শুক্রবার, মে ২৫

বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে আরব আমিরাত !

রিজওয়ান মজুমদার(গিলবাট)নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলো। ২০১২ সালের পর হতে বাংলাদেশ থেকে বড় পরিসরে কর্মী যাওয়া বন্ধ ছিল দেশটিতে।

বুধবার (১৮এপ্রিল) দুবাইয়ে স্থানীয় সময় দুপুরে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তিতে সই করেছে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাত। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস এন্ড এমিরেটাইজেশন-এর আন্ডার সেক্রেটারি সাইফ আহমেদ আল সুআইদি স্ব স্ব দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী ১৯ টি ক্যাটাগরিতে (খাত) কর্মী যাবে দেশটিতে। অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্রে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার। ১৯৭৬ সাল থেকে এখ নপর্যন্ত দেশটিকে বাংলাদেশি কর্মী গেছে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৭ জন। ২০১২ সালের পর থেকে বড় পরিসরে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে দেশটি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৬ সালে আরব আমিরাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী গেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ২০৪ জন।

একইভাবে ২০০৭ সালে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৯২ জন, ২০০৮ সালে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ জন, ২০০৯ সালে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৮ জন, ১০১০ সালে ২ লাখ ৩ হাজার ২০৮ জন, ২০১১ সালে ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৩৯ জন এবং ২০১২ সালে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৫২ জন। ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম এই শ্রমবাজারে কর্মী যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। গত ৫ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩ সালে আমিরাতে কর্মী গেছে মাত্র ১৪ হাজার ২৪১ জন, ২০১৪ সালে ২৪ হাজার ২৩২ জন, ২০১৫ সালে ২৫ হাজার ২৭১ জন, ২০১৬ সালে ৮ হাজার ১৩১ জন এবং বিদায়ী ২০১৭ সালে মাত্র ৪ হাজার ১৩৫ জন। যাদের অধিকাংশই নারীকর্মী।

এ ব্যাপারে বিএমইটির ডিজি ড. সেলিম রেজা ও বায়রা সভাপতি বেনজির আহমেদকে কয়েকবার ফোন দিলে ও রিসিভ করেননি।

তবে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিবের বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের জন্য উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এ কমিটিকে কতিপয় সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক মাসের আলাপ আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে গতকাল দুবাইস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস এন্ড এমিরেটাইজেশন-এর দপ্তরে উভয় দেশের মধ্যে আলাপ আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে আসার পর সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর হয়। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই তা কার্যকর হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

সমঝোতা সই অনুষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনিস্ট্রি অব হিউম্যান রিসোর্সেস এন্ড এমিরেটাইজেশন-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নাসের আল হামলি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ সুজায়েত উল্ল্যা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক তারেক আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুবাই-এ নিযুক্ত কনসাল জেনারেল এস. বদিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সমঝোতা স্মারকটিতে বাংলাদেশ থেকে ১৯টি ক্যাটাগরির কর্মী নিয়োগের বিধান, পদ্ধতি, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য, কর্মীদের অধিকার, সুযোগ সবিধা, এমপ্লয়ারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, নিয়োগ চুক্তির বিধান ও পৃথক একটি বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ইত্যাদি উল্লেখ রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া আইনের আলোকে সমঝোতা স্মারকটিতে শ্রমিক, মালিক ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে। নিরাপদ, সুশৃংখল ও দায়িত্বশীল শ্রম অভিবাসনের লক্ষ্য অর্জনের বিষয় সমূহ বিবেচনায় রেখে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করা হয়।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *