বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৮

প্রেমে বাঁধা দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা ফের বন্ধুদ্বয় গ্রেফতার

এম এইচ কবীর,নিজস্ব প্রতিবেদক:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় অপহরণের দুই মাস ১৭ দিন পর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাবুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত ১টার দিকে উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।হত্যার পর লাশ তুষার ও আল আমীন তুষারের বড় ভাইয়ের কেশরগন্জ বাজারের হাফ বিল্ডিং ঘরে মাটি চাপা দেয়। বুধবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের এস পি নুরুল ইসলামের উপস্থিতে ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তুষার ও তার সহযোগী আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রেমে বাঁধা দেওয়ায় বখাটে তুষার ও তার সহযোগী আল আমিন মেহেদী হাসান বাবুকে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, “তুষার ও মেহেদীর এক মেয়ে বন্ধু রয়েছে। তুষার মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে মেহেদী তাতে বাধা দেয়। এই বাধার কারণেই মেহেদীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।”

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, “গত ৬ মার্চ শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাবু রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। এরপর আমাদের কাছে তথ্য আসে, তুষার ও আলামিন পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে তুষারের বড় ভাইয়ের গদি ঘরের পেছনের ঘরে পুঁতে রেখেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তুষার পুলিশকে ব্যাপকভাবে মিস গাইড করে। এ সময় সে নিজেকে আড়াল করতে কিছু কৌশলও গ্রহণ করে। এর মধ্যে মেহেদীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অন্য একটি সিম ঢুকিয়ে ভয়েস নকল করে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির নাটক সাজানো হয়।”

তিনি বলেন, “আমাদের মিস গাইড করে ঢাকা, মিরপুর ও যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত নিয়ে যায়। সর্বশেষ আমাদের কাছে তথ্য আসে, তুষারই হত্যাকারী। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ কথা স্বীকার করে এবং আলামিন নামে আরেকজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দেয়। পরবর্তীতে আলামিনকে গ্রেপ্তারের পর সেও স্বীকার করে। পরে তাদের দেখানো জায়গার মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত ৬ মার্চ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে এসএসসি পরীক্ষার দুই দিন পর মেহেদী হাসান বাবুকে অপহরণ করে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মেহেদীর মা বাদী হয়ে তুষারকে প্রধান আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা করেন।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *