শুক্রবার, আগস্ট ১৭

ম্যাচ জিতে সাকিবদের প্রশংসা করে যা বললেন কেন উইলিয়ামসন!

অনলাইন ডেস্ক-

টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপূণ্যে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৫ রানে হারিয়ে আইপিএলের এবারের আসরের প্রথম দল হিসেবে প্লে অফে জায়গা করে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।
ম্যাচ শেষে পুরুস্কার বিতরণীতে সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন বলেনঃ
আমাদের খেলা গুলো কঠিন সব পিচে হচ্ছে, এবং আজকের ম্যাচের পিচও ব্যাট করার জন্য বেশ কঠিন ছিল। আমরা টার্গেট করেছিলাম যেন ১৫০ রানের কাছাকাছি করতে পারি, এবং আমরা পেরেছি। আজকের ম্যাচে আমাদের বোলিং ফিল্ডিং কিছুটা
দুর্বল ছিল। আমাদের ফিল্ডিং ভাল হলে হয়ত আমরা আরও ভাল করতে পারতাম। এত কিছুর পরেও আমরা জয় পেয়েছই কারন শেষ পর্যন্ত জয় পেতে আমাদের অভিজ্ঞ প্লেয়াররা যেমন সাকিব এবং ভুবেনেশ্বর বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

ভুবি এবং কউল বরাবরের মত এ ম্যাচেও শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং করেছে। আশা করি শেষ ওভার গুলোতে তারা আগামী ম্যাচ গুলোতেও ভাল করবে। অনেক গুলো মাঠে খেলা হয় এবং সব মাঠের সাথে মানিয়ে নেওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
আমরা প্লে অফের কথা ভাবছি, সাথে সাথে আমাদের খেলায় কি উন্নতি করা যায় তাও ভাবছি। তবে আমি আমাদের দলের খেলা নিয়ে বেশ গর্বিত। এবং এই ভাল খেলা চালিয়ে যেতে চাই।

বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে গুরুতবপূর্ণ সময়ে ব্যাট হাতে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সাথে ৬৪ রানের জুটি গড়ার পর, বল হাতে পার্থিব প্যাটেল ও ভিরাট কোহলির উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন সাকিব। নিজের ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন এই টাইগার অলরাউন্ডার।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দেয়া ১৪৭ রানের মাঝারি লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বেঙ্গালুরুর। তারা দলীয় ২৪ রানে ওপেনার পার্থিব প্যাটেলের উইকেট হারায়। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ২০ রান করে সাকিব আল হাসানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে আউট হয়েছেন।

তারপর অধিনায়ক ভিরাট কোহলিকে নিয়ে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন ওপেনার ভোহরা। তবে, ৮ রান করা ভোহরাকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন হায়দ্রাবাদের পেসার সন্দিপ শর্মা। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা বেঙ্গালুরু দলপতি কোহলিকে সাকিব নিজের দ্বিতীয় শিকার বানালে চাপে পড়ে দলটি।
সেই চাপ সামলাতে না পেরেই দ্রুত সাজঘরে ফেরেন এবি ডি ভিলিয়ার্স ও মঈন আলী। শেষ দিকে মানদীপ সিং ও গ্রেন্ডহোম বেঙ্গালুরুকে প্রায় জয়ের বন্দরে নিয়ে গিয়েছিলেন।জয়ের জন্য তাদের শেষ ওভারে দরকার ছিলো ১২ রান।

ভুবনেশ্বরের করা শেষ ওভারের প্রথম ৫ বলে ৬ রান তুলে নিলেও ইনিংসের শেষ বলে ৩৩ রান করা গ্রেন্ডহোমকে বোল্ড হলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানে থামে বেঙ্গালুরুর ইনিংস। ফলে জয় নিশ্চিত হয় হায়দ্রাবাদের।
এর আগে, রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমেছিলো হায়দ্রাবাদ। তবে দলীয় অর্ধশতকের আগেই টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদের মুখে পড়তে হয় হায়দ্রাবাদকে।

এরপর অবশ্য চতুর্থ উইকেট জুটিতে হায়দ্রাবাদ দলপতি কেন উইলিয়ামসন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়ে এই বিপর্যয় সামাল দেন। উইলিয়ামসন মাত্র ৩৫ বলে অর্ধশতক তুলে নেয়ার পর ৫৬ রান করে আউট হয়েছেন।
টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ৩২ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেছেন। সাকিবের ফিরে যাওয়ার পরই শুরু হয় হায়দ্রাবাদ ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়া। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৬ রানে অল আউট হয় হায়দ্রাবাদ।

বেঙ্গালুরুর হয়ে প্রত্যেকেই দারুণ বল করেছেন। ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে দলের সেরা বোলার মোহাম্মদ সিরাজ। টিম সাউদিও ৩০ রান খরচায় ৩ উইকেট পেয়েছেন। ১ টি করে উইকেট দখল করেছেন উমেশ যাদভ ও জুযবেন্দ্রা চাহাল।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (একাদশ): অ্যালেক্স হেলস, শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), মনিশ পান্ডে, সাকিব আল হাসান, ইউসুফ পাঠান, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), ভুবনেশ্বর কুমার, রশিদ খান, সিদ্ধার্থ কউল, সন্দীপ শর্মা।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (একাদশ): পার্থিব প্যাটেল, মানান বোহরা, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), এবি ডি ভিলিয়ার্স, মানদীপ সিং, মঈন আলী, কলিন দ্য গ্র্যান্ডহোম, টিম সাউদি, উমেশ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ, জুযবেন্দ্রা চাহাল।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *