রবিবার, এপ্রিল ২২

“একদিনের কাঙ্গালি” শারমিন ইতি

একদিনের কাঙালি
“শারমিন ইতি”


আজ ১৪২৫ বাংলা সনের হিসেব মতে পহেলা বৈশাখ / নববর্ষ।

এ নিয়ে হইচইয়ের আর অন্ত নেই,
সেই কবে থেকে চলছে পরিকল্পনা আর কেনাকাটা ইত্যাদি। বছরের ৩৬৪দিন পান্তা খেয়েও বলতে অনেকে লজ্জা পায় কিন্তু আজ কেউ কেউ পান্তার সাথে নিজের বদনখানিও ফেবুতে তুলে ধরবেন অন্ত্যান্ত নিঁখুতভাবে। আজ কোন লজ্জা নেই, সমস্ত লজ্জাকে পায়ে ঠেলে জাতি সাজবে আজ কাঙালি।

আজ বড় বড় রেস্টুরেন্ট হবে কাঙালিদের মিলনমেলা, লালপেড়ে সাদাশাড়ি খোঁপায় ফুল, কানেদুল, হাতে বাহারি রকমের চুড়ির ঝলকানিতে নিজেকে করে তুলবে আজ কাঙালিপরী, ছেলেরাও নিজেকে বাঙালিবাবুর স্বরুপে আত্বপ্রকাশ করবে বাসনপেতে পান্তার সাথে।

আসলেই কি এই নির্দিষ্ট একদিন আমাদেরকে প্রকৃত বাঙালিপনায় ভরিয়ে দিতে পারবে  অত্যাধুনিকতা(অপসংস্কৃতি) থেকে?
বছরের অন্যদিন কেউ পেটের ক্ষুধায় পান্তা খেয়ে এলে জনসম্মুখে কি আদৌ বলতে পারে কথা প্রসঙ্গে? জাতি তাকে মেনে নিবে তবে? বরং বন্ধুমহলে তো রীতিমত উপহাস চলবে, আমাদের চারপাশের অনেক প্রতিবেশিরা বছরের প্রতিটাদিনই কিন্তু পান্তায় তাদের জীবন চালিয়ে নেন। আমাদের চোখে তারা সামান্য কাঙালি ছাড়া আর কিছুই নয়, কিন্তু আজ সেই কাঙালি ভোজনের মধ্য দিয়ে কিছু স্মার্ট আপু/ভাইজানেরা নিজেদের বাঙালীপনাকে বেহায়াপনায় রুপান্তরিত করে নিবে এটা জাতি/আমাদের মুসলিম সমাজের জন্য কতটুকু ঠিক?
কেউ বলবে এটা তো বর্ষবরণ!

আসুন তবে সেই কথায়, আরবীতেও তো মহরম মাস আসে, কই কাউকে তো এটা নিয়ে এতো পরিকল্পনা মাতামাতি কিছুই করতে দেখিনা বরং অনেকে বলতেই পারবেনা আরবী বর্ষবরন কোন মাসে হয়, আসলে আমরা নিজেরা অনুকরনে এতো বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে নিজের অস্তিত্ব হারাতে আর বেশিদিন লাগবেনা।

আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝদান করে সমস্ত অশ্লীলতা থেকে হেফাজত করুন।

আজ কিন্তু পবিত্র শবে ই মেরাজ।
যেদিন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা) স্রষ্টার সানিধ্য পেয়েছিলেন, সেটা নিয়ে আমাদের কার কি প্ল্যান একটু বলবেন কি?
আসলে যতদিন আমরা বাইরের সংস্কৃতিকে অনুকরন করে যাবো ততদিন নিজেদের অস্তিত্বের সন্ধ্যান করেও কিছু খুজে পাবোনা।
আসুন আমরা নিজেদের অস্তিত্বের বলি না দিয়ে নিজেদেরকে প্রকৃত বাঙালিরুপে গড়ে তুলি।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *