বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৬

“পাগল দাদির জীবন কথা” মো: শামীম হোসেন

পাগল দাদির জীবন কথা”
মো.শামীম হোসেন

পাগল দাদির আবল তাবল সকাল,সন্ধা রাতে,
তিন ছেলের জননী তবু কেউ নেই তার সাথে।
মস্ত বড় বাড়ির মেয়ে বাবা ছিল তার বেশ ধনি,
তিন সন্তান কোলে নিয়ে বিধবা হয় দুঃখিনী।

বাবার বাড়ি পেয়েছিল এক একর চাষের জমি,
এই সব বেঁচে মানুষ করে তিন নয়নের মনি।
উচ্ছ শিক্ষা হয়নি দেওয়া অভাব ছিল বটে…….
ছেলের আশায় নাও ভিড়ায়নি অন্য কারো ঘাটে।

বড় ছেলে নিজের পছন্দে করে সখের বিয়ে…..
পাগল দাদির সংসার তখন দুই ছেলে নিয়ে।
দুই ছেলের কিছু আয়ে দু মুঠো মিলে আহার।
এরি মধ্যে মেজো ছেলের বিয়ের হলো দরকার।

বড়র শিক্ষায় মেজো এখন নিজের সংসার নিয়ে।
অনেক সুখের সংসার তার একটি ছেলে নিয়ে।
ছোট ছেলে আধুনিক আর উদার ছিল মন……..
পাগলির একা সংসারে এক বৌমা প্রয়োজন।

পাগলি মনে চিন্তা করে আমারতো নেই মেয়,
ভাইয়ের মেয়ের সাথে এবার ছেলের দিলো বিয়ে।
যারে এখন পাগল বলছি ছিলনা সে পাগল,
ছোট ছেলের বিয়ের পরে, হলো এসব গণ্ড গোল।

আশা ছিলো ছোট বৌমা দিবে মৃত্যু লগ্নে জল,
নিয়তির নির্মম খেলায় সে হয়ে গেল পাগল।
পাগল নিয়ে করেনি সংসার দুরে দেশে দেয় পারি।
খালি এখন পাগল দাদির তিন সন্তানের বাড়ি।

আবল তাবল বকে তাই সবাই তারে পাগল কয়,
কার কারণে জননী পাগল জানে দয়াময়।
পাগলি এখন অনেক সুখে বড় ছেলের ঘরে,
বড় বৌমা পাগলিটারে নিল আপন করে।

আপন মানুষ আপন হয়না বিধির কঠিণ বিধান।
তিন ছেলেরি ছেলে আছে আল্লাহ তুমি মহান।
পাগলির মতো কোনো বৌমার হয়নাযেন কপাল।
আজকের বৌমা যেন শ্বাশুড়ী হয় আগামিকাল।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *