শনিবার, আগস্ট ১৮

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রের সভায় সংঘর্ষের পর ইউনিয়নের কার্যক্রম বাতিল

এম এম এইচ রায়হানঃ-

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মতবিনিময় সভায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আন্দোলনরত কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন।
পরে মেয়র বুলবুল রাসিক কর্মচারী ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে নগর ভবনের নিচতলায় সভা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
১১ দফা দাবিতে রাসিকের দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে নগর ভবনের নিচতলায় ওই সমঝোতা সভা চলছিল।
আহতদের মধ্যে তিনজন মেয়রের পক্ষের এবং অন্য তিনজন কর্মচারী ইউনিয়নের। মেয়র পক্ষের আহতরা হলেন- মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মো. টুটুল এবং রাসিকের সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর নুরুন্নাহার বেগম ও মুসলিমা বেগম বেলী। কর্মচারী ইউনিয়নের আহতরা হলেন- উপদেষ্টা সুমন হোসেন ও জালাল উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম লাবু।
মেয়র পক্ষের আহত তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও কর্মচারী ইউনিয়নের তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের ১১ দফা দাবি নিয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে বিকেলে মেয়র বুলবুল কাউন্সিলর ও স্থায়ী কর্মচারীদের সঙ্গে সভা করছিলেন।
সভায় ২২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকার টেকন বলেন, কর্মচারীরা করপোরেশনের গেট ও নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র চিড়িয়াখানা এবং কেন্দ্রীয় উদ্যানের মূল ফটকে তালা দিয়ে যে আন্দোলন করছিলেন, তা জঙ্গি আন্দোলন। তাদের দরকার ছিল, গঠনতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করা। এভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অধিকার তাদের নেই।
তার এ বক্তব্যে বিক্ষুব্ধ হয়ে তা প্রত্যাহারের জন্য বলেন কর্মচারীরা। এ নিয়ে এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়র বুলবুল রাসিক কর্মচারী ইউনিয়ন ও তাদের সকল কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, অস্থায়ী কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে তিনি স্থায়ী কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এতেই শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা হামলা চালান। এ হামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন মেয়র।
তবে রাসিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহমেদ মামুন অভিযোগ করেন, ওই সভায় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল হানিফ সরকার টেকন আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ‘জঙ্গির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কর্মচারীদের এ আন্দোলন জঙ্গিদের মতো। তার এ কথারই প্রতিবাদ করেছিলেন ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম লাবু।
এক পর্যায়ে কাউন্সিলর টেকনসহ মেয়রের অনুসারী অন্য কাউন্সিলর ও কর্মচারীরা অস্থায়ী কর্মচারীদের মারপিট শুরু করেন।
রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, নগর ভবনে সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উত্তেজনা থাকায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *