রবিবার, জুলাই ২২

বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)এর “ঐতিহাসিক ভ্রমণ”

ইসলামের ইতিহাস,সিএন নিউজ২৪.কমঃ
১. পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রজনীতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাকে আমার (কুদরতের) কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

[সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১ (তৃতীয় পর্ব)]
তাফসির : এ আয়াতে পবিত্র ইসরা ও মিরাজের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ। ইসরা হলো পৃথিবী থেকে পৃথিবীর অন্যত্র ভ্রমণ। আর পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বলোকে ভ্রমণকে মিরাজ বলা হয়। মিরাজ অর্থ সিঁড়ি। ইসলামের পরিভাষায় বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে যে অলৌকিক সিঁড়ির মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সপ্ত আসমানের ওপরে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই সিঁড়িকে মিরাজ বলা হয়। সাধারণত হিজরতের আগে একটি বিশেষ রাতের শেষ প্রহরে বায়তুল্লাহ শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত মহানবী (সা.)-এর ‘বোরাকে’ ভ্রমণ, অতঃপর সেখান থেকে অলৌকিক সিঁড়ির মাধ্যমে সপ্ত আসমান এবং সেখান থেকে আরশে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন ও আবার বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে বোরাকে আরোহণ করে প্রভাতের আগেই মক্কায় নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের ঘটনাকে ‘মিরাজ’ বলা হয়।

পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাঈলের প্রথম আয়াতে ‘ইসরা’ বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। আর সুরা নাজমের ১৩ থেকে ১৯ আয়াত পর্যন্ত মিরাজের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

এ ছাড়া ২৬ জনের বেশি সাহাবি থেকে বুখারি, মুসলিমসহ প্রায় সব হাদিস গ্রন্থে মিরাজের ঘটনাবলি বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং ইসরা ও মিরাজ অকাট্যভাবে প্রমাণিত একটি সত্য ঘটনা।
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) তাঁর তাফসিরে মিরাজ সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন—সত্য কথা হলো, নবী (সা.) ইসরা সফর জাগ্রত অবস্থায় করেন, স্বপ্নে নয়। তিনি মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস (মাকদিস) পর্যন্ত এ সফর ‘বোরাক’যোগে করেন। বায়তুল মুকাদ্দাসের দ্বারে উপনীত হয়ে তিনি ‘বোরাক’টি অদূরে বেঁধে নেন এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদে প্রবেশ করে কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। এরপর বিশেষ সিঁড়ির সাহায্যে প্রথমে প্রথম আসমান, তারপর অন্যান্য আকাশে যান। ওই সিঁড়িটির স্বরূপ সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। প্রতিটি আকাশে সেখানকার ফেরেশতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। ষষ্ঠ আকাশে মুসা (আ.) ও সপ্তম আকাশে ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। এরপর তিনি নবীদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো অতিক্রম করেন। পরে এক বিশাল ময়দানে গিয়ে ভাগ্যলিপি লেখার শব্দ শুনতে পান। এরপর তিনি ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ দেখেন। সেখানে আল্লাহর নির্দেশে সোনার ও নানা রঙের প্রজাপতি ছোটাছুটি করছিল। ফেরেশতারা স্থানটিকে ঘিরে রেখেছেন। সেখানেই তিনি একটি দিগন্তবেষ্টিত সবুজ রঙের পালকির মতো ‘রফরফ’ ও ‘বায়তুল মামুর’ দেখেন। বায়তুল মামুরের কাছেই কাবার প্রতিষ্ঠাতা ইবরাহিম (আ.) প্রাচীরের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। এই বায়তুল মামুরে দৈনিক ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন। যাঁরা একবার এখানে এসেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পুনরায় প্রবেশ করার সুযোগ নেই। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ চোখে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেন। সে সময় তাঁর উম্মতের জন্য প্রথমে ৫০ ওয়াক্তের নামাজ ফরজ করা হয়। পরে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়। এরপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে ফিরে আসেন। রাসুল (সা.) বোরাকে সওয়ার হয়ে অন্ধকার থাকতেই মক্কায় পৌঁছে যান।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *