রবিবার, মে ২৭

প্রধানমন্ত্রীর জন্য সেফ গার্ড ড্রোন বানিয়েছে মৌলভীবাজারের কিবরিয়া

সিলেট প্রতিনিধিঃ–

পুরো নাম এস.এম গোলাম কিবরিয়া। মৌলভীবাজারের শাহ্ হেলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী আবিস্কার করেছেন একটি বিশেষ ড্রোন যা বোমা শনাক্তসহ নানা রকম কাজ করতে সক্ষম।
কিবরিয়া জানান, ড্রোনটি তৈরী করতে তাঁর সময় লেগেছে দুই মাস। তবে এ বিষয়ে তিনি গবেষণা করছেন গত তিন বছর। খচর হয়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা। ড্রোনটি তেরীতে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বন্ধু আব্দুল্লাহ্ আদনান। আর্থিক সহযোগিতা করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন খান।

কিবরিয়ার তৈরী এই বিশেষ ড্রোনটির নাম দেয়া হয়েছে ‘মাল্টি ড্রোন’। ২০০ ফুট উপরে ভাসতে পারা এই ড্রোন বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম। তাছাড়া ড্রোনটি থেকে লাইভ ভিডিও দেখা যাবে অনায়াসে। অপরাধী খুঁজে বের করতেও এই ড্রোনটি ব্যবহার করা যাবে বলে মন্তব্য করেন ক্ষুদে এই বিজ্ঞানী।

গত ১৪ মে সিলেট সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত সিলেট বিভাগীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ২০১৮-তে অংশ নিয়ে কিবরিয়া প্রথম পুরস্কার লাভ করেন। ক্ষুদে এই বিজ্ঞানীকে পুরস্কৃত করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম।
এস.এম গোলাম কিবরিয়ার বিজ্ঞানের প্রতি এই আকর্ষণটাকে কাজে লাগতে পারলে তার কাছ থেকে অনেক বড় বড় আবিষ্কার সফলতার মুখ দেখবে বলে মনে করেন তাঁর স্কুল শিক্ষক আশরাফুল আলম সিপন। যিনি ছায়ার মতো তাকে পাশে থেকে উৎসাহ প্রদান করে চলেছেন।
কিবরিয়া জানান, এই ড্রোনটিকে প্রধানমন্ত্রীর সেফ গার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে সার্বিক সহযোগিতা এবং এ বিষয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেলে তিনি ড্রোনটিতে আরো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কাজের উপযুক্ত করে তৈরী করতে সক্ষম হবেন।

এর আগে কিবরিয়া বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেখিয়েছেন। এই আবিষ্কারের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবকসহ সর্ব মহলের অভিনন্দনে সিক্ত হয়েছেন কিবরিয়া।
বিজ্ঞান চর্চার পাশাপাশি গোলাম কিবরিয়া সংগীত চর্চা করেন। বাউল গানের প্রতি তাঁর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। এছাড়াও গত তিন বছর থেকে তিনি শাহ্ হেলাল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউটের সিনিয়র পেট্রোল লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিশু সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত কিবরিয়ার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাৎপুরের অলৈতলী কাতিয়ায়। ব্যবসায়ী বাবার সুবিধার্তে পাঁচ বছর বয়স থেকে মৌলভীবাজারে পরিবারের সাথে বসবাস করছেন তিনি। মো. ওয়াকিবুর রহমান ও মুক্তা বেগম দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে কিবরিয়া দ্বিতীয়। দুই বোনের মধ্যে একজন বড় এবং অপরজন তাঁর ছোট।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *