শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২

পরিচয় মিলেছে পতেঙ্গা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত তরুণীর

বিশেষ প্রতিনিধি-

নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ১৮ নম্বর ঘাটে পাথরের ওপর থেকে উদ্ধার হওয়া সেই তরুণীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাসফিয়া আমিন (১৬) নামে ওই তরুণী সানশাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পতেঙ্গা থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়দের খবরে সকালে অজ্ঞাত এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পরিচয় পাওয়া না গেলেও দুপুরের দিকে ওই তরুণীর পরিবারের লোকজন থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেছে।’
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। ’

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে উদ্ধার করা মৃত তরুণী তাসফিয়াকে তার প্রেমিক আদনান মির্জাই কি সৈকতে নিয়ে গিয়েছিল! নাকি অন্য কারো সাথে গিয়েছিল তা রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসি ফুটেজে দেখা যায় রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে তাসফিয়া ও আদনান আলাদা আলাদা সিএনজি অটো রিকসায় উঠছে। আর একটি খবরে জানা যায় তাসফিয়া তার এক বান্ধবির জন্মদিনের পার্টিতে অংশগ্রহণ করেছে।
বুধবার (২মে) পতেঙ্গায় নেভাল সড়কের পাশের পাথরের উপর থেকে উদ্ধার করা মৃত তাসফিয়ার চাচা জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ডেইলপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের পরিবার থাকেন ও আর নিজাম আবাসিক এলাকার ৩নং সড়কের কেআর এস বিল্ডিংয়ে ।

তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে তাসফিয়া সকলের বড়। সে নগরীর সানশাইন স্কুল এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। কিছু দিন আগে ফেইসবুকে তাসফিয়ার সাথে আদনান মির্জা নামে এক ছেলের পরিচয় হয়।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাসফিয়াকে ডেকে নেয় আদনান । তাসফিয়াকে নিয়ে চায়না গ্রিল হোটেলে যায় আদনান।

সূত্র জানায়, আদনান নামে কোনো এক তরুণের সঙ্গে তাসফিয়ার যে ফেসবুকে সম্পর্ক হয়েছে সে বিষয়টি কিছুদিন আগেই টের পায় পরিবার। তাই সন্দেহবশত ফেসবুক আইডি থেকে নম্বর নিয়ে কৌশলে আদনানকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তাসিফয়াদের বাসায় ডেকে আনা হয়।

এ সময় তাসফিয়ার বাবা-চাচারা আদনানকে চাপ দেয় তাসফিয়া কোথায় তা জানাতে। না হয় আদনানের বাবাকে ডেকে বিচার দেয়া হবে বলেও হুশিয়ার করা হয়। এ সময় আদনান তার পরিচিত বন্ধু-বান্ধবদের জানায় তাকে আটকে রাখার বিষয়টি।

পরে মুরাদপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফিরোজ ও আকরামসহ কয়েকজন তাসফিয়াদের আদনান আর নিজাম আবাসিক এলাকার বাসায় এসে আদনানকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। একপর্যায়ে আদনান তাকে ছেড়ে দিলে তাসফিয়া আধাঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসবে বলে জানায়।

একদিকে সন্ত্রাসীদের হুমকি, অন্যদিকে তাসফিয়াকে ফিরে পেতে আকুল তাসফিয়ার পরিবার অদনানকে সরল বিশ্বাসে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এরপর থেকেই আদনান ফোন বন্ধ করে দেয়।

তাসফিয়ার পরিবার জানায়, আদনানের পরিবার সম্পর্কে বা তার বাড়ি কোথায়, সে কী করে সে বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। কেবল ফেসবুক থেকে নম্বর নিয়েই তারা আদনানকে আটক করেছিল।

সূত্র জানায়, এরপর থেকে মঙ্গলবার শবেবরাতের দিন এবাদত ছেড়ে তারা এখানে-সেখানে পাগলের মতো খুঁজে বেড়ায় তাসফিয়াকে। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাচ্ছিল না।

তবে পতেঙ্গা থানার ওসি তদন্তের পর সব জানাতে পারবেন বলে জানান। এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় আদনানকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।
কিশোরীর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী বলেন, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় মেয়ের বাবা মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে মেয়ের ছোট ভাই ও চাচাতো ভাই বাইরে যায়। ভাই বের হওয়ার দুই-আড়াই মিনিট পর মেয়েটিও বাসা থেকে বের হয়েছিল। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ওই কিশোরী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার মা বিশ্রামে ছিলেন। কিশোরীর হাতে মোবাইল থাকলেও সিম ছিল না। স্কুলে যাতায়াত ছাড়া তার মোবাইলে সিম দেওয়া হতো না। তবে বাসায় ওয়াইফাই সংযোগ আছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করত।

কিশোরীর চাচা বলেন, ভাতিজির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সবাই শোকাহত। কোনো ছেলের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকতে পারে, সেই ধারণা কারও নেই।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *