সোমবার, অক্টোবর ১৫

“শাড়িতেই নারী নয়” শারমিন আক্তার ইতি

শাড়িতেই নারী হয় এ কথা কতটুকু সঠিক সেটা আমার জানা নেই,
আজ কোন এক শ্রদ্ধেয় বড়ভাই এক কথার প্রসঙ্গে বললেন ” বাঙ্গালী মেয়েরা শাড়ি পরতে পারেনা তাদের লজ্জা হওয়া উচিত” আমি ভাইয়াকে যথেষ্ট সম্মান করি কিন্তু ওনার এই উক্তির সাথে সহমত পোষন করতে পারলামনা বলে দুঃখিত,
তবে কি শুধু শাড়ি পরলেই বাঙ্গালী হওয়া যায়?

আসলে নারীর বাঙ্গালীপনা কখনো শুধুমাত্র শাড়ির উপরে বিচার করা হয়না, শাড়ি পড়তেই হবে এমন কোন বাধ্যবাদকতা কোনো পুস্তকে লিপিবদ্ধ নেই, একজন নারীকে শুধু শাড়িতেই বিচার করা যায়না, তবে হ্যাঁ শাড়িতে নারীকে তুলনামূলকভাবে সুন্দর দেখায় অন্যান্য পোষাকের চেয়ে এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই, তার মানে অন্যান্য পোষাকেও তুচ্ছ করা যাবেনা, আসলে বাঙ্গালীপনা আর যাই বলেন না কেন একটা নারীর পোষাক যদি রুচিশীল হয় তবেই তাকে দেখতে ভালো দেখাবে হোক সেটা শাড়ি /সেলোয়ার কামিজ কিংবা অন্যকিছু , আপনার বাঙ্গালীপনা আনতে হবে রুচিশীলতায়, শালীনতায়, শিষ্টাচার কিংবা নমনীয়তায়।

শাড়ি পরে যদি তিন ইন্ঞ্চি ব্লাউজ পরে পেট পিঠের তিনভাগের আড়াইভাগই খোলা রাখে তবে সেই শাড়িতে আপনি কোন বাঙ্গালীপনা খুজেঁ পাবেন? তার থেকে পেট পিট ঢাকা সেলোয়ার কামিজই ভালো নয় কি? হ্যাঁ আসল কথা হচ্ছে যে যেই পোষাক পরে সাঁচ্ছন্দ্যবোধ করে সেটাই দেখার বিষয়, তবে আমাদের কিছু বাঙালী নারীরা বিদেশী অপসংস্কৃতিকে অনুকরণ করতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদেরকে অতি অল্প দরের সস্তা করে ফেলছে সেটা একান্তই তাদের নিজেদের ব্যাপার, তবে আমি বলবো মেয়েদের পোষাকটা এমন হওয়া চাই যেই পোষাকে দেখতে তাকে দৃষ্টিকটু লাগবেনা। অন্তত রুচিশীল একটা পরিবেশে যেন নিজেকে অন্যদের কাছে চোখের ধর্ষনে তুলে না ধরা হয়। এর জন্য কিন্তু আমরা নিজেরাই ভোক্তভোগী, একটা মানুষ নামের অমানুষ যখন একটা মেয়ের গায়ের থেকে কাপড় টেনে খুলে নেয় তখন কিন্তু শাড়ি কিংবা সেলোয়ার দেখে খোলেনা, লোভনীয় নজরটা তাকে আকৃষ্ট করে অশালীন পোষাকের দিকে,
আমি অতটা শজ্জাশীল নয় বলে ‘শাড়ি পরতে না পারাটাকে লজ্জা বলে মেনে নিতে পারলাম না এর সাথে শাড়ি পরতে পারাটাকেও গর্বের বলে মনে করিনা,

কেননা এখন মেয়েরা শাড়ি পরতে পারলেও পরেনা, বিউটিশিয়ানদের কাছে চলে যায়, হাতেগোনা ২/১জন নিজে নিজে পরে, তাই পরতে পারা না পারা একই সমান, এখানে জাতি কাউকে লজ্জিত করতে পারেনা, আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত অশালীন পোষাক পরাতে, লজ্জিত হওয়া উচিত বারো হাত শাড়ির বাহিরে একইন্ঞ্চি ফিতাটা বের করে রাখাতে, লজ্জা পাওয়া উচিত নিজের নারীত্বের সম্মান ভুলে গিয়ে কাক হয়ে ময়ূর সাজার অপচেষ্টা করাতে,
আমরা লজ্জিত আমরা বাঙিলী বলে নয়, আমাদের মানসিকতার অবনতির দেখে আমরা লজ্জিত, যেখানে বাংলা ভাষা দিবসেও ইংরেজিতে গান বাজিয়ে মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।
সেই দেশে বাঙালিপনার দাবি জানানো বড় হাস্যকর বিষয়, জাতি আজ সত্যিই ঘুমের ঘোরে নিমজ্জিত আর আমরা তো নিরব দর্শক মাত্র।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *