শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২

ইবি শিক্ষকের হয়রানীতে মানসিক ভারসাম্য হারালো ছাত্রী

এম এইচ কবির, সিএন নিউজ নিজস্ব প্রতিনিধিঃ-

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকারের হয়রানীতে এক ছাত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই ছাত্রী একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত। হয়রানি ও হুমকি-ধামকির ফলে ওই ছাত্রী এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হারিয়ে মাতম করছে।এখন ওই ছাত্রী সঞ্জয়ের কাছ থেকে তাকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন প্রলাপ করেন।এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে শুক্রবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।এর আগে ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আছে।

ছাত্রীর সহপাঠীরা জানান, ২০১৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ম শেখ হাসিনা হলে যৌন নির্যাতন, হয়রানি, ইভটিজিং বন্ধে শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেল। ওই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় হলের ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে তাদের বিভিন্ন হয়রানিমূলক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সেখানে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী নাম পরিচয় গোপন রেখে বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিমূলক অভিযোগ পেশ করেন। পরে উপাচার্য বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সঞ্জয়কে এ বিষয়ে সতর্ক করে দেন।

ছাত্রীর সহপাঠীরা আরো জানান, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সঞ্জয় কুমার ওই ছাত্রীকে তার রুমে ডেকে বিভিন্ন হুমকি দেন। এছাড়া ২য় সেমিস্টারে সঞ্জয়ের পড়ানো ১২৩ নং ও ১২৫ নং কোর্সে ওই ছাত্রীকে অকৃতকার্য করানো হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে পুণরায় পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন তিনি।
গত ১ জুলাই তৃতীয় সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষাতে এক্সর্টানাল প্রশ্ন করলে ওই ছাত্রী সঠিক ভাবে উত্তর দিতে না পারায় সঞ্জয় তাকে অপমান করেন। পরে বিভিন্ন প্রশ্ন করে হেনেস্থা করেন। গত ৩ জুলাই পরীক্ষার বিষয়ে সঞ্জয়ের কাছে গেলে ওই ছাত্রীকে তিনি পুরনরায় হেনস্থা ও হুমকি দেন বলে জানিয়েছে তার সহপাঠীরা। এরপর থেকে ওই ছাত্রী মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সবার সাথে অসংলগ্ন আচরণ করছেন। আর সঞ্জয়ের নাম উল্লেখ করে, ‘সে আমাকে হত্যা করবে, আমার পরিবারকে হত্যা করবে’ বলে মাতম করছে।
এবিষয়ে ওই ছাত্রীর ভাই তারেক জানান, ‘আমার বোন কুমিল্লা বোর্ডের স্টার্ন্ডধারী ছাত্রী। সে বড় ধরনের কোন কারণ ছাড়া মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কথা না।’

ওই ছাত্রীর বড় বোন জানান, ‘সে ডিসেম্বরে বাড়িতে এসে তাকে জানায় বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় মেয়েদের দিকে কেমন কু-নজরে তাকায়। আমার বোনকে হয়রানিকারী ওই শিক্ষকের বিচার চাই। যে আর কোন ছাত্রী হেনেস্থার শিকার না হয়।’
এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, ‘কোর্স দুটিতে ওই ছাত্রীসহ কয়েকজন ফেল করেছে। আর মৌখিক পরীক্ষায় আমি একটু বেশি প্রশ্ন করেছিলাম।’ তবে হুমকির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসাকরী বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নারীদের অভয়ারণ্য। এখানে যেকোন যৌন নিপিড়ন, নির্যাতন, হেনেস্থার বিরুদ্ধে জিরো টল্যারেন্স জারি আছে। তবে এ রকম কোন বিষয়ে অভিযোগ আসলে তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হবে।’

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *