মঙ্গলবার, জুলাই ১৭

শিক্ষা ব্যবস্থায় এতো অব্যবস্থাপনা কেন?

সিএন নিউজ শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদনঃ–

বলা হয়ে থাকে সকল সেক্টরের মূলে শিক্ষা সেক্টর। এই সেক্টরই দেশের জনগনকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারে। দিতে পারে দক্ষ জনশক্তির যোগান। আরো বলা হয়ে থাকে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। আর একটি উন্নত জাতির দ্বারা তাঁর ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা সম্ভব। তা যদি হয়, তবে পৃথিবীর বুকে সেই জাতিটি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
এখন কথা হচ্ছে উপরের কথাগুলো যদি সত্য হয়, আমরা যদি কথাগুলো মেনে নেই, তাহলে মনে প্রশ্ন জাগে স্বাধীনতার সাঁতচল্লিশ বছর পরেও এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এতো অব্যবস্থাপনা কেন?

দেখা যায়, স্কুল, কলেজ, মাদরাসাগুলোতে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের অনুপাত খুবই অযৌক্তিক, হাস্যকর। শিক্ষার্থীর তুলনায় উপযুক্ত ক্লাসরুম, শিক্ষা উপকরণ খুবই অপ্রতুল, সীমিত। শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও সুযোগ সুবিধাসমুহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি পেশার তুলনায় অনেক কম, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হতাশাজনক, এমনকি উপহাসের সামিল। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা দূর্বল, শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা অস্বচ্ছ ও প্রশ্নবিদ্ধ। গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে অনার্স-মাস্টার্সে পাঠ দানের অনুমোদন দে’য়া হলেও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দে’য়া হচ্ছে না। আর যাদেরকে নিয়োগ দে’য়া হচ্ছে তাদের বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসমুহ প্রদানের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা জর্জরিত।

বলা হয়ে থাকে, শিক্ষকতা মহান পেশা, মহৎ কাজ। যদি তা সত্য হয়, তাহলে মহৎ কাজে নিয়োজিতদের কেন এতো অবহেলা? আজ প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে এ দেশের শিক্ষকরা বার বার আমরণ অনশনে যাচ্ছে কেন? দেশের কর্ণধাররা শিক্ষকদের প্রাণের দাবিগুলো শুনে সুপরিকল্পিত ভাবে যথা-উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে কেন এতো টালবাহানা করছেন? কেন বার বার দিচ্ছি, দিব, বলে মূলা ঝুলিয়ে রাখছেন?

মাঝেমধ্যে দেখা যায়, কখনও পাঁচ শতাংশ, কখনও বৈশাখী ভাতা ইত্যাদির আশ্বাস দিয়ে যেন শিক্ষকদের করুণা করা হচ্ছে, শান্ত্বনা দেয়া হচ্ছে। যেন শিক্ষকদের ভিক্ষার থলেতে একটা দিয়ে বিদায় করা হচ্ছে। যা অস্বস্থিকর, অপমানজনকও বটে।

এ সমস্ত জোড়া তালি মার্কা সমাধান না দিয়ে বরং জাতির সার্বিক কল্যানের কথা বিবেচনা করা দরকার। দেশের জনগনকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে সত্যিকার অর্থে শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা সহ যাবতীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যাসমুহ চিহ্নিত করতে হবে।

প্রয়োজনে জাতীয় সংসদে আলোচনা সাপেক্ষে সর্ব্বোচ্চ বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান সমস্যা দূরীকরণের মাধ্যমে শিক্ষাকে সার্বিক উন্নয়নের ধারক ও বাহক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই এ স্বাধীন দেশ একদিন বিশ্বমানচিত্রে মাথা উঁচু করে উন্নত বিশ্বের তালিকায় দাঁড়াতে পারবে।

লেখক : শামীম আহমদ, প্রভাষক

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *