রবিবার, মে ২৭

নীল ছাতা ও বোহিমিয়ান হওয়ার গল্প

 

—হেই! তোমার কি মনে হয় আজকের এই ঝকঝকে রোদে বৃষ্টি নামবে? তুমি ছাতা কেন বের করেছ?

কথাটা শুনেই ঝট করে আমি প্রশ্নকর্তার দিকে তাকালাম। প্রশ্নকর্তা আমেরিকান। বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। স্বাস্থ্য ভালো। গোলগাল একটা ভুঁড়ি আছে। মুখে সাদা দাড়িগোঁফের বাহার। মাথায় কালো ক্যাপ। পরনে চেক শার্ট। চশমার আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছে চোখ দুটো। কিন্তু কণ্ঠ বলে দেয়, মানুষটা কৌতূহলী।
—তোমার কি মনে হয় আজকে বৃষ্টি নামবে?
এক পা এগিয়ে এসে মানুষটা আবার আমাকে প্রশ্ন করে। আমি কিছু বলার আগে পাশ থেকে উত্তর দেয় শৈশব।
—বৃষ্টি নয়, ও রোদ থেকে বাঁচার জন্য ছাতা বের করেছে।
—কেন, রোদে কি সমস্যা? রোদ তো সুন্দর। তাই না?
ভদ্রলোক খুব আগ্রহী হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আবার প্রশ্ন করলেন।
এখানে আসলেই রোদেলা দিনে ছাতা বের করাটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। আমেরিকায় সচরাচর বৃষ্টি ছাড়া কেউ ছাতা বের করেন না। যত কড়া রোদই হোক এরা খুব উপভোগ করেন। চামড়া পুড়ে যায়, লাল হয়ে যায়, তবুও রোদ দেখে খুশি হয়।

বোহিমিয়ান ভদ্রলোকের সঙ্গে লেখিকাএকটা ভদ্রতাসুলভ হাসি দিয়ে আমি শ্রাগ করে বললাম, আমার মাইগ্রেনের সমস্যা আছে। এই জন্য রোদ এড়িয়ে চলি।
—তাই বলো! তোমরা কোথা থেকে এসেছ? এখানে প্রথমবার এলে নাকি আগেও এসেছ?
আমরা নিজেদের পরিচয় দিলাম। তিনি ঠিক আমাদের পাশে দাঁড়ানো আরেকজন হাসিখুশি নারীকে দেখিয়ে বললেন, আমি আর আমার স্ত্রী। একসঙ্গে ঘুরতে এসেছি এখানে। আগেও এসেছি। এরপর আমরা বাংলাদেশের মানুষ শুনেই বললেন, বাংলাদেশ কি ভারতে?
এই কথাটা শুনে কেন যে সব সময় আমার খুব মন খারাপ হয়ে যায়! ভারত বিশাল দেশ। আমেরিকাতেও প্রচুর ভারতীয় আছেন। সেরা সেরা সব জায়গায় ভারতীয়রা কাজও করছেন। বাংলাদেশিরাও করছেন। কিন্তু নেপালের মতো ছোট্ট দেশকে বেশির ভাগ আমেরিকান আলাদাভাবে চেনেন। কিন্তু বাংলাদেশের কথা এলেই অনেকে বলেন এটা কি ভারতে? জানি নেপাল পর্যটকদের দেশ। হিমালয়ের জন্য যদি সবাই নেপালকে একনামে জানে তাহলে সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, আমাদের ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য হলেও তো এত দিনে আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষের জেনে যাওয়া উচিত বাংলাদেশ আলাদা ও স্বতন্ত্র একটি দেশ। বাধ্য হয়ে আমি বাংলাদেশ নিয়ে ভদ্রলোক ও তাঁর স্ত্রীকে বেশ কিছু তথ্য দিলাম। ভদ্রলোকের স্ত্রী ততক্ষণে শৈশবের সঙ্গে বিশ্ব ম্যাপে আমাদের দেশের অবস্থান ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশদ গল্প শুরু করে দিয়েছেন।
এমন সময় হঠাৎ গল্পের মাঝখানে ভদ্রলোক শৈশবকে বললেন, এই মেয়ে তোমার কি হয়? বন্ধু?
—আমার স্ত্রী। শৈশব বলল।
—তোমার স্ত্রী? বল কী? তুমি কি শিওর তুমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে করেছ?
এমন কথা শুনে শৈশব রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল, এ কথা কেন বলছ? আমরা প্রায় সমবয়সী!
—ওহ ম্যান! ওকে দেখলে মনে হয় ওর বয়স পনেরো কিংবা ষোলো। মেয়ে, তুমি কি খাও, আমাকে তোমার খাবারের তালিকা দাও।
বলেই চারপাশ কাঁপিয়ে হাসতে শুরু করলেন ভদ্রলোক।
হেসে ফেললাম আমরাও। লোকটি আদতে রসিক। আর আড্ডাবাজ। এবার আমার দিকে সিনেমার কোনো নামকরা অভিনেতার মতো ডান হাত বাড়িয়ে তিনি বললেন, মুচো গুস্তো।
আমি করমর্দন করে বললাম, ইগুয়ালমেন্তে।
ভদ্রলোক চমৎকৃত হয়ে বললেন, তুমি স্প্যানিশ পার?
—কাজ চালানোর মতো জানি। খুব বেশি পারি না। তবে হ্যাঁ তুমি যদি স্প্যানিশে কোনো খারাপ গালি দাও আমি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যাব। প্রচলিত সব স্প্যানিশ গালি আমি খুব ভালো করে পারি।

মনুমেন্ট রকসের (চক পিরামিড) স্তম্ভভদ্রলোক আবারও শব্দ করে হেসে ফেললেন।
—আচ্ছা বলতো, তোমাকে আমি কি বলব স্প্যানিশে? সেনরা নাকি সেনরিতা?
—তোমার যদি আমাকে মহিলা মনে হয় তাহলে সেনরা বলো, আর মেয়ে মনে হলে সেনরিতা।
—সেনরিতা, এই জায়গাটা কি তোমার খুব ভালো লেগেছে?
আমি লম্বা দম নিলাম। শনিবার রাতে বাসায় বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব এসেছিল। রাতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শৈশব জানাল, রোববার খুব ভোরে আমরা বের হচ্ছি। কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি কিছুই জানাল না। বেশ কিছুক্ষণ ওর কাছ থেকে কথা বের করার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিলাম। রোববার আমি বেলা পর্যন্ত ঘুমাতে ভালোবাসি। এই একটা দিন আমার অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমাতে ভালো লাগে না। তবুও সেদিন সকালে ঘুম ঘুম চোখে দুজনেই বের হয়ে গেলাম। জিপিএসে লোকেশনের নাম বের করার চেষ্টা করেও পারলাম না। শুধু বুঝতে পারলাম শহর থেকে দূরে কোথাও যাচ্ছি আমরা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ড্রাইভ করার পর জিপিএস দেখে বুঝে গেলাম আমরা যাচ্ছি মনুমেন্ট রকসে। মনুমেন্ট রকস (চক পিরামিড) ক্যানসাসের আটটি দর্শনীয় স্থানের একটি। জায়গাটা কেমন হবে ভাবতে ভাবতে দেখলাম কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। দূর থেকে এক নজর দেখেই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। বিশাল খোলা প্রান্তরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা স্তম্ভগুলোর আকার, আকৃতি একেকরকম। দেখেই মনে হলো কোনো সিনেমার গানে দেখেছি এখানের দৃশ্য।
গুগল করে জানলাম, মনুমেন্ট রকস বা শিলা স্তম্ভ জীবাশ্মের মাধ্যমে বেশ বড় চকের পিরামিডের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ইন্টেরিয়র এটিকে ‘ন্যাশনাল ন্যাচারাল ল্যান্ডমার্ক’ হিসেবে সর্বপ্রথম জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত করেছে। একেকটি স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট। প্রায় ৮০ মিলিয়ন বছর আগে এগুলো গঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কয়েকটা স্তম্ভের আবার নামও আছে যেমন; চার্লি দ্য ডগ, আই অব দ্য নিডল। পাথরের টুকরার মতো যা মাটিতে পড়ে আছে সেগুলো মূলত চক। সে কারণেই বলা হয় চক পিরামিড। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়। শীতের কোনো নামগন্ধ নেই। মাথার ওপরে নীল আকাশ আর সঙ্গে ঝকঝকে রোদ। গা পুড়ে যাচ্ছে প্রায়। আগে থেকে জায়গাটার সম্পর্কে জানতাম না বলে ক্যাপ বা হ্যাট কিছুই আনিনি। অতিরিক্ত রোদে আমার মাথা ধরে যায়। সে কারণে গাড়ির ব্যাক ডালা থেকে নীল রঙের ছাতা বের করে চক পিরামিডের দিকে হাঁটা শুরু করেছিলাম। বেশ কিছু দর্শনার্থী ছিল সেখানে। এদের মাঝেই এই মধ্যবয়স্ক আমেরিকান আমাকে দেখে বেশ জোরে ছাতার কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন।

মনুমেন্ট রকসের (চক পিরামিড) স্তম্ভআরও অনেক দর্শনার্থী যেখানে পিরামিডের আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেখানে এই দম্পতি আমাদের সঙ্গে গল্প করে যাচ্ছেন। আমরা বুঝতে পারলাম তিনি ও তাঁর স্ত্রী ভিন্ন গোত্রের। বেশির ভাগ আমেরিকানরাই নিজেদের মতো করে থাকতে পছন্দ করেন। কেউ কোনো বিষয়ে সাহায্য চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই এগিয়ে আসবেন নয়তো পাশ দিয়ে কেউ উচ্চ স্বরে ঝগড়া করলেও ফিরে তাকাবেন না, যদি না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু এঁরা ব্যতিক্রম।
আমরা জানতে পারলাম এই ভদ্রলোক ইউএস আর্মিতে দীর্ঘদিন কাজ করে অবসর নেওয়ার পর নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ইলেকট্রনিক টেকনিশিয়ান হিসেবে। এরপর বেশ কিছু টাকা জমিয়ে ৪৫ একরের জমি কিনে চাষাবাদ শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন চাষাবাদ করার পাশাপাশি দুই ছেলেমেয়েকে বড় করেছেন, শিক্ষিত করেছেন। তারা বিয়ে করেছে। পাঁচটা নাতিপুতি জন্ম নিয়েছে। এরপর একদিন ওনার মনে হয়েছে তাঁর কিছুই ভালো লাগছে না। জীবনে তিনি ভিন্ন কিছু চান। বেশ ভিন্ন কিছু। যা তিনি কখনোই ঘরে বসে পাবেন না। তিনি ঠিক করলেন আমেরিকার আনাচকানাচে ঘুরে বেড়াবেন বোহিমিয়ানের মতো। খোলা আকাশের নিচে থাকবেন, যেদিকে চোখ যায় চলে যাবেন। স্ত্রীকে জানালেন, স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে যেতে রাজি হয়ে গেলেন। বললেন, তুমি যেখানেই যাবে আমি সঙ্গে যাব। তারপর থেকে বিগত কয়েক বছরে তাঁরা গাড়ি নিয়ে আমেরিকার নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দেশের নানা দর্শনীয় স্থান দেখে বেড়াচ্ছেন। এই সপ্তাহে পাহাড়ে আছেন তো অন্য সপ্তাহে সমুদ্রের কাছে।
—আমাদের কাছে এখন জীবনটা খুব সহজ সেনোরিতা। মনে করো কোনো রাস্তার ডান দিক দিয়ে আমরা কোথাও যাব বলে ঠিক করেছি। দেখলাম ডানদিকের রাস্তায় খুব জ্যাম। আমরা নিজেদের বলি, তাহলে বামে যাওয়া যাক। তারপর তুড়ি বাজিয়ে বাম দিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে যাই। আমাদের কাছে প্রতিটা দিন খুব বিস্ময়ের। উত্তেজনার। রোমাঞ্চের। এখানে প্রতিদিনের ছকবাঁধা নিয়ম নেই। সাপ্তাহিক বাজারের ফর্দ নেই। লন্ড্রি করানোর জন্য কয়েন জমানো নেই। শপিং মলে গিয়ে কুপনের ব্যবহার কীভাবে করব তা নিয়ে ভাবনা নেই। এখানে জীবন পথের মতো। আঁকাবাঁকা কিন্তু সহজ। দৃশ্যমান। যেখানে পথ নিয়ে যায় আমরা সেখানেই যাই। এমন জীবনের স্বপ্ন আমি সব সময় দেখেছি। চকচকে চোখে বললেন সেই ভদ্রলোক।
আমি বললাম, তোমার এই জীবনকে আমি হিংসা করি।
—তাহলে টাকা জমাও। পরিশ্রম করো। যখন ছানাপোনা হবে, তারা বড় হলে ওদের সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে একদিন হঠাৎ তোমার পাশের এই চশমা পরা, ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটাকে নিয়ে চলে যাও যেখানে দুই চোখ যায়। এটা সম্ভব। সত্যিই সম্ভব। তোমাদের শুধু মন থেকে চাইতে হবে।
—একটা কথা বলো, তোমার ছেলেমেয়ে, নাতিপুতিরা তোমাদের মিস করে না?
—হ্যাঁ করে। অবশ্যই করে। আমাকে প্রায়ই আমার ছেলে ফোন করে বলে বাবা, তুমি কোথায়? আমি উল্টো বলি, কেন জানতে চাইছ? নিশ্চয়ই তোমার বাসার কিংবা ফার্মের কোনো কাজে সাহায্য লাগবে। আমি বলবই না আমরা কোথায় আছি। হা-হা-হা!

মনুমেন্ট রকসের (চক পিরামিড) স্তম্ভভদ্রলোকের স্ত্রী পাশ থেকে বললেন, আমাদের মেয়ে ফেসবুকে কিংবা ভাইবারে কিছু লিখলে সব সময় আমাদের লোকেশন চেক করে। আমি বলি, যত দিন কল করছি না তত দিন ধরেই নাও ঠিক আছি আমরা। যেদিন ঠিক থাকব না, কেউ না কেউ আমাদের ফোন থেকে কিংবা নিজের ফোন থেকে কল করবে তোমাদের। জানাবে আমরা বিপদে পড়েছি কিংবা আর বেঁচে নেই। কল না করলে চিন্তা করো না, বরং কল করলে কারণ জেনে চিন্তা করতে পার।
এই সব কথা শুনে আমার ছেলেমেয়ে হতাশ হয়ে মাথা নাড়ে। আমরা দুজন পাত্তা দিই না। আমরা খুব ভালো আছি। যখন আমি ড্রাইভ করি তখন ও আরাম করে। আবার যখন ও ড্রাইভ করে আমি বিশ্রাম নেই। দেখো, আমাদের গাড়ির পেছনে দুটো সাইকেল বাঁধা আছে। আমরা মাঝে মাঝে সাইকেল করেও ঘুরতে যাই। অনেক বকবক করে ফেলেছি আজ, তোমরা দুজন নিশ্চয়ই ভাবছ কেন এই বুড়োবুড়ির পাল্লায় পড়লাম।
—না, না। একদম না। আমি অতি ব্যস্ত হয়ে বললাম। আমার তোমাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে খুব ভালো লেগেছে। তোমরা আমার জন্য সিনেমা থেকে উঠে আসা চরিত্রের মতো। আমি তোমাদের গল্প বলব আমার বন্ধুদের, কাজিনদের, পরিচিতদের।
—আর তুমি তাদের এটাও বলবে আমরা এখন জানি বাংলাদেশ, দুঃখিত হয়তো আমার উচ্চারণ সঠিক হচ্ছে না, একটা আলাদা দেশ ও সেই দেশে হয়তো আমরা দুজন একবার বেড়াতে যেতে চাই। যদি আমেরিকার সব জায়গা ঘুরে বেড়িয়ে শেষ করতে পারি এবং তত দিন বেঁচে থাকি। এখন বিদায় নেই। আদিওস।
—আচ্ছা শুনো, শেষ কথা, আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছবি তুলতে পারি?
ভদ্রলোক চনমনে কণ্ঠে বললেন, এর চেয়ে আনন্দের প্রস্তাব আমাদের জন্য আর কিছুই হতে পারে না প্রিয় সেনরিতা।
এই ছিল আমাদের মনুমেন্ট রকসে ঘুরতে যাওয়ার গল্প। কিছু কিছু সময়ে একটি দর্শনীয় স্থান শুধু স্থান থাকে না, হয়ে যায় চমৎকার স্মৃতি। এই শিলা স্তম্ভের অপরূপ স্থানটা আমরা ব্যক্তিগতভাবে কত দিন খুব যত্ন করে মনে রাখতাম তা আমি জানি না তবে এই মধ্যবয়স্ক দম্পতি আমাদের ভ্রমণ চিরস্মরণীয় করে তুলেছেন। জিপে করে বিদায় নেওয়ার সময় যখন দুজন মিলে আমাদের দেখে হাত নাড়ছিলেন আমার তখন খুব মনে হচ্ছিল, হয়তো আর কোনো দিনই দেখা হবে না তাঁদের সঙ্গে। হয়তো অজস্র মানুষের ভিড়ে তাঁদের মনে থাকবে না আমাদের সঙ্গে স্বল্প পরিচয়ের সময়টুকু। তবে খুব কড়া রোদে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে যখন আমি আমার নীল ছাতা বের করব এই বোহিমিয়ান দম্পতির কথা আমার মনে পড়বে। আমি ইচ্ছে করেই নিইনি তাঁদের ফোন নম্বর কিংবা ফেসবুক আইডি। পথের পরিচয়কে পথেই ফেলে এলাম।
যদি কখনো পথই আবার আমাদের দেখা করিয়ে দেয়…
আদিওস।

*মাহরীন ফেরদৌস: উচিতা, ক্যানসাস, যুক্তরাষ্ট্র।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *