মঙ্গলবার, জুলাই ১৭

“মা এক স্নেহর অাধার” মাসুম সরকার অালভী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
মা নামক শব্দটি উচ্চারণ করলেই শরীরের ভিতরে বরফ শীতল অনুভূত হয়।কবির ভাষায়, মা কথাটি ছোট্র অতি কিন্তু যেন ভাই, এর চেয়ে নামটি মধুর ত্রিভুবনে নাই ।মায়ের গুনগান, মায়ের ভালবাসা, মায়ের স্নেহ মমতা, সন্তানেন জন্য মায়ের দরদ,মায়ের প্রতি সন্তানদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্মান ভালবাসা। হাজারো কবি সাহিত্যিকরা মাকে নিয়ে লিখেছেন প্রবন্ধ,কবিতা, উপন্যাস কতশত উক্তি। মা বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। জীবনে যতবার ব্যর্থ হয়েছি আত্ময় স্বজন বন্ধু বান্ধবী সকলের চোখ মুখ কালো দেখেছি কিন্তু মার মুখে এক ফালি হাসি দেখেছি। বাসায় ফিরলেই বলতো পাগল ছেলে আমার ব্যর্থ না হলে সফলতার স্বাদ পাওয়া যায় নারে । সেই থেকে নতুন করে কাজের অনুপ্রেরণা পাই। তাই বলি ভালবাসার আরেক নাম মা।মা বৃক্ষের মতো। বৃক্ষের যেমন সূক্ষ্মবুদ্ধি , উদারহৃদয়, মাটির রস টেনে নিয়ে কাজ সমাপ্তি নয়। তাকে পথচারীকে ছায়া দিতে হয় ফুল ফুটাতে হয় ফল ধরাতে হয়। আর বৃক্ষের প্রাপ্তি তো এটাই। আর মার সন্তান জম্ম দেয়াই কাজ শেষ নয়।সন্তানকে অাড়াই বছর দুধ পান করান। দিনরাত পরিশ্রম করে সন্তানকে লালন পালন করেন। বড় করে তোলেন। আর এটাই যেন মার প্রাপ্তি।

আমরা বন্ধু-বান্ধবীকে নানাভাবে খুশি করার চেষ্টা করি কিন্তু মা নামক বৃক্ষটিকে কতবার খুশি করার চেষ্টা করেছি? আসলে তাদের খুশি করার কথাছিল যারা সারা জীবন নিজে কষ্ট করে আমাদের খুশি রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমরা তার ঠিক উল্টো পথে চলছি। অফিসের বসকে দেখলে নমনম করি কিন্তু মার ক্ষেত্রে তা হয় না। আমাদের কাছ থেকে মা সবচেয়ে সম্মান পাওয়ার যোগ্য।বর্তমানে মাকে তুই বলা অনেকটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গালি গালাজ দেওয়া ও বাদ থাকে না।কিন্তু তাদের সাথে আমাদের মার্জিত ভাষায় নিচু স্বরে কথা বলা উচিৎ। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম কাজ হলো সত্য বলা। আমাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষের কাছে সত্য বলা প্রয়োজন। আর মা সবচেয়ে প্রিয়। মার এই ভালবাসার মূল্যায়ন করা সকল সন্তানের কর্তব্য।আজ কালের ছেলে মেয়েরা মা কোন নিষেধ করলে রেগে বসে। তাদের কথা কল্যাণকর হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু ভুল হলে শান্তও হাসিমুখে বুঝাতে হবে। আর মা সারাদিন কষ্ট করে রান্না করেছেন কিন্তু একবার কি বলি স্বাদ হয়েছে। সুন্দর শাড়ি পরলে প্রশংসা তো করিই না। সন্তানের সামান্য প্রশংসা মাকে খুশি করার জন্য যথেষ্ট। একজন দায়িত্ববান সন্তান হিসেবে মার অপছন্দের কাজ থেকে দূরে থাকা। একজন মা কখনো চান না তার সন্তান দেরি করো বাসায় ফিরবে,সিগারেট বা নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া, অযথা টাকা নষ্ট করা, কোথায় যাচ্ছেন কি করছেন। এই সকল অপছন্দ কাজ গুলো পরিহার করা। আমরা কখনো চিন্তা করেছি কি মা কোন দিন বাসার কাজে ছুটি নেন না। পরিবারের জন্য নিরলস কাজ করে যান। আললে মাকে নিয়ে মাঝে মাঝে বেড়াতে যাওয়া, বিনোদন বিশ্রামের ব্যবস্তা করা।

মা যখন কাছে থাকেন তখন এ বিষয় গুলো চোখে পরে না তেমন। কিন্তু মা দূরে গেলে, সন্তান বলে উঠে, জানো মা, এখন তোমাকে খুব মিস করি। সারাদিন ক্লাস শেষে হলে ফিরি তখন খুঁজতে থাকি তোমাকে। তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। কতদিন আগে তোমাকে স্বপ্নে দেখেছি। মনে পড়লে প্রচণ্ড কান্না পায়,তাই সবসময় পড়াশোনা ডুবে থাকার চেষ্টা করি। তবু মাঝে মাঝে নিজের অজানতে কান্না করি। জানো মা, সবার থেকে লুকিয়ে কান্না করি। কেন জানো, কেই যদি তোমাকে বলে দেয়। তাহলে তো তুমি ও কাঁদবে । আমি জানি, আমার জন্য তুমিও খুব কাঁদো তবু না জানার অভিনয় করে ভুলে থাকি। বিশ্বাস কর মা, চোখ দিয়ে যে এতো অশ্রু ঝরতে পারে, বাসার বাইরে না থাকলে জানতাম না। অনেকের কাছে শুনতাম, বিশ্বাস হতোনা মা তুমি কিন্তু আমার জন্য কাঁদবে না। আমি ও আর কাঁদব না।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *