শুক্রবার, আগস্ট ১৭

খেলাই কি শুধু দেশ প্রেম? সাব্বির আহমেদ সোহাগ

 


ইতিহাস এর দিকে তাকালে দেখা, ১৯৪৭সালে দেশ বিভাগের পর থেকে যতগুলো আন্দোলন ;তথা ৫২এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬এর ছয়দফা, ৬৯এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাঙালি জাতির ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে।
দীর্ঘ নয়-মাস এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা নিজের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতার যে রক্তিম সূর্য এনে দিয়েছিলেন, এবিজয়ের পেঁছনে যে মহাশক্তি ছিল, তাহলো “দেশপ্রেম”!

“দেশপ্রেম” এর সংজ্ঞা এক একজন মানুষের কাছে এক একরকম। এক কথায়, জন্ম থেকে স্বদেশের প্রতি ভালবাসা ও মমত্ববোধই দেশপ্রেম। অর্থাৎ যে দেশের আলো বাতাসে শৈশব কৈশর পেরিয়ে বেড়ে উঠা, সে দেশের প্রতি ভালবাসা ও দেশের কল্যাণে কাজ করাই হচ্ছে দেশপ্রেম। ইসলাম ধর্মে দেশপ্রেম কে ইমানের অঙ্গ বলা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো——–খেলাই কি শুধু দেশপ্রেম?
যখন বাংলাদেশ জয় লাভ করে, তখন আমরা সাবাস বাংলাদেশ, সাবাস বাঘের বাচ্চা এইসব শ্লোগান তুলি এবং ফেইজবুকে স্ট্যাটাস এর মাধ্যমে নিজের দেশপ্রেমের জানান দেই।আবার যখন হেরে যায়, তখন আমারাই তাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করি। এবং প্রতিপক্ষ দল ও দেশকে গালমন্দ করি। এটা কি আসলে দেশপ্রেম; নাকি জাতীয়তাবাদ?
তাহলে কার মধ্যে দেশপ্রেম আছে সেটা জানার জন্যে কি আরো একটি মুক্তিযুদ্ধের দরকার?

২০১৬সালে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন——– এদেশের ১৬কোটি মানুষ খেলা দেখে দেশপ্রেম জানান দিতে যে করতালি দেয়, তারা যদি একদিন রাস্তায় কলার ছিলা না ফেলে, একদিন যত্রতত্র ময়লা না ফেলে, একদিন ট্রাফিক রোল মেনে চলে, তবে এদেশ অনেক পরিবর্তন হতো!

খেলা তো একটি বিনোদন মাত্র। আমরা কি পেরেছি একজন মানুষকে বাঁচাতে;যা একজন ভাল ডাক্তার পারে।কই কখনো তো একজন ভাল ডাক্তারের জন্য করতালি দিতে দেখিনা! কৃষক রোদে পুড়ে সোনার ফসল ফলায়।কৃষিখাতে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধি করে। কই কখনো তো তাদের জন্যে করতালি হয় না! গার্মেন্টস শ্রমিকরা তাদের কোমলমতি শিশুদের বাসায় রেখে সকালে বেরিয়ে যায় সন্ধ্যায় ফিরে।সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে শিল্পখাতে ভূমিকা রেখে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে।কই কখনো তো তাদের জন্যে একটি করতালি দেখিনি!
প্রবাসীরা পরিবার পরিজন ছেড়ে বছরের পর বিদেশের মাটিতে ভিন্ন পরিবেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রেমিটেন্স পাঠায়।কই কখনো তাদের কোন সম্মাননা দিতে দেখিনি! বরং দেশে আসলে ইয়ারপোর্টে তারা হয়রানি হয়।

তাহলে খেলায় জিতলে করতালি দেওয়াই কি দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ?
না; প্রকৃত পক্ষে আমারা সকলে যদি স্ব-স্ব অবস্থান থেকে দেশকে ভালবেসে নিজের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থেকে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব -কর্তব্য পালনের পাশা-পাশি দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করি, তবে সেটাই হবে প্রকৃত দেশপ্রেম।আর তখনি দূর্নীতি মুক্ত একটি স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *