বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৯

বগুড়া সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইপিএল জুয়ার আসর জমজমাট

বগুড়া প্রতিনিধি, সাজেদুর আবেদিন-

বগুড়া সদর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আইপিএল জুয়ার আসর জমজমাট আকার ধারন করেছে। আইপিএল খেলা দেখা এখন শুধু নেশায় নয় জুয়ারুদের পেশা তে পরিণত হয়েছে। পরিশ্রম না হওয়ায় ও সময় কম লাগার কারণে , কু প্ররোচনায় পরে অথবা লোভের বশবর্তী হয়ে অনেকেই আইপিএল খেলাতে বাজি বা জুয়া ধরছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, যারা বাজি বা জুয়া ধরে তাদের অধিকাংশই স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র। জুয়ারুদের তালিকায় রয়েছে দিনমজুর, ড্রাইভার, কাঠমিস্ত্রী, রংমিস্ত্রী, দোকানের কর্মচারি, স্বর্ণ শ্রমিক সহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবি মানুষ।

যাদের অধিকাংশরই প্রতিদিনের রোজগার করা টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে।জুয়ারুরা তাদের জুয়া খেলার নিরাপদ স্থান হিসাবে বেছে নিয়েছে মনোহারি বা মুদিখানার দোকান গুলোকে বেছে নিয়েছে । আবার এসব মুদি দোকানিদের বিরুদ্ধেও রয়েছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। তারা নাকি বাজি বা জুয়ার টাকার পরিমাণের উপর কমিশনের টাকার ভাগিদার হয়ে থাকে।এদিকে জুয়ারুরাও আইন শৃংখলা বাহিনির ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে চতুরতার রাস্তা অবলম্বন করেছে । তাদের অনেকেই এখন বিকাশের নাম্বারে টাকা তুলে ঘরে বসেই মোবাইল ফোন কিংবা ফেসবুকের মাধ্যমে খেলছে জুয়া।জুয়ারুদের অনেকেই আবার এই গ্রুপটার নাম দিয়েছে “বড় পার্টি ”।

আবার যারা মুদি দোকান গুলোতে বসে জুয়াখেলছে তারাও সাবধানতা অবলম্বন করেছে কয়েকগুণ। তারা এখন আর হিসাব নিকাশ করার জন্য নিজেদের কাছে খাতা কলম রাখেনা। অনেকে আবার এসএমএস এর মাধ্যমে জুয়াতে নিজের অংশদারিত্ব বজায় রাখে। এদের জুয়া খেলাতেও এসেছে নতুনত্ব। এরা এখন আর পুরো ম্যাচ এর উপর জুয়া ধরেনা। এরা বাজি বা জুয়া ধরে বল,ওভার কিংবা উইকেটের উপর। যাতে করে পুলিশ অভিযান করলেও তাদের প্রমান সহ ধরতে না পারে। কারন তারা যে পদ্ধতি অবলম্বন করছে তাতে করে কোন পুলিশ সদস্য ছদ্মবেশে ঐ স্থানে পূর্বের থেকেই অবস্থান না করা পর্যন্ত এদের ধরা কঠিন। এতে করে একদিকে যারা বাজিতে হেরে যাচ্ছে তাদের অর্থ অপচয়, সামাজিক ও পারিবারিক কলহ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেনার পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরদিকে যারা বাজিতে জিতছেন তারা অবৈধ জুয়ার টাকার পাহাড় গড়ছেন।

বগুড়া সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে এই আইপিএল জুয়া চলছে পুরো দমে। তার মধ্য, বাশঁবাড়িয়া চতরা বিল সংলগ্ন ১টি দোকানে, দশটিকা কারিগরপাড়ার ২ টি দোকানে, ন্যাংড়ার বাজারের ১টি দোকানে, বড়কুমিড়া বাজারের ২ টি দোকানে , দশটিকা সরকারপাড়ার ১টি দোকানে, দানেজের খেলার মাঠ সংলগ্ন ১টি দোকানে, ঝোপগাড়ির ১ দোকানে, ধরমপুর বাজার এলাকার ১ টি দোকানে, বারপুর দক্ষিনপাড়া মোড় এলাকার ২টি দোকানে, ওলির বাজার এলাকার ১টি দোকান সহ মাটিডালী, নওদাপাড়া ছাড়াও বিভিন্ন দোকানগুলোতে খেলা দেখার ছলে অবাধে চলছে জুয়া খেলা ।

এব্যাপারে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,“ যেকোন জুয়ার ক্ষেত্রে সদর থানা পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। গতকালকেও ৩ জনকে আটক করা হয়েছিলো কিন্তু তথ্য প্রমান না থাকায় প্রাথমিকভাবে তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে
দেওয়া হয়েছে, তবে জুয়ারুদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে এবং চলবে ”।

উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, “ মাদকের মত জুয়াও একটি সামাজিক ব্যাধী, জুয়া রোধে আমরা যথেষ্ট কঠোর অবস্থায় রয়েছি, সঠিক তথ্য পেলে আমরা অভিযান চালাতে সর্বদা প্রস্তুত ”।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *