মঙ্গলবার, জুলাই ১৭

কো‌ন ডি‌মে পু‌ষ্টি বে‌শি, সাদা ডি‌মে না‌কি বাদা‌মি ডি‌মে ?

অনলাইন ডেস্কঃ-

ডিম আমাদের সবার প্রাত্যহিক একটি খাবার। যেকোন ধরনের শুকনো খাবার যেমন রুটি, পাস্তা, চিনি- ইত্যাদি এই ধরনের খাবারের বেলায় আমরা মনে করি, সাদা রঙের চেয়ে বাদামি রঙের খাবার বেশি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বাদামি ডিম  নাকি সাদা রঙের ডিম বেশি স্বাস্থ্যকর – তা নিয়ে আমাদের অনেকের অনেক রকম মত আছে। আমরা অনেকেই মনে করে থাকি  সাদা ডিম বেশি স্বাস্থ্যকর। আবার কেউ কেউ ভাবেন বাদামি ডিম বেশি স্বাস্থ্যকর।

আসলে সাদা রঙের পালক বা যেসব মুরগির কানের লতি সাদা রংয়ের সাধারণত সেসব মুরগি সাদা ডিম দেয় আর বাদামি রঙের পালক বা যেসব মুরগির কানের লতি বাদামি রংয়ের সেসব মুরগি বাদামি ডিম দেয়। বাজারে বাদামি ডিমের চেয়ে সাদা ডিম বেশি দেখা যায় কারণ সাদা পালকের মুরগির প্রজনন খরচ অনেক কম। আর সাদা মুরগি বাদামি রঙের মুরগির চেয়ে খায়ও কম। তাই সাদা মুরগির উৎপাদন বেশি তাই বাজারে সাদা ডিমও বেশি।

আবার অনেকেই ভাবেন এখানে স্বাস্থ্যগত কোনো ব্যাপারই নেই। আসল পার্থক্যটা হলো দাম । কেননা, সাদা ও বাদামি ডিমের মধ্যে বাজারে সাদা ডিমের দাম একটু বেশি। তবে এই দুই রংয়ের ডিমের মাঝে পুষ্টিগত তেমন কোনোই পার্থক্যই নেই।

বাদামি ও সাদা ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে অনেকেই  গবেষণা করেছেন। তবে মজার বিষয় হলো বেশি ভাগ ক্ষেত্রে সাদা ও বাদামি ডিমের পুষ্টিগত পার্থক্য পাওয়া যায়নি। ভারতীর ওজন-ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গার্গি শর্মা মনে বলেন, সাদা ডিমের চেয়ে বাদামি ডিম সামান্য বেশি স্বাস্থ্যকর। তাঁর মতে, যাঁরা সঠিক মাত্রায় প্রোটিন, কোলেস্টরেল ও ক্যালোরি গ্রহণ করতে চান তারা দিনে একটি বাদামি ডিম খেয়ে নিতে পারেন।

পুষ্টি বিজ্ঞানী নিহারিকা বলেন, ‘পুষ্টিগত দিক থেকে সাদা ও বাদামি ডিমের মধ্যে কোনোই পার্থক্য নেই। তবে বর্তমানে বাদামি ডিম অর্গানিক এবং সামান্য বেশি পুষ্টি বেশি হওয়ায় অনেকেই বাদামি ডিমকে অনেক স্বাস্থ্যবান হিসেবে মনে করেন বা পছন্দ করে থাকেন।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাদামি ও সাদা ডিমের মধ্যে পুষ্টিগত কোনো পার্থক্য নেই। তবে বাদামি রঙের ডিমে তুলনামূলক বেশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকলেও পার্থক্যটা অতি সামান্য বলে মনে করেন গবেষকবৃন্দ।

সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে সাদা ও বাদামি ডিমের কোনো স্বাস্থ্যগত বা পুষ্টিগত পার্থক্য নেই। এটি কেবলই একটি ভুল ধারনা। তাই এই ভুল ধারনা আমাদের এড়িয়ে যাওয়া উচিত

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *