বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৯

নিজের চরকায় তেল দিন: বার্নিকাটকে আওয়ামীলীগ!

অনলাইন ডেস্কঃ সিএন নিউজ২৪.কমঃ
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের নাক গলানোর বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর মতে, একটি দেশের আঞ্চলিক নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। তিনি বলেন, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো ও অনিয়ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। বার্নিকাট আরও বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ ছিল না। ভোটারদেরকে ভয়ভীতি দেখানো, বিরোধীদলের পোলিং এজেন্টদের হয়রানি ও ভোটগ্রহণে অনিয়মের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরকারের সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

বার্নিকাটের এমন মন্তব্যের পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আজ পার্লামেন্টের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীকে ডেকে আনেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী ড. গওহর রিজভীকে বলেন, এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কূটনীতিকরা যেন অযাচিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেকটি দেশেরই নির্দিষ্ট স্বতন্ত্র আছে, মর্যাদা আছে। আমরা তো কারও অধীনস্থ রাষ্ট্র না। আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কেন হবে?

ড. গওহর রিজভী বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, ‘ইউনিভার্সাল ডেমোক্রেটিক নর্মস’ এর নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে তিনি কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। দেশের আঞ্চলিক নির্বাচনসহ আভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেন কোনো মন্তব্য না করা হয় সেই বিষয়টিই তিনি কূটনীতিকদের বোঝাবেন।

গওহর রিজভীর মতে, এক পক্ষের বক্তব্য শুনে মার্শা বার্নিকাটের মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। মন্তব্যটি হয়েছে পক্ষপাতপূর্ণ। সরকারের কাছ থেকে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানতে চাইতে পারতেন। নির্বাচন কমিশনের কাছেও বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইতে পারতেন। একটি পক্ষের বক্তব্য নিয়ে বিরোধী দলের মুখপাত্র হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ড. গওহর রিজভী আগামী সপ্তাহ থেকেই বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের বোঝাবেন, যেন কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে থেকে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন।

গওহর রিজভী আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই অনেক সমস্যাা রয়েছে। শরণার্থী সমস্যাসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কারণে বিশ্ব মানবতার সমালোচনার তীরে বিদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের উচিত সেসব বিষয়েই বেশি নজর দেওয়া এবং তাদের দেশের বক্তব্য তুলে ধরা। একটি দেশের আঞ্চলিক নির্বাচনের চেয়ে নিজ দেশের আলোচিত বিষয়ে মার্কিন নীতি তুলে ধরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের চরকায় তেল দেওয়াই সবচেয়ে ভালো পন্থা।
এছাড়া গওহর রিজভী জানান, মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন দূতাবাসে গিয়ে আমাদের কূটনীতিকদের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনারও কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটাও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। শুধু বাংলাদেশ নয় সারাবিশ্বের এভাবে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অন্য দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপ করা রীতিবিরুদ্ধ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এক সময় নিম্ন আয়ের দেশ ছিল। দেশ তখন ছিল বহির্বিশ্বের সহায়তা নির্ভর। ওই সময় কূটনৈতিক এমন অযাচিত কর্মকাণ্ডকে সহ্য করা হতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হয়েছে। এখন আর এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ‘টলারেট’ করা ঠিক নয়। তাদের মতে, প্রত্যেক দেশেরই নিজস্ব স্বাধীন সত্ত্বা আছে। দেশের নির্বাচন কীভাবে, আঞ্চলিক নির্বাচন কেমন হবে- সেটা একান্তই সেই দেশের নিজস্ব ব্যাপার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুশীল সমাজের পরামর্শে এবং দু‘একটি গণমাধ্যমের ভুল তথ্য নিয়ে বিদেশের কূটনীতিকরা অযাচিত মন্তব্য করছেন। ওই ভুল তথ্যই আবার সব মিডিয়ায় যাচ্ছে।

সুত্র-দেশ২৪

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *