সোমবার, অক্টোবর ১৫

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর মূল কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


শরীফ উদ্দিন ভুইঁয়া♦রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর মূল কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাবনা শহরের অদূরেই ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরের প্রকল্পটিতে তিনি আজ বৃহস্পতিবার পারমাণবিক চুল্লী স্থাপনের জন্য প্রথম ঢালাইয়ের মাধ্যমে মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহুল প্রত্যাশিত প্রকল্প-রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড গড়বে প্রকল্পটি।

পাবনা শহরের অদূরেই ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরের মাটিতেই ধাপে-ধাপে এগিয়ে চলেছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ।

২০১৩ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিক পর্যবেক্ষণ ও যাবতীয় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর এরই মধ্যে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের জন্য পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনাপত্তির নির্দেশনা পেয়েছে প্রকল্পটি।

বৃহস্পতিবার প্রকল্পটিতে রি-অ্যাক্টর স্থাপনের জন্য মূল নির্মাণ কাজ- অর্থাৎ ফার্ষ্ট কনক্রিট পৌরিং ডেবা এফসিডি করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রণালয় বলছে প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে ৩২তম সদস্য দেশ হিসেবে নিউক্লিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান এ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ভারপ্রাপ্ত সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লাইফ যেখানে সর্বোচ্চ ২৫ বছর হয় সেখানে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের আয় ৬০-৮০ বছর পর্যন্ত হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম প্রকল্পটিতে কারিগরি ও নির্মাণ সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বর্জ্য বা স্পেন্ট ফুয়েল রাশিয়া ফেরত নিতে চুক্তি হওয়ায় পরিবেশগত কোনো ঝুঁকি থাকছে না বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরী বলেন, আমাদের সবারই দেশ প্রেম আছে। সুতরাং আমরা এমন কোনো কাজে হাত দেবনা। যেটা মানুষ, প্রতিবেশী, পরিবেশ কোনটারই ক্ষতি হয়।

আর্থিক বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। যার মধ্যে ৯০ শতাংশ বা ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা রাশিয়া ঋণ হিসেবে দিলেও, বিপুল পরিমাণ এই অর্থ পরিশোধে দেশ কোনো চাপে পড়বে না বলেন বিজ্ঞান এ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ভারপ্রাপ্ত সচিব আনোয়ার হোসেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দুটি ইউনিট থেকে ২০২৩ সাল নাগাদ ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *