সোমবার, অক্টোবর ১৫

সালমানের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি!

অনলাইন ডেস্ক-

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ইমন ওরফে সালমান শাহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

বাদী পক্ষের এক আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেব্রবত বিশ্বাস এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ২০ আগস্ট মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ মামলার অভিযোগ প্রমাণের স্বার্থে চিকিৎসক ও ডোমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া দুইজন হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৎকালীন চিকিৎসক হায়দার আলী প্লাবো ও ডোম রমেশ চন্দ্র।

সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী আদালতে হাজির ছিলেন। তিনি সালমান শাহের ভক্তদের নিয়ে দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকা সিএমএম আদালতের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর আলোচিত এ মামলা তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম তদন্ত শুরু করেন। তিনি তদন্ত শুরুর পর দশ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও একজন সাক্ষীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করিয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদ করা সাক্ষীরা হলেন, প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের মা নিলুফা চৌধুরি ওরফে নীলা চৌধুরী, ঘটনার সময়ের সাক্ষী হুমায়ুন কবির, আ. সালাম, দেলোয়ার হোসেন শিকদার, আ. খালেক হাওলাদার, বাদল খন্দকার (চলচিত্র পরিচালক), শাহ আলম কিরণ (চলচিত্র পরিচালক), মুশফিকুর রহমান গুলজার, এস এম আলোক সিকদার ও হারুন অর রশিদ।

নারাজির আসামি রুবির ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেছেন। ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর সালমান শাহের মামা অ্যামেরিকা প্রবাসী আলমগীর কুমকুম জবানবন্দি সাক্ষী হিসেবে আদালত কর্তৃক রেকর্ড করিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পিবিআই তদন্তাধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় থাকা এ মামলার নারাজীর আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবি গত ৭ আগস্ট ফেইসবুকে এক ভিডিওবার্তায় সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে কথা বলেন, যা ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওবাত্যায় রুবি বলেছেন,সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই। সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের ১১/বি নিউস্কাটন রোর্ডের স্কাটন প্লাজার বাসান নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামেলি পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিংসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে।

এর আগে মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের ওপর নারাজীর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিএমএম আদালত র‌্যাবকে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ রিভিশন করলে র‌্যাবকে দেওয়া তদন্তের আদেশ বেআইনী ঘোষণা করা হয়।

শালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী নারাজীতে মাফিয়া ডন মাফিয়া ডন আজিজ মোহাম্মাদ ভাইসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অপর ১০ জন হলেন, সালমানশাহের স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, এফ ডিসির সহকারী নিত্য পরিচালক নজরুল শেখ নজরুল শেখ, ডেভিড, আশরাফুল হক ডন, রাবেয়া সুলতানা রুবি, মোস্তাক ওয়াইদ, আবুল হোসেন খান ও গৃহপরিচারিকা মনোয়ারা বেগম।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *