বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬

“ইফতারের ফজিলত” মোঃ তাজুল ইসলাম

আরবি ফুতুর শব্দ থেকে এসেছে
ইফতার শব্দটি।
বাংলা অর্থ করলে হয় নাস্তা
ফুতুর শব্দটি।
ইফতার অর্থ খোলা, উন্মুক্ত করা,
ছেড়ে দেওয়া ইত্যাদি।
ইসলামী পরিভাষায় সূর্যাস্তের পরে
খেজুর পানি বা কোন খাদ্য দ্রব্য খেয়ে
রোজা ছেড়ে দেওয়াকে ইফতার বলে।

যায়েদ ইবনে খালেদ আল-জুহানি (রা,)
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা,) বলেছেন-
যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে,
সে রোজাদারের সমপরিমান সওয়াব পাবে।
রোজাদারের সওয়াব একটুও কমানো নাহি হবে।
(সুনানে তিরমিযি-৮০৭,সুনানে ইবনে মাজাহ-১৭৪৬)
রাসুল (সা,) বলেন —
অপারগতায়, একটিমাত্র খেজুর বা পানি
বা এক ঢোক দুধ দিয়ে ইফতার করাবে,
তাকেও এ সওয়াব দেওয়া হবে।
যে ব্যক্তি রোজাদারকে পরিতৃপ্তিতে খাওয়াবে,
তাকে হাউজে কাউছার থেকে–
এমন পানি পান করোনো হবে,
জান্নাতে না পৌছা পর্যন্ত
সে তৃষ্ণার্ত নাহি হবে।
(বায়হাকী ওয়াবুল ঈমান, মেশকাত-১৭৪ পৃষ্ঠা)

একটি হাদিসে আছে —
যে ব্যক্তি হালাল রুজি দ্বারা
কাউকে ইফতার করান,
ফেরেশতাগন রমজানের প্রতিটি রাত্রে
তার প্রতি রহমত পাঠান।
শবেকদরে স্বয়ং জিবরাইল (আ,)
তার সঙ্গে মোসাফাহা করেন।
(তাবরানী আল মু’জামুল কবীর ৬ষ্ঠ খন্ড, হাদিস-৬১৬২)

মহানবী (সা,) বলেছেন —
ইফতারের আগে ইফতারি সামনে নিয়ে
যে দোয়া করেন,
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অবশ্যই
সে দোয়া কবুল করেন। (আবুদাউদ শরীফ)

রাসুল (সা,) বলেছেন —
রোজাদারের জন্য রয়েছে দু’টি আনন্দের সময়
একটি হলো – ইফতারের সময়,
আর একটি হলো – মহান আল্লাহর
সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। (বুখারী ও মুসলিম)

আল্লাহর রাসুল (সা,) বলেন —-
লোকেরা ততক্ষণ কল্যাণে থাকবে,
যতক্ষণ তারা ইফতার জলদি করবে।
(বুখারী,মুসলিম,১ম খন্ড,৩২১পৃঃ, মেশকাত- ১৭৫ পৃষ্ঠা)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন —
আমার নিকট প্রিয় বান্দা সেই সবচেয়ে,
যে ইফতার করে সঠিক সময়ে।
(তিরমিযি ১ম খন্ড,৮৮পৃষ্ঠা, মেশকাত — ১৭৫ পৃষ্ঠা)

একটি হাদিসে আছে —
রোজাদারের দোয়া আল্লাহর নিকট
এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, আল্লাহপাক বলেন —
রমজানের সময় আরশ বহনকারী
ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে ঘোষনা করা হলো,
রমজানে তোমাদের পূর্বের দায়িত্ব
মওকুফ করা হলো,
নতুন দায়িত্বের আদেশ করা হলো,
আমার রোজাদার বান্দাগন যখন
কোনো দোয়া মোনাজাত করবে,
তখন তোমরা আমিন আমিন বলতে থাকো।

সারাদিন রোজা রেখে, ইফতারের সময় হলে,
ইফতারী সামনে নিয়ে, ইফতারী নাড়েচাড়ে,
সময় হয়নি বলে, মুখে নাহি তোলে,
অপার আনন্দে পুলকে পুলকে,
অপেক্ষাতেই থাকে।
এ অপূর্ব দৃশ্যে, আল্লাহপাক খুশি হয়ে,
ফেরেশতাদের বলেন ডেকে, দেখো তো আমার
বান্দারা কি এক ধর্মবভীরুতায় ডুবে আছে।

মোঃ তাজুল ইসলাম
সহকারী প্রধান শিক্ষক
ময়ূরা উচ্চ বিদ্যালয়
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।
মোবাইলঃ ০১৮৪৩২০৯৬৩০.

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *