকে কিনে নেয় চেলসি। মাঝে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ধারে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদেও খেলেন কুরতোয়া।

বেলজিয়ামের জার্সিতে ২০০৯-১০ মৌসুমে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছেন কুরতোয়া। আর বেলজিয়াম জাতীয় দলের নিয়মিত গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন ২০১১ সাল থেকে।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *