মঙ্গলবার, জুলাই ১৭

বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক –

ঝড়ের সময় বজ্রপাতে আজ সোমবার পৃথক স্থানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের সময় এক কৃষক এবং সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার একটি হাওরে ধান কাটার সময় আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে কৃষক ইয়াকুব আলীর (৪০) মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার নওপাড়া গ্রামের আরজ উদ্দিনের ছেলে। সকালে বেগুনের খেতে কীটনাশক প্রয়োগ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজী সুলতান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাত্র পাঁচ মিনিটের ওই ঝড়ে তাঁর এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ঝড়ের পর বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন জমিতে কাজ করছিলেন ইয়াকুব। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী আনোয়ারা বেগম জানান, ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৩০ নটিক্যাল মাইল। সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে ঝড় শুরু হয়। চলে ৮টা ২১ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় বজ্রসহ ভারী বর্ষণ হয়। সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর আর বৃষ্টি হয়নি। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রোদ ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালবৈশাখীতে আম, লিচুসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীর পবা, গোদাগাড়ী, বাঘা, চারঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে গাছপালা ভেঙে পড়া এবং কাঁচা ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গাছ ভেঙে পড়ে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে যান চলাচলও বন্ধ ছিল কিছু সময়।

রাজশাহীর ওপর দিয়ে কালবৈশাখী শুরুর পর গোটা শহর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। আবার ভারী বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকায় পানি জমে গেছে। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সকালের হঠাৎ ঝড়বৃষ্টিতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মস্থলমুখী মানুষকে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

রাজশাহী শহর থেকে পদ্মা নদী পার হয়ে পবা উপজেলার চরখিদিরপুরে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত ‘আলোর পাঠশালায়’ যান শিক্ষক রিপন আলী। তিনি জানান, স্কুলে যাওয়ার জন্য সকালে উঠে অন্ধকারে রাস্তা দেখতে পাচ্ছিলেন না। ঝড়ের কারণে নৌকা ছাড়তে পারেনি। তাঁরা পাঠশালায় যেতেও পারেননি।

এদিকে সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার একটি হাওরে বজ্রপাতে ইয়াহিয়া আহমদ (৪২) নামের আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন। ইয়াহিয়ার বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রায়পুর গ্রামে। তিনি ধান কাটা শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় এসেছিলেন।

পুলিশ জানায়, উপজেলার জামখোলা হাওরে আজ সকালে অন্যদের সঙ্গে ধান কাটতে যান ইয়াহিয়া আহমদ। এ সময় ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত হচ্ছিল। সকাল আটটার দিকে বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি উপজেলার দরগপাশা ইউনিয়নের বাঘেরকোনা গ্রামের আবদুস সোবহানের বাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বজ্রপাতে আহত হন আরেক শ্রমিক আবদুল্লাহ (৪০)। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বজ্রপাতে একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *