প্রচ্ছদ / প্রচ্ছদ / পাওয়া না-পাওয়া প্রবাসের ১বছর

পাওয়া না-পাওয়া প্রবাসের ১বছর

স্বপ্ন পূরণের লক্ষে ৩১-০১-২০২০ইং তারিখে মাতৃভূমি-স্বজনদের মায়া ত্যাগকরে ওমানে আশি,

প্রথমে বলতে হয় ৩ভাই ১বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট’ তাই সবার আদরের ছিলাম, কষ্টের মুখামুখি হতে হয়নি কখনো, মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মতই সব পেয়ে যেতাম,

প্রবাসী নাম’টা ফ্যামিলিতে অনেক আগে থেকে পরিচিত হলেও উপলব্ধি করতে পারিনি কখনো, বাবার ২১বছরের প্রবাস জীবন, ভাইদের ৯-১০বছরের, বোনেরও বিয়ে হয়ে যায়, বাড়িতে শুধু আমি টাকা খরচ করার মত, নিজের ইচ্ছেতেই চলতো জীবন, কারন বাবা, ভাইয়া’রা প্রবাসী,মধ্যকার কথা গুলো নাইবা বলি”

আমারও ইচ্ছে হয় প্রবাসে যাওয়ার, বাবার ২১বছরের প্রবাসে থাকা স্বপ্নকে আরো বড় করা ও ভাইদের সাথে অংশগ্রহণ করার, মেজু ভাই ওমান থেকে ভিসা পাঠায়,তড়িঘড়ি করে যাত্রা শুরু,

বাংলাদেশ থেকে সব প্রসেসিং শেষ করে বিমানে উঠলাম, রাত ৩টার সময় মেজু-ভাই এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে রিসিভ করে উনার রুমে নিয়ে আসে, সকাল ভেলা ঘুম থেকে উঠে ভাই’কে না দেখে কল দিলাম কল দরে ভাইয়া বলে উনি ডিউটিতে, অবাক হোলাম ৪টার সময় ঘুমিয়ে আবার ৬টার সময় ডিউটিতে গেলো কেন! পরে শুনি চাকুরী বাছানোর জন্য, কারন এটা বাবার হোটেল নয়!

কয়দিন যায়গটা ঘুরে দেখলাম, যত দেখি ততোই অবাক হই! মানুষের কষ্ট দেখে, কেউ বৃদ্ধ বয়স নিয়ে কেউবা অসুস্থতা নিয়ে ছুটে চলছে কাজের সন্ধানে,

কয়দিন পরে আমিও কাজে জয়েন করি, ২দিন পর কাজ ছেড়ে চলে আসি, মনে হচ্ছিলো আমাকে দিয়ে হবেনা! না মানুষিকতা চেঞ্জ করে ২দিন পরে আবারো বাস্তবতার সাথে সাক্ষাৎ করি, মানে কাজে জয়েন করি, এভাবেই চলছে,

রাতে ঘুমালে দিনের ১২টায় উঠতাম, এখন অবশ্যই সময় মোতাবেকে উঠতে হয়,এখানে সময়ের মূল্য আছে,
সময়টা কত মূল্যবান সেটা একজন প্রবাসী বুঝে,

চলার পথে বাবার বয়সী একজনকে দেখলাম আরবানাতে তাবুক নিয়ে যাচ্ছে, বেচারা গাড়িটা ঠেলতে ভিশন কষ্ট হচ্ছিলো, কাছে গিয়ে একটু সহযোগিতা করলাম, প্রশ্ন ছিলো চাচা এই বয়েসে এসব কাজ কেন করছেন? উত্তরে বলে এই কাজে টাকা বেশি পাওয়া যায়, ছেলে মেয়েরা বায়না করেছে পাশের বাড়ির কাকাদের মত একটা বিল্ডিং করতে হবে! একট হাসি দিয়ে বলে উঠলো, করবেনা কেন বাবা যে প্রবাসী,

এখন আমিও সবার মতো নিজের কাজে বেস্তো, আমার ছুটে চলাও অন্যদের মতো, ভাইয়ার সাথে একি রুমে থাকলেও ভাইয়ার সাথে দেখা হয়না, তাই ভাইয়ার কর্মস্থলের দিকে হাটা দোরলাম,

চলার পথে অনেকের সাথেই দেখা, একজনকে দেখলাম অনেক অসুস্থ শরির নিয়েও কাজ করছে, বললাম অসুস্থ শরিল নিয়ে কাজে আসলেন কেন? নিজের শরিলের দিকে একটু খেয়াল করেন, উনি বলে ফ্যামিলির সদস্যদের শরিল ঠিক রাখতে হবে, আমার গঠনের কথা ছিন্তা করলে ফ্যামিলির গঠন ঠিক থাকবেনা, আহা কি মলিন কন্ঠে কথাগুলো বলছেন,
ভাই প্রবাসীরা অসুস্থ হতে নেই, প্রবাসীরা ক্লান্ত হতে নেই,প্রবাসীরা প্রিয় মানুষদের মিস করা মানায় না, বুকে পাথর বেদে লড়াই করার নাম প্রবাস, আপনি নতুন আসছেন তাই এগুলা দেখে অবাক হচ্ছেন, অন্যদের কাছে এগুলা কমন,

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবের সময় প্রবাসে আসা, খুব কাছ থেকে দেখেছি চাকুরী হারানো মানুষের কষ্ট, করোনার কারনে অনেকের কাজ চলে যায় কিন্তু বাড়ির কথা ছিন্তা করে মানুষ যেন পাগলের মত হয়ে গেছে,যেই কাজ পাচ্ছে সেটাই করছে,,

প্রবাসীদের কাছে জুন-জুলাই মাস’টা খুবি কষ্টের ৫৩-৫৪ ডিগ্রী রোদের তাপ, আহ এই যেন জলন্ত অগ্নি শিখা, খুব কাছ থেকে দেখেছি মরভূমিতে গরমে একটু পানির জন্য মানুষের আকুতি, দেখেছি ৫৩ডিগ্রী রোদ থেকে বাছতে ব্লুমলোট(বাহন)এর নিছে আশ্রয় নেওয়া একটি মানুষের করুন মৃত্যু, দেখেছি কাজ না-পেয়ে ফ্যামিলির চাহিদা না-মিটাতে পাড়া’ বাবার থাপ্পড় খাওয়া ছেলের আত্যহত্যা, দেখেছি স্বজন হারিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে ১২-১৪ ঘন্টা ডিউটি শেষ করা, দেখেছি ঈদের দিনেও প্রতিদিনের মতো ছুটে চলা, দেখেছি জ্বরে কাফতে থাকা ব্যক্তিটির ১৪ঘন্টা ডিউটি, দেখেছি ডিগ্রী প্রাপ্ত ছেলেটি পোর’ম্যান নামক ব্যক্তির কাছে বারবার অপমানিত হওয়া, দেখেছি মাসের পর মাস কাজ করেও টাকা না’পাওয়া শ্রমিকের আর্তনাদ সাথে পরিবারকে বুঝাতে না’পারা নিজের পরিস্থিতি, দেখেছি লেখতে না-পারা অনেক কষ্টের করুণ কাহিনী,

এতোশত কষ্টের মাঝেও প্রবাসীরা হাসে, যখন প্রিয় মানুষদের মুখে হাসি আনতে পারে,

প্রবাস কষ্টের- এরচেয়ে বেসি কষ্ট স্বজনদের ছেড়ে থাকা, প্রবাসীদের কষ্ট বলে বা লেখে বুঝানোর মত না, সেটা উপলব্ধি করতে পারে আরেকজন প্রবাসী, আমার মতো এখন অনেকেই বুঝে প্রবাস থেকে বাবা-ভাইদের মোটা অংকের টাকা কি ভাবে দেশে আসতো,
তবে আরো আগেই বুঝা উচিৎ ছিলো, উচিৎ ছিলো উপলব্ধি করার, বুঝলে সার্থক হতো বাবা/ভাইদের হাড় বাঙা পরিশ্রম, যারা এখনো মাস শেষ না’হতেই বাবা/ভাইদের কাছে অযথা আবদার রাখেন তাদেরও উপলব্ধি করা দরকার, এসব ফালতু আবদারের অর্থ যোগান না’দিতে পেরে টেনশনে স্ট্রোক করে মারা যায় অনেক প্রবাসী,

এখন বুঝতে পারি বাবার ২১বছরের হাড় বাঙা পরিশ্রম, বুঝতে পাড়ি বড় ভাইয়ের ৯-১০বছরের কষ্ট, বুঝতে পারছি ও নিজের চোখে দেখেছি ৯-১০ বছর ধরে মেজু ভাইয়ের ঘামে ভেজা শরিল,বুঝতে পারি বন্ধুদের প্রবাসে না যাওয়ার পরামর্শ,

হা আমিও এখন বুঝি, আমার মতো অনেকেই বুঝে প্রবাসীদের কষ্ট, কারন এখন আমিও যে প্রবাসী,
প্রবাসে যদি কারো ছায়া থাকে চলার-পথে কষ্ট অনেক কম হয়, যা আমি পাচ্ছি,
আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো আছি, অনেকের চেয়ে শত গুন,

পরিশেষে আমার বাবা-ভাই সহ’ সকল প্রবাসীদের প্রতি সন্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভ কামনা, আল্লাহ সকল প্রবাসীদের ভালো রাখুক, হেফাজতে রাখুক, আমিন।

#বিঃদ্রঃ ছবি’টি ফেইসবুক থেকে নেওয়া,
লেখার মধ্যে ভুল গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,

গাজী_আশ্রাফ_শিমুল,
ওমান প্রবাসী।

এছাড়াও চেক করুন

শিক্ষকের পরিবারকে নগদ ৭ লাখ টাকার অর্থিক সহায়তা দিলো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বৈশিক করোনা মহামারিতে যখন মানুষের জীবন জীবিকা সীমাহীন ভোগান্তিতে তখনই মৃত দরিদ্র প্রিয় …