প্রচ্ছদ / প্রচ্ছদ / মাদকাসক্তি যুবসমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ

মাদকাসক্তি যুবসমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ

জান্নাতুল ফেরদৌসঃ
বর্তমানে আমাদের সমাজজীবনে চরম অবক্ষয়ের চিত্র জীবন্ত হয়ে আছে।যুবসমাজকে যা প্রভাবিত করছে সবচেয়ে বেশি।নানা কারণে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে।তবে বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার লোক ও যুবসমাজের মতামতের উপর ভিত্তি করেই জানা যায় মাদকাসক্তিই এর অন্যতম কারণ।
সমাজে ব্যাধিরুপে বিস্তার করা এ সর্বানাশা ব্যাধি আজকের নয়।দুরারোগ্য ব্যাধির মতো এ যেন গোটা সমাজকে গ্রাস করে রেখেছে।যার ভয়াবহ পরিণতিতে বিচলিত প্রশাসন,আতংকিত অভিভাবক, দিশেহারা চিকিৎসকেরা।তরুন যুবসমাজই
জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা হলেও মাদকের কবলে পড়ে আজ তারাই জাতির জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছে।গ্রাম থেকে শহরে এহেন কোন জায়গা নেই যার ভয়ানক কালো থাবা এখনো ছড়িয়ে পড়েনি।

মাদকাসক্তি বলতে মদ,গাজা,আফিম,হিরোইন,ইয়াবা,কোকেইন,মরফিন,মারিজুয়ানা,ঘুমের ওষুধ প্যাথেড্রিন,ফেনসিডিল ইত্যাদি নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা বুঝায়।

মাদকাসক্তি যে যুব সমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ সে সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যাবলি রয়েছে।
২০০৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত এক জরিপে জানা গিয়েছিল,বাংলাদেশের মাদকসেবীর সংখ্যা এখন ৫০ লাখের বেশি।যাদের মধ্যে অধিকাংশেরই বয়স ২১-৩৫ বছরের মধ্যে।বর্তমান সময়ে এসে যার মাত্রা বহুগুন ছাড়িয়ে গেছে।অপরদিকে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশে মাদকাসক্তির মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ এবং ১৬ ভাগ নারী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের বিভিন্ন বিশিষ্ট লোকদের কাছ থেকে জানা যায়, সমাজের এহেন কোন এলাকা নেই যেখানে মাদকসেবী দেখা যায় না।যার মধ্যে প্রায়ই তরুন। এক সংস্থার জরিপ মতে,৮০% মাদকাসক্তের মধ্যে ৪৩% বেকার।কয়েকবছর আগেও যার সংখ্যা অতি নগন্য ছিল তা এখন অগনিত।ভয়ংকর ব্যাপার হলো এখনকার সময়ে মেয়েরাও এর সাথে জড়িয়ে পড়েছে।পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব আর আধুনিকতার নামে প্রকাশ্যে তাদের ধূমপান এবং বিভিন্ন মাদক সেবন করতে দেখা যায়।আবার স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে জানা যায় এদের মধ্যে অনেকেই অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।৫০% মাদকাসক্ত অপরাধের সাথে জড়িত।
পাড়া-প্রতিবেশি,সমাজ -পরিবারের মতামত নিলে জানা যায় চুরি,ডাকাতি,ছিনতাই,চাদাবাজি ইত্যাদি নানা অপকর্মের সাথে তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।মাদকসেবী হয়ে ওঠার পেছনে প্রধান যে বিষয়কে দায়ী করা হয় তা হলো মাদকের সহজলভ্যতা। এছাড়া রয়েছে নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার অভাব,উশৃঙ্খল জীবনযাপন,কৌতুহল,পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব, ধর্মীয় শিক্ষার অভাব ইত্যাদি। মাদকের চোরাচালান থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে মাদক খুব সস্তায় কেনা বেচা হয় যা মাদকের প্রতি নেশা আরও বাড়িয়ে তোলে।বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই থাকে তরুণ বা যুবক।যাদের বয়স ১৫-২৬ এর মধ্যে।
বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণায় বলা হয়েছে,তামাক ব্যবহারের ফলে প্রতিবছর ৫৭,০০০ লোকের মৃত্যু হয় এবং ৩,৮২,০০০ লোক তামাক ব্যবহার করায় পঙ্গু হয়ে বেকার জীবন যাপন করে।একটি গবেষণায় দেখা যায়, মাদকাসক্তের ৮০% ধূমপায়ী এবং এদের মধ্যে ৪৪% নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত।
উল্লেখ্য আমাদের জনসাধারণের শতকরা ৫৫% কোনো না কোনো ধরনের তামাক ব্যবহার করেন।ধূমপায়ীদের একটা বড় অংশ তরুণসমাজ।সিগারেট থেকে নেশা শুরু করলেও যা আস্তে আস্তে মাদকের প্রতি আসক্তি তৈরি করে।কিছুদিন আগেও যারা ফেনসিডিলে আসক্ত ছিল তারা এখম ইয়াবাতে আসক্ত হয়ে গেছে।

১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সমাজকে মাদকমুক্ত করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।নানাবিধ মাদকবিরোধী কর্মকান্ডের মাধ্যমে বেশ সফলতা পেলেও পুরোপুরি মাদক নির্মূল করা এখনো সম্ভব হয় নি।মাদকাসক্তির এ ছোবল থেকে ব্যাক্তিগত উদ্যোগ এর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।প্রয়োজন আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের।কিছু আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আশা করি ভবিষ্যতে তা ভালো সুফল আনবে এবং আমরা মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারব।

এছাড়াও চেক করুন

The Best Way To Choose The Best Photo Editor App

If you’re trying to find an expert looking photo editing program, you then may discover …