মঙ্গলবার, জুন ১৯

সৌদি প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ দুতাবাসের সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি সিএন নিউজ২৪.কমঃ-

চলতি সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসি কে দাম্মাম ডিপোর্টেশন সেন্টার এর মাধ্যমে দেশে পাঠানো হয়েছে।

বেশিরভাগ ই “হুরুব” অথবা শ্রম আইন লংঘনকরণ মামলা। ১৫ই নভেম্বর ২০১৭ ইং থেকে চালু হওয়া অভিযানের প্রথম দিকে অনেক বাংলাদেশী আটক হলেও যাদের বৈধ ইকামা ছিল ছেড়ে দেয়া হত। কিন্তু গত সপ্তাহ হতে “ফ্রি ভিসা” এর লোকজন যে সকল এলাকায় সাধারণত বেশি থাকে ঐ সকল এলাকায় লেবার মিনিষ্ট্রির সদস্যগণ সহ পুলিশ অনেককে এরেস্ট করছে।

ফ্রি ভিসায় কাজ করে বলে মামলা দিয়েছে। যাদের স্পন্সর তাদের আটক হওয়া কর্মিদের বিষয়ে ডিপোর্টেশন সেন্টারে সাথে সাথে যোগাযোগ করেনি তাদেরকে একজিট ভিসা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনেকেই আছেন বিভিন্ন বাংলা হোটেলে ভিতরে বাইরে আড্ডা দেয়ার সময়, আবার অনেকে অবৈধ সব্জি দোকানের সামনে আড্ডা দেয়ার সময় আটক হয়েছেন।

আমাদের সিএন নিউজ প্রতিনিধি জানান,
-একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত আজনুবি অধ্যুষিত এলাকায় আড্ডা দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

-একই রুমে বিভিন্ন স্পন্সরের লোক থাকা থেকে বিরত থাকুন।

-রুমে অবৈধ কাউকে রাখা থেকে বিরত থাকুন।

-যারা প্রাইভেট গাড়ী দিয়ে ভাড়ার ট্রিপ দেন সতর্ক হোন।

-গাড়ী ড্রাইভারগণ সৌদি নাগরিকদের সাথে সৌদি আরবের চলমান বিষয় নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকুন।

-যাদের ইকামাতে ড্রাইভার ব্যতীত অন্য পেশা উল্লেখ আছে, তারা নিজ মালিকানাধীন গাড়ী ছাড়া অন্য গাড়ী চালাতে সতর্কতা অবলম্বন করুন (মুরুর এখন রুখসা ইস্তেমারা নয় বরং ইস্তেমারা আর ইকামা দেখে)।

– যারা কিস্তিতে গাড়ী নেয়ার চিন্তা করতেছেন, তারা কিস্তিতে গাড়ী নেয়ার আগে ২/৩বার ভাবুন। ইদানীং কিস্তি গাড়ীর কিস্তির টাকা ২/৪ দিন দিতে বিলম্ব হলেই কোর্টে মামলা হচ্ছে। যারা নিয়ে ফেলেছেন দ্রুত নিষ্পত্তি করুন অথবা অন্য কারো নামে ট্রান্সফার করুন।

-একজনের নামে রেন্ট এ কার গাড়ী ভাড়া নিয়ে অন্যজন চালানো থেকে বিরত থাকুন।

-কেউ আপনার কাছে টাকা জমা রেখে অন্য কাউকে দিতে বললে তা থেকে বিরত থাকুন। (সিআইডি টাকার নম্বর লিখে রেখে এই টাকা কার কাছ থেকে কার কাছে যাচ্ছে ট্র্যাক করছে, পরবর্তিতে সবাইকে আটক করছে, বিষয়টী শুধুমাত্র ড্রাগ সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে ইদানিং ঘটতে দেখা গেছে।)

-নিজের কাছে বড় অংকের অর্থ রাখবেন না। ব্যাংকেও রাখা থেকে বিরত থাকুন। ইদানিং প্রায় সব কোম্পানিতেই ঝামেলা চলছে, কখন কার একাউন্ট ব্লক হয় বলা যায় না। এছাড়া হুরুব সমস্যা ত আছেই।

-যারা এসটিসি/মোবাইলী/জাইন এর নতুন সিম নিতে যাবেন। দোকানে যাওয়ার আগে আপনার হুরুব আছে কিনা চেক করে নেন। হুরুব থাকলে মোবাইল কোম্পানির অফিস থেকে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দিবে।

-যাদের ইতিপূর্বে ট্রাফিক এক্সিডেন্ট এর মামলা ছিল এবং নিজেদের মধ্যে আপোষে তা শেষ করেছিলেন তারা উক্ত মামলার নিষ্পত্তি কোর্টে রেজিষ্টার্ট করুন। দেখা যায় ১০ বছর পরেও অনেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে কোর্ট থেকে রায় নিয়ে ওয়ান্টেড দিয়ে রেখেছে।

-যাদের অতিতে বড় ধরণের ক্রাইম সৌদি আরবে আছে, কিন্তু সে সময় ওয়াসেতা ধরে ধামাচাপা দিয়েছিলেন, তারা বিষয়টি ভুললে চলবে না, ইদানিং পুরাতন মামলা নতুন করে জেগে উঠছে।

-ফ্রি ভিসার লোকজন কোথাও স্থায়ী ভাবে কাজ করার জন্য ট্রান্সফার হয়ে যান।
-যারা কোম্পানি মারফত কোম্পানির অনুমতিতে অন্য কোম্পানিতে কাজ করছেন তারা অবশ্যই “আজির” সার্টিফিকেট নিয়ে সাথে রাখেন।

এসব সমসাময়িক অবস্থার আলোকে আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ। আমার জানার মধ্যে ভুল থাকতে পারে, ভুল হলে ভুলটা এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ থাকল।

তথ্যসূত্রঃ দূতাবাস কর্মকর্তা জনাবঃ ফায়সাল আহমেদ।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *