রবিবার, জুলাই ২২

ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ, দুঃসহ সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে উপকুলবাসীকে

সিএন নিউজ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ–

আজ ভয়াল ২৯ শে এপ্রিল। ১৯৯১ সালের আজকের এই দিনে ‘ম্যারি এন’ নামক প্রলংকরী ঘূর্ণিঝড় লন্ড ভন্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার পূরো উপকূল।

লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। বিস্তৃর্ণ অঞ্চল ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছিল। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রতক্ষ্য করেছিল প্রকৃতির করুণ এই আঘাত। স্বজন হারানোর আর্তনাদে ভারি হয়ে ওঠে চারিদিকের পরিবেশ। প্রাকৃতিক দূর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি এদেশের মানুষ এর আগে আর কখনো হয়নি। পরদিন সারা বিশ্বের মানুষ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছিলেন ধ্বংসলীলা। আর্তনাদে কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক।

বাংলাদেশে আঘাত হানা ১৯৯১ সালের প্রলংকরী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৫০ কিমি (১৫৫ মাইল/ঘন্টা)। ঘূর্ণিঝড় এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরো বেশি। মারা যায় প্রায় ২০ লাখ গবাদিপশু। গৃহহারা হয় হাজার হাজার পরিবার। ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।

প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে। এই ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। ‘ম্যারি এন’ নামে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা আর পূরো উপকূল। উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি।

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের সেই দিন নিশ্চিত মৃত্যু পথ থেকে ফিরে আসা আবুল বশর জানান, আমি সেই দিনের কথা বলতে পারবো না সেই কথা মনে হলে নিজেকে অসহায় মনে হয় একটি নারিকেল গাছের সাথে নিজেকে পেচিয়ে সেই দিন জীবন বাঁচিয়ে ছিলেন তিনি। নিজের চোখে দেখেছেন তার স্ত্রী সন্তান ভেসে যেতে মৃত্যু কোলে। কিছুই করার ছিল না সেই দিন। শুধু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন আর কান্না করেছিলেন।

মগনামার বাসিন্দা লোকমান জানান, আমার পরিবারের ৮ জন হারিয়েছি এই তুফানে। এ কথা মনে হলে চোখে পানি এসে যায়। ঠিক এমনি ভাবে ২৬ বছরেও ক্ষত কাটিয়ে ওঠতে পারেনি উপকুলের মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, রেডক্রিসেন্ট কক্সবাজার জেলা ইউনিটের সদস্য ও পেকুয়ার টীম লিডার এম. মন্জুর আলম। তিনি বর্ণনা করছিলেন সেই দিনের কথা।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *