প্রচ্ছদ / শিক্ষাঙ্গন / দুর্নীতি,উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ

দুর্নীতি,উন্নয়নের অন্তরায় ও উত্তরণের পথ

জান্নাতুল ফেরদৌসঃ

দুর্নীতি বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষতিকর সামাজিক ব্যাধিগুলোর অন্যতম।প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি।দুর্নীতি আমাদের প্রাত্যহিকতার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সামাজিক জীবনে প্রতিদিনই আমরা কোন না কোন দুর্নীতির খবর শুনছি,জানছি এবং পড়ছি।আমাদের দেশের এমন কোন পর্যায় নেই যেখানে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েনি।বিভিন্ন প্রাপ্ত উৎস হিসাবে দেখা যায়, দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে কয়েকটি খাতে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে।বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবা খাতে দুর্নীতির দরুন বছরে প্রায় ৮-১০ হাজার কোটি টাকা জাতীয় আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

দুর্নীতি কেন হয় বা দুর্নীতির কারণ হিসেবে বেশ কিছু প্রভাবক কাজ করে।ব্যক্তিগত কারণের পাশাপাশি পদ্ধতিগত নানা কারণে এর বিস্তার ঘটে।যেমন:
১/জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকারিতা যেমন: জাতীয় সংসদ,বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন,গণমাধ্যম,সুশীল সমাজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলেই দেশে দুর্নীতির মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

২/ বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রশাসনে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষনীয়।রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দুর্নীতিগ্রস্ত এবং জনপ্রশাসনে এর যথেষ্ট প্রভাব থাকার কারণেই আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।

৩/ প্রশাসনের স্বচ্ছতা সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে না থাকাও দুর্নীতি বিস্তারের অন্যতম কারণ।

৪/নির্দিষ্ট দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ব্যাক্তিদের দায়িত্ব পালনে অনিহা,অপারগতাও দুর্নীতির প্রধান কারণ।

৫/বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত এবং রাষ্ট্রীয় তথ্যে সাধারণ জনগনের অধিকার না থাকার কারণে দুর্নীতির সুযোগ বেড়ে যায়।

৬/ক্রমবর্ধমান ভোগবাদি প্রবণতা ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়,আয় ব্যায়ের অসামঞ্জস্যতা,দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি নানা কারণেও দুর্নীতি সংঘটিত হয়।

রাষ্ট্রীয় সুযোগ- সুবিধা নিজের স্বার্থে ব্যবহার,সরকারি ক্রয়ে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্নসাৎ, ঘুষ ও কমিশনের বিনিময়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ব্যবসায় সুযোগ করে দেয়া,সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করে অর্থ উপার্জন,বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যেমন:পাসপোর্ট,পুলিশ,বিদ্যুৎ, গ্যাস,টেলিফোন ইত্যাদি ও অন্যান্য খাতে ঘুষের লেনদেন,অতিরিক্ত মুনাফা আদায়,সরকারী বরাদ্দকৃত অর্থ আত্নসাৎ, খাদ্যে ভেজাল এবং বিভিন্ন সরকারি কাজে দালাল ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে।

বিশ্বের সব দেশেই কম বেশি দুর্নীতি আছে।পুরোপুরি এর নির্মূল সম্ভব না হলেও সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব।উন্নয়নশীল দেশে রাষ্ট্রের একার পক্ষে তা কমানো অসম্ভব।সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্নীতি রোধ করা যেতে পারে।রাজনৈতিক সদিচ্ছা,কার্যকর সংসদ,স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, সক্রিয় দুর্নীতি দমন কমিশন,সুষম বেতন কাঠামো ও পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা,কার্যকর গণমাধ্যম,দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন ইত্যাদির মাধ্যমে দুর্নীতি দমন করা যেতে পারে।

দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিকারের জন্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি সাধারণ জনগন বিশেষ করে যুবসমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬ দফা,১১ দফা হয়ে ৬৯ এর গনঅভুত্থান সকল পর্যায়ে যুবসমাজ যে সক্রিয়তা দেখিয়েছে তা এখনো দেখাতে হবে।দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধই পারে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে।

এছাড়াও চেক করুন

নড়াইলে আড়াই’শত কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান

নড়াইল সংবাদদাতা : নড়াইল জেলা হতে ২০২০-২১ সেশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত …