বৃহস্পতিবার, জুন ২১

নিন্দিত’ রনিই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে?

সিএন নিউজ অনলাইন ডেস্কঃ- 

বাংলাদেশে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে কিংবা ছাত্র রাজনীতিতে যদি কোন নাম এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়, সেটা নুরুল আজিম রনি। চট্টগ্রামের রনি দিনকয়েক আগেও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু সমালোচনা আর বিতর্কের জন্ম দিয়ে তাকে সংগঠনের পদ ছাড়তে হয়েছে। বিতর্কের মুখে রনি নিজেই অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সেটা গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। রনি এখন ছাত্রলীগের একজন প্রাথমিক সদস্য মাত্র। তারপরও বলতে গেলে, পুরো দেশে ছাত্রলীগ এবং ছাত্র রাজনীতির মধ্যে রনি প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচিত। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন হয়েছে, কমিটি এখনও হয়নি। সারাদেশে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড ম্রিয়মান। গণমাধ্যমে ছাত্রলীগের ইতিবাচক কোন কর্মকাণ্ডের খবর নেই বললেই চলে। এরপরও মিডিয়ায় স্থান করে নিচ্ছেন রনি।

প্রশ্ন করা যেতে পারে, রনি কি শুধুই নেতিবাচকভাবে আলোচিত? রনি কি শুধুই সমালোচিত ? একবাক্যে এর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। রনি মাত্র দুইদিন আগে বৃহস্পতিবার জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। চাঁদাবাজির মামলায় জেলে গিয়ে জামিনে কারামুক্ত হওয়া রনি’র পেছনে যেভাবে ছাত্র-জনতার ঢল নেমেছিল, সেই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবি গণমাধ্যমে স্থান করে নিয়েছে। রনি’র জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠেছে। সমালোচিত-বিতর্কিত একজন ছাত্রনেতার পাশে এত মানুষ কেন?

পেছনে ফিরে যেতে হবে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পাবার আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে রনি’র পরিচিতি ছিল না বললেই চলে। পদ পাবার পর ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুবাদে ফেসবুকে এবং ব্লগে রনি’র লেখনীর সঙ্গে পরিচিত হন সংবাদকর্মীরা। পেট্রোল বোমার আন্দোলনের যুগে রনি’র ক্ষুরধার লেখনী ছিল জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে সরব রনি, যে অবস্থান তিনি ধরে রেখেছেন এখনও।

তবে সংবাদকর্মীদের ব্যক্তিগত জানাশোনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে গণমাধ্যমের পাতায় রনিকে স্থান করে নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। সেসময় পেট্রোল বোমার তাণ্ডবের ‍মুখে অনেকেই আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরবেন কি না দ্বিধান্বিত থেকে নীরব ছিলেন, তখন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগকে রাজপথে দেখা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই রনি ছিলেন অগ্রভাগে। অনেক সময় ছাত্রলীগের ব্যানারে, অনেক সময় সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে রনিকে রাজপথে দেখা গেছে।

তবে প্রায় ৩৫ বছর ধরে ছাত্রশিবিরের দখলে থাকা দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ ও সরকারী হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দখলমুক্ত করে রনি একেবারে তোলপাড় ফেলে দেন। এই দুটি কলেজকে চট্টগ্রামে বলা হত জামায়াত-শিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট। এই দুটি কলেজে অবস্থান নিয়ে জামায়াত-শিবির চট্টগ্রাম শহরের চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় নিজেদের দুর্ভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছিল। আশির দশকে ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেন ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা শাহাদাতকে হত্যার মধ্য দিয়ে কলেজ দুটি দখলে নিয়েছিল শিবির। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ একবার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা কেউ শিবিরের কাছ থেকে কলেজ দুটি উদ্ধারের কোন পদক্ষেপ নেননি। বরং অনেকে জামায়াতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কলেজ দুটি শিবিরের দখলে রাখতে সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ আছে। সেসময় রনি প্রায় একার সিদ্ধান্তে নিজের অনুসারীদের নিয়ে কলেজগুলো দখলমুক্ত করেছিলেন। ৩৫ বছর পর প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি উঠেছিল কলেজগুলোতে।

শুধু ছাত্রলীগ নয়, বাম ছাত্রসংগঠনসহ প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতির দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল।
২০১৬ সাল থেকে রনি শুরু করেন চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা কার্যকরের আন্দোলন। ভর্তি, পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণে বাড়তি টাকা নেয়া যাবে না-এই দাবিতে স্কুল-কলেজের সামনে মানববন্ধন শুরু করেন। জানুয়ারিতে স্কুলে ভর্তির সময়, এসএসসি পরীক্ষার পর কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে, এইচএসসি পরীক্ষার পর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারী নীতিমালা মানা হচ্ছে কি না সেটা নজরদারি শুরু করে মহানগর ছাত্রলীগ। কোথাও ব্যত্যয় হলেই রনি’র নেতৃত্বে শুরু হত আন্দোলন। প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্ন ৬টি থেকে বাড়িয়ে ৭টি করা হলে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে দিনের পর দিন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট করেন রনি। সভা-সমাবেশে রনির সাবলীল, যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যও সবার নজর কাড়ে।

২০১৭ সালে এসে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভাষায় এই ‘শিক্ষা আন্দোলন’ আরও জোরদার করেন রনি। ছাত্রলীগ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে বর্ধিত ফি নেয়ার অভিযোগ জানাতে বক্স স্থাপন করে। জেলা প্রশাসককে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে। ৬৮টি স্কুলের তালিকা প্রকাশ করে যারা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে বাড়তি টাকা নেয়। এর মধ্যে ১১টি ছাড়া বাকি সব স্কুল বাড়তি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। ছাত্রলীগের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৬টি স্কুলের অনুমতি বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এই আন্দোলন করতে গিয়েই রনি মূলত রোষানলে পড়ে প্রভাবশালী মহলের। অনেক স্কুলের পরিচালনার দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা কিংবা তাদের পরিবার। এসব স্কুলের কোন-কোনটিও যখন তালিকায় চলে আসে তখন তারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে রনির বিরুদ্ধে সরব হন। অনেকে প্রশাসনকে রনির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে বরাবর রনি গণমাধ্যমের বড় অংশের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন।

শিক্ষা আন্দোলনের পাশাপাশি রনি নিজ দলের ভেতরে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হন। তার অবস্থান সবসময় যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মধ্যে ছিল সেটা বলা যাবে না। তবে দুর্বৃত্তায়ন এবং লুটপাটের রাজনীতি, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আপোষের রাজনীতি যেসব নেতা করেন, রনি ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় তুলে তাদের একটা ঝাঁকুনি দিতে সক্ষম হন। এতে করে দলের ভেতরকার একটি অংশও তার উপর ক্ষুব্ধ হন। বিশেষ করে রনির সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে থাকেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এই নেতা মেয়র নির্বাচিত হলেও খোদ চট্টগ্রামেই দলের বড় একটি অংশ তার বিরোধী। এছাড়া নির্বাচনটিও সেরকম গ্রহণযোগ্য ছিল না। খোদ প্রধানমন্ত্রীই চট্টগ্রামে ওয়াসার একটি অনুষ্ঠানে এসে মেয়রের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবে মেয়র জনমানুষের কাছে সেভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাননি। এই অবস্থায় রনির সমালোচনা মেয়রকেও ক্ষুব্ধ করে। বিশেষত ফেসবুকে মেয়রের অনুসারীরা রনির সমালোচনায় সরব থাকেন সবসময়।

২০১৬ সালে হাটহাজারীতে একটি ইউনিয়নের নির্বাচন চলাকালে রনিকে অস্ত্রসহ গ্রেফতারের তথ্য দেয় বিজিবি। নির্বাচনের প্রভাব সৃষ্টির অভিযোগে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন মূলধারার গণমাধ্যমের ক্ষুরধার সমালোচনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি রনি। কিন্তু রনি অস্ত্র নিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে যাবে, এমন তথ্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস করেনি। দিন কয়েক পার হওয়ার পরই রনিকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফাঁসানো হয়েছে, এমন বক্তব্য মানুষের মুখে মুখে চলে আসে। রনির কারামুক্তির আন্দোলন জোরালো হয়। একপর্যায়ে রনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

মামলার আসামি হলেও শিক্ষা আন্দোলন থেকে সরে আসেননি রনি। দুর্বৃত্তায়ন আর লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেকে সরে আসেননি। ২০১৭ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন রনি। সুইমিং পুলটি নির্মাণ করছিল জেলা ক্রীড়া সংস্থা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বিরোধিতাটা একেবারে সরাসরি হয়ে যায়।

এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে মারা যান চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। রনি মহিউদ্দিনের ভাবশিষ্য। মহিউদ্দিনবিহীন চট্টগ্রামে কার্যত ছায়াহীন হয়ে পড়েন তার অনুসারীরা, তাদের একজন রনিও।

কিন্তু রনি তার আন্দোলন কিংবা অবস্থান থেকে সরে আসেননি। ২০১৭ সালের মার্চে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে উন্নয়ন ফি’র নামে ৫ হাজার টাকা করে বাড়তি নেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন রনি। বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করতে গিয়ে একটি ভুল করে বসেন তিনি। অধ্যক্ষকে ঘুষি দেওয়ার একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। গণমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন রনি। সেই অধ্যক্ষ চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। মূলধারার কিছু গণমাধ্যম নির্মোহভাবে ঘটনা বিশ্লেষণ করে রনির বিরুদ্ধে সরব হন। আর কিছু গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন সেই অধ্যক্ষ, যার পেছনে ওই নেতার পরিবার। এমন আলোচনাই চাউর হয় চট্টগ্রামে। মারধরের ঘটনায় মামলা হয় চাঁদাবাজির।

সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই এক কোচিং সেন্টারের মালিককে মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। রনি অবশ্য জানিয়েছিলেন, সেই কোচিং সেন্টারের তিনিও একজন পার্টনার। পরিবারের সম্পদ বিক্রি করে তাকে দশ লাখ টাকা দিয়েছিলেন রনি। সেই টাকা ওই কোচিং সেন্টারের মালিক আত্মসাত করেছেন। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার তীরবিদ্ধ হতে থাকেন রনি। সক্রিয় হয়ে উঠেন রনি যাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন সেই প্রভাবশালীরা। রনি সংগঠন থেকে অব্যাহতি নেন। এখানেও মারধরের ঘটনায় মামলা হয় চাঁদাবাজির।

জাহেদ খানের চাঁদাবাজির মামলায় গত ৪ জুন কারাগারে যান রনি। জেল থেকে বেরিয়ে রনি একটি চমকপ্রদ বক্তব্য দেন, ‘আমি যদি চড় না মারতাম তাহলে ৯০০ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র দিতেন না বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ। তাদের শিক্ষাজীবন নষ্ট হবে ভেবেই আমি কঠোর হতে বাধ্য হয়েছি।’ রনির বক্তব্য সঠিক কি না সেটা যাচাইয়ের দাবি রাখে। তবে বিজ্ঞান কলেজের সেই শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরা মনে করেন, রনি ছিলেন বলেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পেরেছেন।

রনি ভুলত্রুটির উর্দ্ধে নন। তার মধ্যে সম্ভাবনার জায়গা আছে। কারণ দূর অতীতেও ছাত্রলীগের কোন নেতা কিংবা কোন ইউনিট শিক্ষাসংশ্লিষ্ট জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলেছেন এমনটা দেখা যায়নি। বরং যে ছাত্রলীগের নেতাদের মনে করা হয় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, লেজড়বুত্তিই তাদের একমাত্র কাজ, সেই জায়গায় রনি তো ব্যতিক্রম কিছু অবশ্যই করে দেখাতে পেরেছেন। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো সাহস ধারণ করেন। মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করতে চান। রনির মধ্যে সম্ভাবনার জায়গা সেটাই।

আর সীমাবদ্ধতার জায়গা যেটুকু সেটা হচ্ছে- সাংগঠনিক শিক্ষার অভাব। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যে সাংগঠনিক চর্চা দরকার, সেটা মাত্র ২৮ বছর বয়সী রনি তার সংগঠনের ভেতরে পাননি। বলতে গেলে বাংলাদেশের কোন ছাত্রসংগঠনেই এখন আর সেভাবে অব্যাহত গণমুখী সাংগঠনিক রাজনীতির চর্চা নেই। ছাত্র আন্দোলনও যে নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে হতে হবে, সেই সাংগঠনিক শিক্ষাটুকুর ঘাটতি পাওয়া যায় রনির মধ্যে। ছাত্ররাজনীতির কিংবদন্তীদের অনুকরণ এবং অনুসরণের চেষ্টা রনি করেন। তবে মাঝে মাঝে যেটুকু তালগোল পাকিয়ে ফেলেন, তা ওই সাংগঠনিক শিক্ষা কিংবা চর্চার অভাবের কারণেই।

এরপরও বলতে হবে রনি এইমুহুর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ছাত্রনেতার নাম। রনির বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর জামায়াত-শিবির, বাঁশের কেল্লা। রনির বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব নিজ দলের ভেতরের বড় অংশ। ছাত্রলীগে যারা তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে পিছিয়ে পড়েছেন তারা রনির বড় সমালোচক। দলের ভেতরে দুর্বৃত্তায়ন ও মৌলবাদের সঙ্গে আপোষকামী রাজনীতি যারা করেন, তাদের অনুসারীরা রনির বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব। জামায়াত-শিবিরের সমালোচনা আর নিজ দলের সমালোচনাকারীদের সমালোচনা-উভয়ের ভাষা প্রায় একই। এরপর আছে অনুগ্রহভোগী কিছু মিডিয়া।

সমালোচনার বিপরীতের চিত্র হচ্ছে- রনি কারাগারে যাবার পর তার জন্য যত কর্মসূচি হয়েছে সবগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। এরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী নন। অনেক ছাত্রছাত্রীর অভিভাবককে এসে রনির জন্য কাঁদতে দেখা গেছে। রনিকে মুক্তির পর তাৎক্ষণিক সংবর্ধনায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল।

রনিকে কেউ ছাত্রবীর বলেন, কেউ বলেন ছাত্রবন্ধু। কেউ বা বলে ছোট মহিউদ্দিন। আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর ঈর্ষা থেকে রনি কারও কারও কাছে ঘৃণিত। তবে শেষ কথা হচ্ছে-আলোচিত, সমালোচিত, বিতর্কিত, ঘৃণিত এই রনিই এখন সবচেয়ে জননন্দিত। চট্টগ্রামের আপামর ছাত্র-জনতার ভরসা।

পদ-পদবিবিহীন রনিই এখন চট্টগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা। শুধু ছাত্রলীগ কেন, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ কিংবা অন্যান্য সহযোগী সংগঠনেও এমন জনপ্রিয় আর কেউ কি এই মুহুর্তে আছে?

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *