বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬

রমজান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে!

সিএন নিউজ ধর্ম ও জীবন ডেস্কঃ- 

রমজান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে, দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে, আর বিতাড়িত শয়তানকে করা হবে শিকলবন্দি।
রামাদান— তাকওয়া অর্জনের মাস। আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসেই আত্মাকে দিতে হবে প্রশিক্ষণ। যত ব্যথা, যত বেদনা আছে অন্তরে, আছে যত ঘৃণ্য কালো দাগ, সব পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মাসের নাম ‘রামাদান’।

রামাদানের প্রস্তুতি তো শেষ। ঘরদোর গুছিয়ে, ফ্রাইফুডে ফ্রিজ ভর্তি করে একদম তৈরি। কিন্তু শুধু রোজা রাখা আর কুরআন পড়াটাকে তাকওয়া অর্জন বলে কি? আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের জন্য আমলের সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা শর্ত তো আছে। আর তা হচ্ছে— গোনাহ বর্জন। গোনাহ পরিত্যাগ করা ছাড়া পিওর অন্তরের অধিকারী হওয়া অসম্ভব!

তাই এ মাসেই আত্মাকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সুস্থ করে তুলতে হবে অসুস্থ অন্তর। যেভাবে কিছু গোনাহ অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে, সেভাবে গোনাহ না করাটাকে অভ্যাসে পরিণত করে তুলতে হবে। আর ‘আমি রোজাদার’ এ কথা চিন্তা করে এ মাসেই সেটা সহজে সম্ভব। একদম সহজে!
অনেকেই বেশিরভাগ সময় গোনাহ করেন কোনো কারণ ছাড়া। শুধু অভ্যাসের কারণে। অভ্যস্ত বলে। আর অভ্যস্ততার কারণে সবচেয়ে বেশি যে গোনাহগুলো করতে দেখা যায় তা হলো— জবানের গোনাহ। মিথ্যা, গীবত, কটুবাক্য ইত্যাদি।

১. মিথ্যা

মিথ্যা সম্পর্কে বুখারী শরীফের হাদিসে আছে কেউ যদি মিথ্যা কথা বলা ও খারাপ কাজ পরিত্যাগ না করে তবে তার শুধু পানাহার ত্যাগ করা অর্থাৎ উপবাস ও তৃষ্ণার্ত থাকা আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
আর আল্লাহ নিজে বলেন— ‘মিথ্যাববাদীদের উপর আল্লাহর লানত।’

২. গীবত।
পরনিন্দা করা মানে রোজা রেখে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া। কল্পনা করে দেখুন! কত নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য একটা কাজ! আল্লাহ মাফ করুন। সূরা হুজরাতে আমাদের মহান রব বলেন— তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে, তোমাদের কেউ কি চায় যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে? তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই করে থাকো’।
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— ﺍﻟﻐﻴﺒﺔ ﺃﺷﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺰﻧﺎ “গীবত ব্যভিচার থেকেও নিকৃষ্টতর।” কতটা খারাপ কাজ চিন্তা করুন, নিকৃষ্ট কাজের চেয়েও নিকৃষ্ট!

৩. রাগ ক্ষোভ।
এটা ধৈর্য্যের মাস। আর ধৈর্য্যের ফলাফল হলো বেহেশত! অথচ কেন জানি রামাদানেই মানুষকে রাগতে দেখা যায় বেশি। ক্ষিধে পায় বলে হয়তো। কিন্তু এ কি সংযম হলো? রাগ-ক্ষোভ যতটা না সম্পর্ক নষ্ট করে তার চেয়ে নিজের অন্তরকেই আহত করে বেশি! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— ﻻ ﺗﻐﻀﺐ (তোমরা রাগান্বিত হইয়ো না)।
তিনি আরো বলেন— ﻻ ﺗﺒﺎﻏﻀﻮﺍ (তোমরা একে অপরকে ঘৃণা করো না, তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইয়ো না)।
এরকম যত ব্যাধি আছে অন্তরে সব ছাড়তে হবে এ মাসেই। হিংসা, লোভ, অহংকার, লৌকিকতা, সব!
একটা গোনাহ মানেই তো আমার অবস্থান আরেকটু নীচ হয়ে যাওয়া। একেকটা গোনাহ মানেই— একেকটা নিচের লেভেলে পতিত হওয়া। অথচ সফল মানুষ তো উপরে উঠে। আর কে না চায় সফল হতে! চিরস্থায়ী সফলতা কার না কাম্য? তবে কেন নিচে নামছি আমরা?! যা চাই তার উল্টো কেন করছি!

তার চেয়ে এই রামাদানেই একটা তালিকা তৈরি করি, সবগুলো গোনাহতে ক্রস চিহ্ন। তারপর প্রতিদিন হিসেব রাখি আজ কোনো পাপ হলো কিনা! কোন পাপটা সাবধান হওয়ার পরও হয়ে যাচ্ছে! খুব মনোযোগ দেই এ বিষয়ে। তারপর দেখা যাবে নিজেই নিজের আত্মাকে আশ্চর্য এক রূপে আবিষ্কার করবো। দেখবো আমাদের আত্মায় আল্লাহ চাইলে তেমন ভয়ঙ্কর কোনো ব্যাধি নেই! ইনশাআল্লাহ আমাদের নফস হবে— ‘নাফসুল মুতমায়িন্না’।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *