রবিবার, মে ২৭

খালেদা জিয়া কি বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন?

অনলাইন ডেস্কঃ সিএন নিউজ২৪.কম…
অজয় দাশগুপ্ত : কোথাকার পানি কোথায় গড়াচ্ছে? খবরে দেখলাম বিএনপি মহাসচিব হাসি হাসি মুখে বলছেন, তারা আসন্ন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নেবেন। এটা গণতন্ত্রের জন্য সুসংবাদ বৈকি। কিন্তু খটকা থেকে যাচ্ছে। তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। এমন বাস্তবতা হজম করা বিএনপির কথা ছিল না। এই দল বেশ কয়েকবার সরকারে থাকা এক শক্তিশালী দল। তৃণমূলে জনপ্রিয় নামে পরিচিত দলটির জন্ম সামরিক ছাউনিতে। একদা তাদের চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউই ছিল না প্রায়। সে জায়গা থেকে তাদের আপসহীন নামে পরিচিত নেত্রী বেগম জিয়া আজ কারাগারে। তাকে মুক্ত করার আন্দোলন দূরে থাক সহানুভূতি জন্মানোর মতো কাজও দলটি করতে পারছে না। তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি যে এতটা দুর্বল সেটা আগে বোঝা যায়নি। যারা এখন নেতৃত্বে তারা গদিনসীন ভদ্রলোক হলেও এদের মাঠে নামার অভ্যাস কম। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে কি হচ্ছে আসলে?

মির্জা ফখরুল যে নির্বাচনে যাওয়ার কথা বললেন সেই দৃশ্যে একটা বিষয় বেশ দেখার মতো। একেবারে শেষদিকে এসে দায়সাড়া গোছের বা বলতে হবে বলে বললেন, এটা নাকি আন্দোলনের কৌশল। বিষয়টা কৌতুকের মতো শুনিয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হলেও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী এসে দেখা করে গিয়েছেন। তাছাড়া সরকার বা প্রশাসনের যে দৃষ্টিভঙ্গি তাতে এটা বোঝা যায় খালেদা জিয়া এমন কোনোভাবে মুক্ত হতে পারবেন না যাতে তাকে ঘিরে জনমত গড়ে ওঠে কিংবা তিনি তা নিয়ে রাজনীতি করে সহানুভূতি কুড়োতে পারবেন। ফলে আরও অনেক বিষয় এখন বাজারে আছে। যার কিছু সত্য মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।

আসলে কি হচ্ছে পর্দার অন্তরালে? জোর গুজব বিএনপির কিছু নেতা বেরিয়ে নতুন দল বা একই নামে নির্বাচনে যাবেন। কথাটা ফখরুল সাহেব প্রকারান্তরে সমর্থন করেছেন। খবরে দেখলাম তিনি বলেছেন, কিছু নেতা বেরিয়ে গেলেও কর্মীরা যাবে না। এই আগাম কথায় কিসের ইঙ্গিত? কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁয়ে যেসব কথা বলেছেন তাতে আক্রান্ত ফখরুল রাগ করেননি। বরং বলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে মিষ্টি পাঠিয়ে দেবেন। কারণ এতে নাকি তার ভোট বেড়েছে। যার মানে তলে তলে নির্বাচনে যাওয়ার খায়েস আছে তার। মওদুদ কিংবা বাকি নেতারা নিয়ম মোতাবেক মাইকের ও পর্দার সামনে সে দাঁড়ান। তারপর বাড়ি ফিরে যান। কারো চোখে মুখে উদ্বেগ বা ভয় নেই। নেই নেত্রীর জন্য দুশ্চিন্তার ছায়া। কাজেই ধরে নেওয়া যেতে পারে খেলা চলছে। একদা খালেদা জিয়ার সচিব মোহন মিয়া যেটা বলেছেন যে সরকার যা চাইছে মির্জা ফখরুল সে প্ল্যান মোতাবেক বল ঠেলে দিয়েছেন ডি বক্সে, তাই কি তবে সত্যি?

ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত পুত্র হারানো খালেদা জিয়া কি আরও কিছু সরকার প্রধানের মতো বিদেশ চলে যাচ্ছেন? এমন বাস্তবতা অস্বাভাবিক কিছু না। বিএনপি আন্দোলন জমাতে পারবে না। তাদের আদর্শ বা সংগঠন কোনোটাই এখন আর কাজ করছে না। শুধু সাইলেন্ট মেজরিটির ওপর ভর করে খালেদা জিয়ার মুক্তি অসম্ভব। ফলে নেতারা যদি এসব বোঝে দলকে নতুনভাবে পরিচালনা করে নিজেরা টিকে থাকার রাজনীতি করেন অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। বিএনপি এ দেশ ও ইতিহাসের ধারা মানেনি। মানেনি শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান। মানেনি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর মতো করুণ বিষাদময় ঘটনা। তবে কি সেই পাপ আজ তাড়া করে ফিরছে তাদের? হায়! খালেদা জিয়া জানি না কি আছে ভাগ্যে? তবে তার বিদেশ গিয়ে জেল জরিমানা পাশ কাটানোর রাজনীতি সত্য হলে মানুষ জানবে রাজনীতিতে আসলে নীতি বলে আর কিছুই রইল না। বাকিটা সময়ের হাতে।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *