বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬

বাংলার ঢাকা


বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকা। কেউ আবার বলে বায়ান্ন গলি তিপ্পান্ন রাস্তার শহর, কেউ বলে মসজিদের শহর, কেউবা বলে রিক্সার শহর। ভাস্কর্যের অতিমাত্রার ফলে কোন কোন সমালোচকরা বলে ওঠেন মূর্তির শহর। অবাস্তব হলেও সত্য এই সুক্ষ আগ্রাসন!

তবু যে যাই বলুক না কেন এই শহরের ইতিহাস – ঐতিহ্যের গভীরতা অনেকদূর। বাংলার রাজধানী ঢাকার রূপের কথা এই বিখ্যাত গানের মাঝেই ফুটে ওঠেছে
” ঢাকা শহর আইসা আমার আশা পুরাইছে,
লাল-নীল বাত্তি দেইখা পরান জুড়াইছে”

বুড়িগঙ্গার কূলঘেষে গড়ে ওঠা এই নগরীর দৃশ্য হরেক রকমের, নানান বৈচিত্রের। আমার চোখে দেখা এই শহরে যে দৃশ্যটা ভুলার মতো নয় তা হল জুমার দিন। মুসলমান জনগোষ্ঠীর বিশেষ ইবাদতের দিন, গরীবদের হজ্বের দিন। কেননা ঢাকার অলিগলিতে মসজিদের কোন অভাব নেই বললেই চলে। মুসাল্লিরও যে অভাব তা কিন্তু নয়। কমবেশি সব ওয়াক্তেই দেখি মুসাল্লি ভরপুর। এটা সত্যিই ভালো একটা দিক। একটু হাঁটলে কিছু পরপরই মসজিদের দেখা পাওয়া যায়।

আর জুমার নামাজের দিন এতো মুসাল্লি জমায়েত হয় যে, মসজিদ পুরে এবার পথ-ঘাট পর্যন্ত জায়নামাজ বিছিয়ে মুসাল্লিরা বসে যায়। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। পান্থপথের বাসায় থাকাবস্থায় বিভিন্ন মসজিদেই জুমার নামাজ পড়েছি। যেমন: শুক্রাবাদ মসজিদ, পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ, পূর্ব রাজাবাজার মসজিদ, পশ্চিম পান্থপথ মসজিদ, ফার্মগেট আমতলার বায়তুস সখিনা মসজিদ সবখানেই মুসাল্লির উপচে পড়া ভীড়। কেউ জায়নামাজ বিছিয়ে, কেউবা আবার পুরনো পত্রিকা বিছিয়ে, কেউ আছেন মসজিদ ও মাইকের ধ্বনির নিকটস্থ পাশ্ববর্তী দোকানের ভেতর জায়নামাজ বিছিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন।

অধিকাংশের জামা-পায়জামা, আর গড়ে সব মুসল্লির মাথার টুপি ; এই দৃশ্য দেখেই অনুভূত হয় তাওহিদী এক চোখ জুড়ানো পরিবেশের। এমনকি শহর-নগর পেরিয়ে গ্রামে-গঞ্জেও প্রতি সপ্তাহেই দৃশ্যমান হয় এই অপূর্ব পরিবেশের। যা আমাদের আশার আলো জাগায়। সোনার বাংলায় শান্তিপূর্ণ স্বপ্নিল দেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়। প্রতিদিনকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সুললিত আজানে চারদিক যেন প্রাণ ফিরে পায়। আচমকা মন হারায় অজানায়।

মুহিব্বুল্লাহ আল হুসাইনী
স্বর্ণনিকুঞ্জ ( পিত্রালয়)
মেটুয়া, হেসাখাল, নাঙ্গলকোট।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *