সোমবার, মে ২১

স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া হত্যা নিয়ে চাঞ্চল্যতা বিরাজ করছে নগরীতে-

সাব্বির আহমেদ সোহাগ-

চট্টগ্রাম নগরীতে স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া হত্যা নিয়ে দিনভর চাঞ্চল্য চলছে। সী বিচে তাসফিয়ার মৃত দেহের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বুধবার সকালে পতেঙ্গা থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় তাসফিয়ার প্রেমিক আদনানকে।
তবে আদনানের গ্রেফতার বিষয়ে পতেঙ্গা থানা পুলিশ স্পষ্ট কোন বক্তব্য দেয়নি।
জানা যায়, নিহত তাসফিয়া আমিন (১৫) ও আর নিজাম রোডের ৩ নম্বর সড়কের ৩৮ নম্বর কে আর এস বিল্ডিংয়ের মোহাম্মদ আমিনের মেয়ে। তার মায়ের নাম নাইমা খাতুন। চার সন্তানের মধ্যে তাসফিয়া সবার বড়। সে সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সদরের ডেইল পাড়ায়।

অন্যদিকে আদনান মির্জার (১৭) গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া পদুয়া এলাকায়। তার বাসা দক্ষিণ খুলশী এলাকায় বলে জানা যায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, এক মাসে আগে ফেসবুকে তাসফিয়ার সাথে আদনানের পরিচয়। এরপর ফেসবুকে এসএমএস আদান-প্রদান। কিছুদিন চলছিল এভাবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া বাসা থেকে বের হয় প্রেমিক আদনানের সাথে।

এরপর দু’জন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে একত্রিত হয় নগরীর গোলপাহাড় মোড়স্থ চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট। সেখানে ৮ নং সিটে বসে আইসক্রিম ও কেক অর্ডার দিলেও তা না খেয়ে তারা ৬ টা ৩৭ মিনিটে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যায়।

এদিকে পুলিশের ধারণা, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে হয়তো তারা পতেঙ্গা সী বিচে বেড়াতে যায়। ওখানেই দু’জনের মধ্যে কোন ঘটনা ঘটতে পারে। এমনও হতে পারে তাসফিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করতে পারে আদনান। এসময় হয়তো ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে পাথরের আঘাতে মৃত্যু হতে পারে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাসফিয়া হত্যাকান্ড নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রেমিক আদনানের লালসার শিকার হয়ে অবশেষে প্রাণ হারান কোমলমতি স্কুল ছাত্রী তাসফিয়া-এমনও মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

তবে পুলিশ বুধবার বিকেলে ঘাতক আদনানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বলে জানান। এ ব্যাপারে জানতে সিভয়েসের পক্ষ থেকে পতেঙ্গা থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে শুধুমাত্র আদনান গ্রেফতার হয়েছে জানিয়ে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পুলিশ।

তাসফিয়ার চাচা নুরুল আমিন জানান, আদনানের সঙ্গে ১ মে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বাসা থেকে বের হয় তাসফিয়া। আদনানের সাথে ফেসবুকে পরিচয় হলেও আদনান সান শাইন স্কুলেই পড়াশোনা করতো। কিন্তু আদনান বর্তমানে বাংলাদেশ ইলিম্যানটারি স্কুলে পড়াশোনা করে। বড় লোকের ছেলে আদনান প্রায় সময় তাসফিয়ার বাড়ির সামনে এসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বান্ধবীর বাড়িতে যাবে বলে আদনানের সাথে বের হন তাসফিয়া।
রাতে বাড়ি না ফিরলে এদিক-ওদিক খোঁজাখুজির পর না পেয়ে খুলশী থানা পুলিশকে জানান তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন। পরদিন সকালে জানা যায় পতেঙ্গা সী বিচে তাসফিয়ার লাশ পাওয়া গেছে। পতেঙ্গা থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিকেলে পতেঙ্গা থানা পুলিশ এক তরুণীর মরদেহ চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসে। ওই তরুণীর পরনে খয়েরি রঙের সালোয়ার কামিজ ছিল। তার শরীরে কোথাও তেমন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে মুখে হালকা দাগ রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে বিস্তারিত জানতে পারবো।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, সৈকতের ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশ থেকে তাসফিয়া নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আদনানকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *