শুক্রবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২০
Home / সম্পাদকীয় / অবক্ষয় সর্বত্র

অবক্ষয় সর্বত্র

অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি করেছি। ছিলাম মিছিলের অগ্রসারিতে। স্লোগান দিতাম, স্লোগান ধরতাম। দেশের বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বও পালন করেছি। তখন আমরা মিছিল করতাম মূলত: ছাত্র সমাজের ন্যায্য অধিকার আদায়ে। এখন ছাত্র সংগঠনের নেতারা ব্যস্ত টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, তেলবাজি এবং ভর্তি বাণিজ্যে। সাধারণ ছাত্র সমাজের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তারা স্লোগান মুখর না। তবে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলো এখনও ছাত্র সমাজের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কথা বলে ।

২০০৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সন্দ্বীপে একটি মহিলা কলেজে অধ্যাপনা করেছি। ছিলাম প্রশাসনিক দায়িত্বেও। প্রতিদিন পড়ে এবং যথাসময়ে ক্লাসে যেতাম। ৪৫ মিনিট একটানা ক্লাস নিতাম। কখন যে সময় শেষ হয়ে যেত টেরই পেতাম না। ছাত্রীদের সাথে সম্পর্ক ছিল সন্তানের। তাদের শাসন-স্নেহের পাশাপাশি সুখ-দুঃখের খোঁজ রাখতাম। এখন শিক্ষকদের কেউ কেউ ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে যুক্ত বলে অভিযোগ আছে। আমরা বোর্ড পরীক্ষার তিন মাস পূর্বে টিম করে রাত ৮টার পরে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যেতাম। কলেজের ফলাফলও তুলনামূলক ভাল হত। এখন শিক্ষকদের একটা অংশ টিউশন/কোচিং বাণিজ্যে ব্যস্ত এবং কোন কোন শিক্ষক প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ আছে।

২০০৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক আজাদী/দৈনিক সমাচার/দৈনিক আমার দেশ/দি গাডিয়ান পত্রিকার সন্দ্বীপ সংবাদদাতা ছিলাম। কিন্তু কখনো মোটর সাইকেলের সামনে বা পেছনে ‘Press’ শব্দটি ব্যবহার করিনি। মানুষ সাংবাদিক সম্বোধন করলেও না শুনার ভানে থাকতাম। ‘সংবাদ সম্মেলন’ পরবর্তীতে অন্য দশ জনের মত আমিও খাম রিসিভ করেছি। এর বাইরে কখনো সংবাদ বিষয়ে খাম রিসিভ করিনি। এখন যত্রতত্র ‘Press’ শব্দটি ব্যবহার হচ্ছে দেখে ভীষন লজ্জা পাই। মাঝে মাঝে মনে হয় ‘Press’ শব্দটিকে বড় বেশি অবমাননা করা হচ্ছে। আমার সহপাঠি, অগ্রজ-অনুজ সাংবাদিক যারা এর সাথে যুক্ত তাদের ঘৃণা এবং ধিক্কার। এখন সাংবাদিক থেকেও সম্পাদক বেশি। যারা সম্পাদক তাদের বড় অংশের নেই নিউজ লেখার যোগ্যতা, নেই পড়া-লেখা, নেই অভিজ্ঞতা, নেই সংবাদ সংগ্রহে পারদর্শিতা, নেই সামাজিক স্বীকৃতি। প্রতিষ্ঠিত কোন প্রিন্ট কাগজে/ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় কাজ না করেও সাপ্তাহিক/পাক্ষিক/মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। উপজেলায় থাকেন না, অথচ উপজেলা প্রতিনিধি। কী আজব ব্যাপার। কিন্তু এটাই বাস্তবতা।

অ্যাডভোকেট লায়ন আলহাজ মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ। অগ্রজ সহোদর। ১৯৮৮ সালের ৫ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম জজ কোর্টে আইন পেশায় আছেন। উনার সুবাধে ১৯৯০ সাল থেকে চট্টগ্রাম জজ কোর্টে আমার যাতায়াত। তখন কোর্টে সিনিয়রদের দেখলে জুনিয়র আইনজীবিগণ এমন ভানে থাকতেন যেন শ্বশুর বাড়িতে প্রথম দিন জামাই এসেছেন। তখন জুনিয়র আইনজীবিগণ দেখা হলেই সিনিয়র আইনজীবিগণকে স্যার সম্বোধন করে সালাম দিতেন। এখন কোথায় উড়ে গেল সেই সব মানন চিনন?

সময় এসেছে নিয়মনীতি মেনে চলার। সময় এসেছে আইন আমলে নেওয়ার। সময় এসেছে পারিবারিক-সামাজিক মেলবন্ধন সুদৃঢ় করার। সময় এসেছে দেশের টাকা বিদেশে পাচার বন্ধ করার। সময় এসেছে দূর্নীতি বন্ধ করার। সময় এসেছে অবক্ষয়ের লাগাম টেনে ধরার।

প্রিয় পাঠক, আরো ভালো থাকবেন এবং দোয়া রাখবেন।

লেখক,

সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার সম্পাদক।

তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার।

এছাড়াও চেক করুন

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় নয়, চাই শিক্ষার মান উন্নয়ন

মাহমুদুল হাসান কবীর বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। গত ২৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

Share the love!