রবিবার, মে ২৭

স্কুলের খেলার মাঠে প্রধানশিক্ষকের মৎস্য প্রীতি

সিএন নিউজ২৪ বরিশাল প্রতিনিধিঃ-

নগরী সংলগ্ন পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিশাল খেলার মাঠে কৌশলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে মাছ চাষ করে আটশ’ শিক্ষার্থীর খেলাধুলা, শরীর চর্চা ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত করছেন প্রধানশিক্ষক। বিদ্যালগুলোতে ক্লাস শুরুর পূর্বে শারীরিক শিক্ষা (পিটি) করানো বাধ্যতামূলক থাকলেও এ বিদ্যালয়টিতে সবকিছু থাকাসত্বেও প্রধানশিক্ষকের খামখেয়ালিপনায় তা সম্ভব হচ্ছেনা।

বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় দেড় একরের বিশাল মাঠ থাকলেও সেখানে খেলাধুলা পরিবর্তে মাছ চাষ করা হচ্ছে। প্রধানশিক্ষক নিয়ম করে সকাল বিকেল ওই মাছের খাবার নিজেই দিয়ে থাকেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, শত শত শিক্ষার্থীর স্কুল সময়ে মুক্ত আবহাওয়া প্রাপ্তি, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, ক্রীড়া-বিনোদনের জন্য বিশাল মাঠ থাকলেও তা পানিতে ভরপুর। মাঠের পানি নিস্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা থাকলেও তাতে বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে। মাঠের মধ্যে হাঁটু সমান পানিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। পুরো মাঠটি এখন পানিতে টইটম্বুর।

মাঠের দুইদিকে দুইটি পুকুর। স্কুল মাঠের মাছ যাতে করে বেরিয়ে যেতে না পারে সেজন্য বাঁধ এবং বাঁধের ওপর দিয়ে নেটের জাল স্থাপন করা হয়েছে। মাছের খাদ্য ব্যবহার করে পানি নষ্ট ও পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। মাঝে মধ্যে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের অনুষ্ঠান দায়সারাভাবে বিদ্যালয়ের বারান্দাতে কোনো রকম সেরে নেয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দুই-চারদিন বৃষ্টি না থাকলে মাছ চাষ অব্যাহত রাখতে পার্শ্ববর্তী পুকুর ও খাল থেকে সেচের মাধ্যমে স্কুল মাঠে পানি উত্তোলন করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা বিগতদিনে মাঠে খেলাধুলা করলেও এবার আর তা পারছেন না।

জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যালয় মাঠে মাছ চাষের বিষয়টি তার জানা নেই। প্রধানশিক্ষক ফরিদ উদ্দিন জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির সাথে পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে দেশিয় কৈ মাছ বিদ্যালয়ের মাঠে উঠে আসে। এরপর ওই মাছে ডিম ছাড়লে তা রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি নিজেই এ কাজটি করছেন।

বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান দুলাল জানান, গত দুই মাস পূর্বে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেন, মাঠটিতে হাজার হাজার কৈ মাছের পোনা বড় হচ্ছে। বিদ্যালয় কমিটি এগুলো খাবারের জন্য রাখেনি বরং মাছগুলো বড় হলে বিক্রিকরে সেই টাকা বিদ্যালয়ের কাজেই খরচ করা হবে।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *