প্রচ্ছদ / প্রচ্ছদ / মানবিক সমাজ গঠনে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা

মানবিক সমাজ গঠনে সামাজিক সংগঠনের ভূমিকা

ইউসুফ ভূঁইয়াঃ

যে ব্যক্তি অন্যের কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করে সে প্রকৃত প্রক্ষে নিজের কল্যাণই নিশ্চিত করে। তেমনি সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা পাওয়া যায়। একটি সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ইতিবাচক গুণাবলী তৈরী হয়। মানুষের মধ্যে নেতৃত্ব-গুণ তৈরী হয়। দায়িত্বশীলতা বাড়ে, সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়ে। একজন সামাজিক সংগঠনের কর্মী গান গাওয়া ও কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি কিছু যদি নাও জানে তবুও তিনি একজন সংগঠন না করা মানুষের চেয়ে অনন্য। কারন তিনি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে কাজ করেন, প্রতিটি সামাজিক সংগঠনের মৌলিক বিষয় একই।

সামাজিক সংগঠন সবার মতকে শ্রদ্ধা করা, সদস্য হিসেবে নিজ দায়িত্ব পালন করা, নিজেকে বিকশিত করা, একসঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হওয়া, সহনশীল হওয়া ইত্যাদি শেখায়। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতেও শিক্ষা দেয় সামাজিক সংগঠন। সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সামাজিক সুস্থতা আনা সম্ভব।

কবির ভাষায়, আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাইরে, কর্মী হওয়ার মন্ত্র আমি বায়ুর কাছে পাইরে। সেজন্য নিজ গ্রামের শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে হবে সমাজ সেবামূলক সংগঠন কাজ করার। আমি মনে করি, রাজনীতি যার যার সামাজিক সংগঠন সবার। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এমন সব নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা সমাজের জন্য পাথেয় হিসেবে কাজ করে আসছে। সামাজিক সংগঠন কল্যাণমূলক কাজ করতে আমাদের গ্রামের প্রবাসী ভাইদেরকে উৎসাহিত করতে হবে। পবিত্র কুরআন মাজিদে এরশাদ হচ্ছে “তোমরা কল্যাণমূলক কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হও।
(সুরা বাকারা ১৪৮)
হযরত আলী (রা:) বলেছেন মানুষের দুঃখ দেখে তুমি যদি তার বিপদে এগিয়ে না আস তবে মনে রেখো তুমি ও একদিন বিপদে পড়বে তখন কেউ তোমার কান্না শুনবে না।
আমাদের মহানবী নবুয়ত পাওয়ার আগেই সমাজ সেবার জন্য তরুণদের নিয়ে হিলফুল ফুজুল নামে সেবা সংঘ গঠন করেছিলেন। নবুয়ত পাওয়ার পর ও তিনি সাহাবীদরে নিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে কাজ করেছেন।

হিন্দু ধর্মশাস্ত্র মতে মানুষের মধ্যে রজ: গুন রয়েছে তম: গুন ও রয়েছে। রজ: গুণ হলো সৎকর্ম। সবধর্মই সৎকর্মকে মানুষের সর্বোচ্চ গুণ হিসেবে বিবেচনা করে। সামাজিক সংগঠন যুক্ত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়। মানুষে মানুষে বন্ধুত্বের বিকাশ ঘটানো যায়, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই। সেজন্যই বন্ধুকে চাই।
একটি সামাজিক সংগঠনকে সফল করতে হলে নেতাদের নেতৃত্বগুণ, দক্ষতা, ধৈর্য্য, স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা, সহযোগিতা-পরায়ন, সংগঠনের সিদ্ধান্তের উপর শ্রদ্ধাশীল মনোভাব, সর্বোপরি নৈতিক গুণাবলীর অধিকারী হতে হবে। সংগঠন হলো এক সুতোয় এক এক করে এক একটা ফুল দিয়ে গাঁথা মালার মতো,
আসুন, আমরা নিকটস্থ সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সকল সদস্যরা হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে অসহায় ও কর্মহীন মানুষের জন্য উপহার সামগ্রী’সহ সকল মানবিক কাজে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাই।মানব কল্যানে এগিয়ে আসি, মানবতার জয় হোক। এগিয়ে যাক আমার প্রিয় বাংলাদেশ.

ইউসুফ ভুঁইয়া।
সদস্য.
পাটোয়ার প্রবাসী সমাজকল্যাণ সংস্থা. নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা.

এছাড়াও চেক করুন

শিক্ষকের পরিবারকে নগদ ৭ লাখ টাকার অর্থিক সহায়তা দিলো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বৈশিক করোনা মহামারিতে যখন মানুষের জীবন জীবিকা সীমাহীন ভোগান্তিতে তখনই মৃত দরিদ্র প্রিয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.