শনিবার, সেপ্টেম্বর ২২

প্রধানমন্ত্রীর নিকট মামুন বিশ্বাসের খোলা চিঠি

মোঃ ফারুক হোসেন,নিজস্ব প্রতিবেদক সিএন নিউজ২৪.কম-

হুমুকির মুখে যমুনা পাড়ের মানুষের অপরিসীম কষ্ট, গভীর বেদনা ও সীমাহীন যন্ত্রণা দেখে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে খোলা চিঠি লিখছি।আমি বাংলার ষোল কোটি মানুষের মাঝের সাধারণ একজন। আমি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর হতে জামিরতা যমুনা পাড়ের ভাঙ্গনকবলিত অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবতার জীবন-যাপন করছে সেই মানুষ গুলোর প্রাণের কথাটা লিখতে বসলাম। আমরা আর দেখতে পারছি না।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনে তাদের রক্ষা করুন।

সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুরে হতে জামিতা আবারো তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। আর হুমকির মুখে পড়েছে দেশের বৃহৎ কাপড়ের হাট, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, আঞ্চলিক সড়কসহ ৫টি গ্রামের প্রায় ২৭ হাজার ঘরবাড়ি ও তাঁত কারখানা। এদিকে ভাঙনরোধে পাউবো কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

আপনি ইতোমধ্যে ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে পৃথিবীর বুকে মানবতার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার কোন তুলনা হয় না। আশা করি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর যমুনাপাড় রক্ষা করে অসহায় এই মানুষ গুলোর বুকে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেবেন বলে আমি আশাবাদী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত তিন দিনের ব্যবধানে ব্রাহ্মনগ্রাম, আড়কান্দি চর ও জালালপুরের অন্তত ৫৫টি ঘরবাড়ি নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রাহ্মনগ্রাম কবরস্থান, মসজিদ ও মাদরাসাসহ বহু ফসলি জমি যমুনার পেটে চলে গেছে। যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পশ্চিম তীরে অবস্থিত এনায়েতপুর থানা সদরের ব্রাহ্মনগ্রাম-আড়কান্দি থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকায় অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের সবচেয়ে বড় কাপড়ের হাট, সিরাজগঞ্জ-পাচিল আঞ্চলিক সড়ক, ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ মাঠসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নদী তীরে অবস্থিত ৫টি গ্রামের অন্তত ২৭ হাজার ঘরবাড়ি ও কয়েক’শ একর আবাদি জমি রয়েছে হুমুকির মুখে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ শত শত মানুষের আহাজারি নদী ভাঙন দেখতে প্রতিদিনই দুরদুরান্তের মানুষ আসছে। কিন্তু পাউবো কতৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তরফ থেকে ভাঙনরোধে নেয়া হয়নি কার্যকর ব্যবস্থা এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। ভাঙনরোধে পদক্ষেপ নেয়া না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহি এনায়েতপুর সহ জামিতার বহু স্থাপনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,যমুনাপাড়ের মানুষকে অনেকেই অবহেলা করে । গত বছর পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পাউবো কর্মকর্তারা নদী ভাঙন পরিদর্শনে এসে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও এর কোন বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
রাতে যখন সবাই শিশু বাচ্চা নিয়ে ঘুমায় যমুনা তখন রুদ্ররুপ ধারন করে। প্রবলস্রােতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে প্রতিদিনই বিশাল বিশাল এলাকা দেবে যাচ্ছে। সবাই ঘরবাড়ি সরানো নিয়ে ব্যস্ত ঈদের কোন আনন্দ এদের মধ্যে নেই। এলাকাবাসি ত্রাণ নয় এখন তীর রক্ষা বাঁধ চায়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি জানি আপনে এগিয়ে আসবেন এই অসহায় মানুষের পাশে। আপনি যদি এগিয়ে না আসেন তাহলে এই অসহায় মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সব ফিঁকে হয়ে যায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসহায়দের দাবি; আসহায় মানুষ গুলোর কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হলেও অাওয়াজ পৌছায় না কারোর কাছেই । কিন্তু অার্তনাদ পৌছবে আল্লাহুর দরবারে। আপনি মমতাময়ী নেত্রী এই অসহায়দের কান্নার গুরুত্ব দিয়ে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিন। অসহায়দের পাশে পাবেন সব সময়।

এ বিষয়ে আমরা আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।আপনি বঙ্গবন্ধুকন্যা।

আজ বড় আবেগের জায়গা থেকে একজন আপন মানুষের কাছে চিঠি লিখেছি কয়েক হাজার অসহায় মানুষের ঘর-বাড়ী রক্ষা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমার ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর ভাবে নেবেন। হাজার হাজার অসহায় মানুষের এ বেদনা নিশ্চয়ই আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করবে । আপনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আমার বিশ্বাস।

আপনার জন্য সব সময় শুভকামনা, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।

মোঃ মামুন বিশ্বাস পরিবেশ কর্মী, সাংবাদিক ও সমাজসেবক শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *