মঙ্গলবার, জুলাই ১৭

সারাদেশে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান সন্ধ্যার আগে শেষের নির্দেশ

সিএন নিউজ ডেস্কঃ-

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার অনুষ্ঠান সন্ধ্যার আগে শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ দিয়ে মুখ ঢাকা ও ভুভুজেলার মতো তীব্র শব্দ তৈরির যন্ত্রের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি সম্ভব হলে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর তাগাদাও দিয়েছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী।

সিলেট মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। শুক্রবার (১৩ এপ্রিল) রাত থেকে মহানগরজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালাবে পুলিশ। পাশাপাশি মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বসানো হবে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব (গণমাধ্যম) জানান পুলিশের দেওয়া নির্দেশনা শনিবার (১৪ এপ্রিল) রাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তিনি জানান বর্ষবরণের দিন সিলেট মহানগরীতে মোটরসাইকেলে চালক ছাড়া আর কাউকে বহন করা যাবে না। তবে স্বামী-স্ত্রী চলতে পারবেন। দলগতভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি বা যান চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। সিলেট মহানগর এলাকায় কোন ধরনের আতশবাজি, পটকা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রং ছিটানো যাবে না।

রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, বর্ষবরণের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে মহানগর পুলিশ। বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শনিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নগরীতে মাইকিং করা হচ্ছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রায় কোনও ধরনের মুখোশ ব্যবহার করা যাবে না। মুখোশ ব্যবহার করে যাতে কেউ কোনও ধরনের অঘটন না ঘটাতে পারে সেজন্য এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক এস এম আব্দুল কাদের বলেন, লাঠির ওপর মুখোশ ঝুলিয়ে ব্যবহার করা যাবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপ কমিশনার (পশ্চিম) আমির জাফর বলেন, বর্ষবরণ উপলক্ষে এবার মহানগর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বড় অনুষ্ঠানগুলোতে পুলিশ নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং শহরের ছোটখাটো অনুষ্ঠানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ পুলিশ, র্র‌্যাব ও আনসার বাহিনী নজরদারি করবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক এবং সম্ভব হলে সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রাজশাহী নগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ রকিবুল হাসান ইবনে রহমান বলেন, নববর্ষ উপলক্ষে সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বড় আকারের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। আর বিকালে পদ্মা নদীর পাড়ে উৎসবমুখর মানুষের ঢল নামে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে দুই স্থানেই বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এজন্য নগরীর পুলিশ লাইনে রিজার্ভে থাকা অনেক পুলিশ সদস্যকে ওই দিন মোতায়েন করা হবে।

খুলনা প্রতিনিধি জানান, বর্ষবরণ উপলক্ষে মহানগরীতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, জেলা প্রশাসন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবে পুলিশ। একাধিক টহল টিম শিববাড়ী মোড় হাদিস পার্ক, জাতিসংঘ পার্ক, গল্লামারী, রূপসা সেতু ও বাইপাস এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। জাতিসংঘ শিশু পার্ক এলাকায় জনসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এ জন্য যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হবে।

তিনি বলেন, র্র‌্যালি বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে মুখোশ, ভুভুজেলা ব্যবহার করা যাবে না। ভারি পোটলা, রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও বিস্ফোরক বহন করা যাবে না।

নববর্ষের দিন সন্ধ্যার মধ্যে উন্মুক্ত সব অনুষ্ঠান শেষ করার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ চাইলে সন্ধ্যার পর ইনডোরে অনুষ্ঠান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আয়োজকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়েও বর্ষবরণের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দিনব্যাপী নানা আয়োজন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকবে বৈশাখী মেলা। ক্যাম্পাসে মেলা চলাকালে দুপুর থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত গল্লামারী টু জিরোপয়েন্ট সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *