সোমবার, অক্টোবর ১৫

জিডি কি ও কেন করবেন?এডভোকেট মহিবুল হক মুন্সী

জিডি সম্পর্কে আমাদের কম বেশি সবার ই কিছু ধারনা আছে তবে এর আইনগত ধারনা, আইনগত ভিত্তি ও এর আইনগত সাক্ষ্য মূল্য অনেকেরই অজানা।তাই সচেতনতার এই যুগে এইসব বিষয়ে জানা অতিব গুরুত্ত্বপুর্ণ বিধায় আজকে এই বিষয়ে আলোচনা করিতেছি।

জিডি হল সাধারন ডায়েরি যার ইংরেজি রুপ হল General Diary,ইংরেজি এই শব্দ দুইটির সংক্ষিপ্ত রুপ হল জিডি(GD),এটি আসলে থানায় সংরক্ষিত অপরাধ ও অন্যান্য সংবাদ বিষয়ক একটি রেজিস্টার। যদি আমি সহজ ভাষায় বলি তাহলে জিডি বলতে বুঝায় -অপরাধ ও অন্যান্য সংবাদ বিষয়ক থানায় রক্ষিত ডায়েরিকে জিডি বলে।
মূল্যবান যে কোন জিনিস হারালে অথবা কোন প্রকার হুমকি পেলে বা হুমকির আশংকা থাকলে কিংবা কোন ব্যক্তি নিখোঁজ হলে জিডি করার প্রয়োজন হয়।
সাধারনত যেসব বিষয়ে মামলা হয়না সেসব বিষয়ে জিডি করা হয়।অর্থাৎ মোদ্দা কথা হচ্ছে,আপনি আপনার সম্পদের, আপনার জীবনের ও আপনার আপনজনের সম্ভাব্য কোন ক্ষতি সম্পর্কে থানা কর্তৃপক্ষকে অগ্রিমভাবে জানিয়ে রাখার নাম ই হচ্ছে জিডি।

জিডির আইনগত মূল্যঃ-

জিডির আইনগত মূল্য অনেক। একটি জিডির ভিত্তিতেই একটি মামলা শুরু হতে পারে। আপনি জিডি করার পরে যদি জিডিতে বর্নিত অপরাধের আশংকাটি যদি সংঘটিত হয় সেক্ষেত্রে ঐ জিডিটি আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহিত হয়ে থাকে।যেহেতু জিডিটি আইন শৃঙ্খলা সহায়তাকারী সংস্থার নিকট করা হয় সেহেতু এটি একধরনের নালিশ হিসাবে গন্য করা হয় তাই আদালতে ও আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির নিকট এর সাক্ষ্য মূল্য ও দালিলিক মূল্য অনেক।
আপনাদের জানার সুবিধার্থে বলতেছি, জিডি প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে –
১/আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জিডি, যাহা থানায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই তদন্ত করতে হয়।
২/অআমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জিডি,যাহা তদন্ত করার জন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৫(২)ধারার আইন মোতাবেক আদালতের অনুমতি নিতে হয়।
৩/খাদ্য শষ্য, বাজার মূল্য, বন্যা,দুর্যোগ ইত্যাদি বিষয়ে শুধু ডায়েরির অন্তর্ভুক্ত করলেই চলে পিআরবি ৩৭৭ (ই)প্রবিধান অনুযায়ী এর তদন্ত করতে হয় না।

জিডি কোথায় করবেনঃ

জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারনত ঘটনাস্থলকেই প্রাধান্য দেয়া হয়।এর কারন হচ্ছে যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে সেই এলাকার থানাতেই জিডি করা উচিত।আপনি যেই এলাকায় থাকেন সেই এলাকায় ই জিডি করবেন তবে আপনি যদি তিতাস থানার বাসিন্দা কিন্তু আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস হারিয়েছেন নাঙ্গলকোট থানায় সেই ক্ষেত্রে আপনি নাঙ্গলকোট থানায় জিডি করবেন।

কিভাবে জিডি করবেনঃ

আপনি থানায় গিয়ে চাইলে নিজ হাতে জিডি লিখতে পারেন আবার চাইলে থানার কোন কর্মকর্তার সহায়তায় ও লিখতে পারেন। তবে নিজে লিখাই ভাল।আপনি আপনার বক্তব্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবরে দরখাস্ত আকারে হাতে লিখে কম্পিউটার কম্পোজ করে থানায় নিয়ে যেতে পারেন।তবে সেই ক্ষেত্রে দরখাস্তটি তিনটি কপি করবেন, থানার কর্মকর্তা তিনটি কপিতেই সীল, স্বাক্ষর,তারিখ ও ডায়েরি নাম্বার দিয়ে একটি কপি আপনাকে দিয়ে দিবে আপনার সংরক্ষনে রাখার জন্য আরেকটি থানায় নথিভুক্ত করে রাখবে আরেকটি তদন্ত কর্মকর্তাকে দিবে তদন্ত করার জন্য।
তবে মনে রাখবেন,আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য জিডিতে আপনার সঠিক তথ্য দিবেন সাথে মোবাইল নাম্বার দিবেন।

জিডির আইনগত ভিত্তিঃ

বাংলাদেশে কার্যকর আছে এমন বিভিন্ন আইনে জিডি সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, যাহা আপনাদের জানার সুবিদার্থে উল্লেখ করলাম –
★১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্টের ৫ নং আইনের ৪৪ ধারায় জিডি সম্পর্কে বলা আছে।
★ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ও ১৫৫ ধারায় জিডির কথা উল্লেখ আছে।
★পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল (পিআরবি) এর ৩৭৭ প্রবিধানে স্পষ্টভাবে জিডির কথা বলা আছে।

পরিশেষে একটা কথাই বলব, Prevention is better then cure.আগাম হুমকি থেকে বাচাঁর জন্য আগাম প্রস্তুতির মাধ্যম ও আইনগত কৌশল ই হচ্ছে জিডি ।

কথা হবে আগামি সপ্তাহে অন্য কোন বিষয়ে।

ধন্যবাদ সবাইকে

এডভোকেট এইচ.এম.এম. মহিবুল হক মুন্সী
এল.এল.বি. (সম্মান) প্রথম শ্রেনী
এল.এল.এম.(মাস্টার্স)প্রথম শ্রেনী
(আইন ও বিচার বিভাগ সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)
এডভোকেট: ঢাকা জজ কোর্ট

সম্পাদনায়:
এস আই ইমরান
বার্তা সম্পাদক
সিএন নিউজ২৪.কম

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *